ধানের শীষের প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণার মাঠে নামবেন আজ। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা দুপুরে যাবেন সিলেটে। সেখানে হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহপরাণ (র.) এর মাজার এবং মুক্তি বাহিনীর অধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর কবর জিয়ারত শেষে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন।

১৯৯১ সাল থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সিলেটে গিয়ে মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করতেন। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও সেই ধারা অব্যাহত রাখছে। ড. কামালের সাথে থাকবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা আ স ম আবদুর রব, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ।

বেলা ৩ টায় সিলেটের রেজিস্ট্রারি মাঠে সিলেট-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে জনসভা করবেন তারা। অত:পর ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সিলেট-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী শফি আহমেদ চৌধুরী ও সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী দিলদার হোসেন সেলিমের নির্বাচনী এলাকায় পথসভা করবেন। দলের সহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও নিজ নির্বাচনী এলাকায় থাকায় সিলেট যাবেন না। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের পর পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন এলাকা যাবেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। দেশব্যাপী বিভিন্ন জনসভা ও পথসভাতেও অংশ নেবেন তারা। এসব সভায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন নেতিবাচক দিক তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ করা হবে বলে জানা গেছে।

নির্বাচনী প্রচারণার জন্য বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে দুইটি টিম করা হয়েছে। এই টিমের প্রধান করা হয়েছে ড. কামাল হোসেনকে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৫ থেকে ১৮ ডিসেম্বর ঢাকায়, ১৯ ডিসেম্বর কুমিল্লায় পথসভা করবেন।

বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৩ টায় বিজয় শোভাযাত্রা করবে ঐক্যফ্রন্ট। আগামী ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উপযাপন করবে ফ্রন্ট।

গতকাল নয়া পল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে প্রচারণা নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠক হয়। গতকাল বিকালে নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ঘোষণা করা হয়। বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে চেয়ারম্যান এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে সদস্য সচিব হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়।

যেসব নেতারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না তাদের সমন্বয়ে এই কমিটি হবে। অন্যদিকে নির্বাচন পরিচালনায় সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে বেশকিছু উপকমিটি গঠন করা হচ্ছে।

ইসির কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন ৫ প্রার্থী

নির্বাচনকে সামনে রেখে ৫ জন বিএনপির প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন। তারা হলেন: মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, ভোলা-৩ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, নোয়াখালী-১ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বরিশাল-১ আসনে প্রার্থী জহিরউদ্দিন স্বপন ও ঢাকা-২ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি।

তারা নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের কাছে লিখিত আবেদনে প্রচারে সমান সুযোগ ও নিজের নিরাপত্তা চেয়েছেন। এদের মধ্যে মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ ভয়ে নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন।

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে দলীয় প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, আমার বাসার সামনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঘোরাঘুরিতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

গতকাল শাহজাহানপুরে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সোমবার থেকে আমার বাসার সামনে কখনো সাদা পোশাকে লোকজন, আবার কখনো পুলিশের পোশাক পরা লোকজন ঘুরঘুর করছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এমন অবস্থানের কারণে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। শুধু তাই নয়, আমি আতঙ্কিত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি।

সিলেট দিয়ে প্রচার শুরু করছে ঐক্যফ্রন্ট