হেরিটেজ ইউনিভারসিটি

এম এ জলিল রানা

advertisement

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারটি অবস্থিত। এ অঞ্চল প্লাইয়েস্টোসীন যুগের বরেন্দ্র এলাকার অন্তর্ভুক্ত। সমতল ভূমির দেশে উঁচু ঢিবি অবস্থান স¦ভাবতই কৌতুহলপ্রদ। তাই ১৯ শতকের গোড়ার দিকে তদানীন্তন ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তাদের পরিদর্শনকালে
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার আবিস্কৃত হয়।

তাদের সূত্র ধরেই ভারতীয় প্রতœতাত্ত্বিক জরিপের কর্মকর্তা ও উপ-মহাদেশীয় প্রতœতত্বের পথিকৃত স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে পাহাড়পুর পরিদর্শন করেন। ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দের প্রতœতাত্ত্বিক আইনের আওতায় ইহা ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত হয়। খননে আবিস্কৃত একটি পোড়ামাটির সীলে বৌদ্ধ বিহারটির নাম সোমপুর মহাবিহার এবং পাল সম্রাট ধর্মপাল কর্তৃক এটি নির্মিত হয়েছিল বলে উল্লেখ আছে। প্রায় বারো শত বছর পূর্বে আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এই বৌদ্ধ বিহারে দেশ- বিদেশের শিক্ষক-শিক্ষার্র্থী বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শন ছাড়াও চিকিৎসা বিজ্ঞান, রসায়ন, জৌতির্বিদ্যা, কৃষি, প্রযুক্তি, গণিত প্রভৃতি চর্চা করতো।

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অতীতের এই গৌরব উজ্জ্বল ঐতিহ্যপূর্ণ অসংখ্য প্রতœ নিদর্শনের আবিস্কার ও গবেষণার মাধ্যমে এর ইতিহাস পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এলাকায় (নওগাঁ – ) একটি ঐতিহ্য বিশ্ববিদ্যালয় (ঐবৎরঃধমব টহরাবৎংরঃ)প্রতিষ্ঠা করা উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল তথা এলাকার গণমানুষের দাবি। কারণ পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বহুবিদ প্রতœ সামগ্রীর গবেষণা অসম্পূর্ণ রয়েছে।

এছাড়াও নওগাঁ জেলার ধামইর হাটে জগদল বিহার গবেষণার আরো একটি নতুন ক্ষেত্র। নওগাঁ জেলার হলুদ বিহার, কুসুম্বা মসজিদ, চৌজা মসজিদ, ধীবর পিলার, ভীমের পান্টি, আগ্রাদ্বিগুণ ইত্যাদি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি গবেষণার গুরুত্ব করে। এসব বৌদ্ধ সংস্কৃতি যথাযথ গবেষণা, বিকাশ, সংরক্ষণ এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে বাংলাদেশকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে চীন, জাপান, কোরিয়া ও অন্যান্য বৌদ্ধ ধর্মীয় দেশসমূহ বহির্বিশ্ব অগ্রণী ভুমিকা পালন করতে পারে। গবেষণা কাজে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা আবশ্যক। এর জন্য (১৮) কম্পিউটার বিজ্ঞানের ন্যায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও অধ্যায়নের সুযোগ থাকবে।

advertisement

You might also like

advertisement