আফসোসে পুড়ছে বাংলাদেশ

advertisement

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুরন্ত জয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। পরের ম্যাচেই চেপে ধরেছিল নিউজিল্যান্ডকে। কিন্তু স্কোরবোর্ডে পুঁজি কম থাকায় বাংলাদেশের চাপের বাঁধন শক্ত হয়নি। সব চাপ টপকে ২ উইকেটে ম্যাচ জিতে যায় কেন উইলিয়ামসনের দল। ঠিক পরের ম্যাচেই ইংল্যান্ডের কাছে পাত্তা পায়নি বাংলাদেশ।

গত মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের চতুর্থ ম্যাচটি বৃষ্টিতে পণ্ড হয়ে গেছে। যে ম্যাচে মাশরাফি বাহিনীর জয়ের প্রত্যাশা ছিল প্রবল। কারণ লঙ্কানদের দলটাও অতীতের তুলনায় অপেক্ষাকৃত দুর্বল এবার। বৃষ্টির কারণে দুই পয়েন্ট পাওয়া হলো না, খোয়াতে হলো একটি পয়েন্ট। এই পণ্ড হওয়া ম্যাচের পর সেমিফাইনালে যাওয়া সমীকরণটা কঠিন হয়ে গেল বাংলাদেশের জন্য। এখন শেষ পাঁচটি ম্যাচ অনেকটা নকআউট লড়াইয়ের মতোই হয়ে গেছে। সেমিতে খেলার আশা জিইয়ে রাখতে জয়ের রথ ধরে রাখতে হবে টাইগারদের।

ব্রিস্টলে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পরই বাংলাদেশ শিবিরে ছড়িয়েছে নিউজিল্যান্ডকে বাগে পেয়ে হারাতে না পারার আক্ষেপ, আফসোস। গত ৫ জুন ওভালে সাকিব আল হাসান ছাড়া কিউইদের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কেউই। সাকিব ৬৪ রান করেছিলেন। মিডল অর্ডারে মুশফিক-রিয়াদ-মোসাদ্দেকরা ব্যর্থ হলে ২৪৪ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

সেই রান তাড়া করতে নামা নিউজিল্যান্ড ৫৫ রানে দুই উইকেট হারিয়েছিল। তারপরই ব্ল্যাক ক্যাপসদের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে রান আউট করার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেছিলেন উইকেটকিপার মুশফিক। চাপ কাটিয়ে উঠেছিল তারা রস টেইলরের হাফ সেঞ্চুরিতে। তারপরও নিউজিল্যান্ডের জয়টা ছিল মাত্র দুই উইকেটে। তাই ম্যাচ শেষে ২০-৩০ রান কম করার আক্ষেপটা ছিল বাংলাদেশের।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ পণ্ড হওয়ার পর ওই আফসোস নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ দলে। ব্রিস্টলে ম্যাচের পর আক্ষেপভরা কণ্ঠে বিডিনিউজকে মাশরাফি বলেছেন, ‘ইংল্যান্ডে বৃষ্টি যে কোনো সময়ই আসতে পারে। কিছু করার নেই। ওই ম্যাচে জিতে থাকলে আজকে (মঙ্গলবার) এই পয়েন্ট হারানো নিয়ে এত ভাবতে হতো না। সেদিন সুযোগটা আমরাই হারিয়েছি। মঙ্গলবার বৃষ্টি আমাদের খেলার সুযোগই দিল না। সমীকরণ অনেক কঠিন হয়ে গেল।’

শেষ চারের সমীকরণে টিকে থাকতে অবশিষ্ট ম্যাচগুলোর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আফগানিস্তান, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে। পাশাপাশি ভারত, অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে একটি দলকেও হারাতে হবে। তবে হতোদ্যম হতে চান না মাশরাফি। তিনি বলেছেন, ‘প্রতি ম্যাচেই আমরা জয়ের জন্যই নামি। তার মধ্যেও কিছু হিসাব থাকে, কোন ম্যাচে জয়টা বেশি সম্ভব, কোন ম্যাচে কম। হিসাব থেকে একটি ম্যাচ ছুটে গেল, এখন হিসাবের বাইরে থেকে একটি জিততে হবে। লড়াই হবে ইনশাল্লাহ।’

জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেছেন, এখন টার্গেট করার সুযোগ নেই। এখন সব ম্যাচই জিততে হবে। বিডিনিউজকে তিনি বলেছেন, ‘দেখুন আক্ষেপ করলে শুধু সেটা বাড়বেই। কিন্তু সেসবে কোনো লাভ নেই। এবার ফরম্যাট অনেক কঠিন, আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জটা বরাবরই কঠিন ছিল। এখানে আসলে কোন দলকে হারাব, কোন দলের সঙ্গে পারব না, এভাবে টার্গেট করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে এখন থেকে যদি সামনে তাকাই। সব ম্যাচই জিততে হবে, এই মানসিকতায় মাঠে নামতে হবে।’

You might also like

advertisement