প্রযুক্তি প্রজন্ম বনাম ক্ষীণদৃষ্টি

এম.এ.জলিল রানাঃ

advertisement

সভ্যতার উষা লগ্নের পূর্বেও মানুষ কোন কোন ভাবে প্রযুক্তি নির্ভল ছিল। আদিম সভ্যতার যুগে আদিম মানুষের তৈরি পাথরের হাতিয়ারের বহুমার্ত্তিক ব্যবহার প্রযুক্তির আদি উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের প্রতিচ্ছ ছবি। আদিম যুগ থেকে বর্তমান বিশ্বায়নের যুগ, জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধনের ফলে বিশ্ব যেন এখন হাতের মুঠোয়। আদি যুগ বা সেই মানধাত্তার আমল থেকে বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল সময় পার করচ্ছে।

মানুষ সভ্যতার প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে প্রত্যেকটি মানুষ পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় এমনকি আর্ন্তজাতীক ভাবে সামগ্রিক মানুষের কল্যাণে মানুষের প্রয়োজন মিঠাতে সার্বিক ভাবে প্রতি মূহুর্তে যা কিছু ব্যবহার হয়ে আসছে তাই-ই প্রযুক্তি। যেমন একসময় মানুষ আনন্দ বিনোদনের জন্য রেডিও শুনতো, কলের গান বাজাতো। সভ্যতার ক্রমবিকাশে পর্যায়ক্রমে ক্যাসেট, টিভি, ভিসি.আর, সিডি, মানুষের ঘরে ঘরে এখন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

এরপর পড়া-লেখা হিসেব নিকেস জ্ঞান বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তি, জানা অজানা আনন্দ বিনোদন কথা আদান প্রদান ও যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে আসে ফোন, কম্পিউটার ল্যাপটপ, ট্যাব, পেনবুক,সাধারণ থেকে স্মার্ট ফোন ইত্যাদি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আদি পদ্ধতি গাছ পালা, ফুল-ফল, লতা-পাতা, ঝড়িবটি থেকে শুরু করে এ্যালোপ্যাথি, হোমিও, আর্য়ুবেদিকসহ চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যোগ হয়েছে অনেক অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা। পরিবহন ও যাতায়াত যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রথমে পায়ে চলা মেঠো পথ এরপর গরু-মহিষের গাড়ি ঘোড়ার গাড়ী পর্যায় ক্রমে বাইসাইকেল ভ্যান গাড়ী মটর সাইকেল বাস ট্রাকসহ বিভিন্ন মাত্রার প্রাইভেট কার গাড়ী পর্যায়ক্রমের অনেক ধাপ পেরিয়ে যোগ হয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আবিষ্কার রকেট, হেলিকপ্টার, উড়জাহাজ বা বিমান ইইত্যাদি।

এছাড়া ও ভূর্গভস্থ ভূ-মধ্যসাগর, উর্ধ্ব গমণ নদ-নদী, পাহার পর্বত আগ্নীয়গীরি গ্রহ-উপ-গ্রহ নক্ষত্রসহ সারাদুনিয়াতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনেক অজানাকে জানতে সক্ষম হয়েছে বিজ্ঞানীরা (তথ্য প্রযুক্তি) জ্ঞান বিজ্ঞানের গবেষণা ও উৎকর্ষকে কাজে লাগিয়ে যা কিছু আবিষ্কার বা তৈরি হয়ে থাকে তাকেই প্রযুক্তি বলা হয় । আদিম যুগের সেই পাথরের হাতিয়ার থেকে শুরু করে বিভিন্ন আগ্নীঅস্ত্র এবং ক্রমান্বয়ে রকেট, ল্যান্সা স্কার্ডক্ষেপনাস্ত্র ব্যালেষ্টীক বোমা ও পারমাণবিক অস্ত্রসহ নানা অত্যাধুনিক সামরাস্ত্র যোগ হয়েছে প্রতি দেশের রণক্ষেত্র। নদী ও সমুদ্র পথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সাধারণ নৌকা থেকে শুরু করে যোগ হয়েছে লঞ্চ ষ্টীমার ও ফেরী। আর স্থালপথে যুদ্ধের ক্ষেত্রে যোগ হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির রণকৌশলী যুদ্ধ জাহাজ।

ফিরে তাকাই অন্যদিকে বিজ্ঞানের যত আবিষ্কার সবি মানুষে কল্যাণে, কিন্তু এই সব আবিষ্কারের সু-ফল পেতে হলে প্রযুক্তি গুলোকে যদি যথাযথ বা নিয়মাতান্ত্রিক ভাবে ব্যবহার করা না হয় তবে তা হিতে-বিপরীত হয়ে দাঁড়ায় আর এজন্য দীর্ঘ সময় থেকে এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বে মানুষের কল্যাণে যত রকম প্রযুক্তি আবিষ্কার হয়েছে তাঁর সু-ফলের তুলনায় কু-ফল ও কম নয় প্রযুক্তির সম্ভার বিশ্বে হয়তো এনে দিয়েছে সুখ-শান্তির আনন্দ বিনোদন আর সমৃদ্ধির সম্ভার এটা যেমনটি ঠিক তেমনি যতেচ্ছা বা নিয়ম বর্হিভূত ব্যবহারের ফলে অনেক বড় বড় সর্বনাশ ও ডেকে এনেছে। তাতে করে কখন জীবন থেমে গেছে আবার কখন পরিবার নিঃশেষ হয়েছে। অনেক সময় দেশ অপূর্রনীয় ক্ষতির সম্মখীন হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে জাতি হতবাক চোখে চেয়ে দেখেছে আবার কোন কোন সময় বিশ্ব অবাক বিশ্বয়ে স্তম্ভীত হয়েছে। মানব কল্যাণে প্রযুক্তির সু-ফল যেমন ইর্শনীয় বটে তেমনি কু-ফল টায়ও অত্যান্ত বেদনাদায়ক যেমন নৌকা ডুবি, লঞ্চ দুর্ঘনা, জাহাজ ডুবি, সড়ক দূর্ঘনা, বিমান দূর্ঘনা,ট্রেন দূর্ঘনা, গ্যাস সিলিন্ডার বিষ্ফরণ খণি বিষ্ফরণ আগ্নীয়স্ত্রের অপব্যবহার মোবাইল বিষ্ফরণ বৈদ্যুতিক সকসার্কিট ইত্যাদি। সম্প্রতি প্রযুক্তির যে, কু-ফল ভয়াবহ আকারে দেখা দিয়েছে তাহলো মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ফেসবুক, ইন্টারনেট, ইমু, টুইটার, ম্যাসেনজার, টাইমলাইন, হটসআপ ইত্যাদি ব্যবহারে অপব্যবহার বা মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বিশেষ করে শিশু কিশোরদের দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।

এ সব প্রযুক্তি অনিয়মিত ব্যবহারের কারণে শিশু কিশোরদের দৃষ্টিশক্তির প্রখরতা কমে গেছে ফলে তারা দূরের জিনিস ভালোভাবে দেখতে পারছে না। আগে ছিল শুধু টিভি আর এখন টিভির সাথে যুক্ত হয়েছে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ফেসবুক, ইন্টারনেট, ইমু, টুইটার, ম্যাসেনজার, টাইমলাইন, হটসআপ ইত্যাদীতে আসক্তি শিশু কিশোররা। শিশু কিশোরদের দৃষ্টিশক্তি এসব প্রযুক্তি কেড়ে নিচ্ছে। সময় এসেছে প্রজন্মকে বাঁচাবার,এখনি যদি পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ভাবে প্রযুক্তি যথাযথ বয়স আনুপাতিক হারে ব্যবহার বিধি নিশ্চিত করা না হয় তাহলে এ অবস্থা ভয়াবহ থেকে ভয়াবহতর অবস্থায় রুপ নিবে। সম্প্রতি পরিসংখ্যান ৭০ শতাংশ শিশু দুরের জিনিস ভালো দেখতে পায় না। প্রতি ৩০ সেকেন্ডে একজন শিশুর প্রথমবারের মতো ইন্টারনেটের প্রবেশ, এশিয়ায় গত ৪০ বছরে ক্ষীণদৃষ্টিতে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ। এছাড়া আরও একটি বিশেষ তথ্যে জানা গেছে বিশ্বের অর্ধেক জনগোষ্ঠী অর্থাৎ প্রায় ৫০০ কোটি মানুষ আগামী ৩০ বছরের মধ্যে দৃষ্টিক্ষীণতার শিকার হবেন ।

You might also like

advertisement