পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত পাহাড়

 ১৪ জানুয়ারি২০১৮ রবিবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

একদিকে হিম শীতের আমেজ, অন্যদিকে ঘন কুয়াশা। ভোরে সবুজ ঘাসে শিশির, স্নিগ্ধ বাতাসে পাহাড়ি ফুলের দোল। আর সন্ধ্যার আকাশে মেঘের লুকোচুরি। এসব নিয়েই পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত রাঙামাটির পাহাড়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিনই পর্যটক হিসেবে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন অগণিত তরুণ-তরুণী। তাদের আনন্দ উচ্ছ্বাসে রাঙামাটি ভাসছে উত্সবের জোয়ারে। জমছে উপচে পড়া ভিড়। দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, শুধু রাঙামাটিতেই প্রতিদিন আসছেন ৪ থেকে ৫ হাজার পর্যটক। অন্য দুই পার্বত্য অঞ্চলেও একই অবস্থা। এই চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় হোটেল-মোটেল কর্তৃপক্ষ। আবাসিক হোটেলেগুলোতে প্রচণ্ড ভিড়। রয়েছে অগ্রিম বুকিং। এখন কানায় কানায় পূর্ণ পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্স। রাঙামাটি হোটেল মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমেদ জানান, প্রতিদিন অগ্রিম বুকিং লেগেই আছে। এ বুকিং থাকবে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এভাবে পর্যটক আসা অব্যাহত থাকলে পর্যটন ব্যবসার ধস কাটানো কঠিন হবে না। প্রসঙ্গত, পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসুদের আনন্দ ও মনোরঞ্জন জোগানোর জন্য রাঙামাটিতে অসংখ্য নৈসর্গিক আবেশ ও দর্শনীয় স্থান রয়েছে। সরকারি পর্যটন মোটেল ছাড়াও ডিসি বাংলো, পেদাটিংটিং, সুবলং ঝরনা ও পর্যটন স্পট, টুকটুক ইকো ভিলেজ, গিরিশোভা ভাসমান রেস্তোরাঁ, পৌর পার্ক, সুখী নীলগঞ্জ, উপজাতীয় জাদুঘর, রাজবন বিহার, চাকমা রাজার বাড়ি, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফের স্মৃতিসৌধসহ নানা মনোরম ও নয়নাভিরাম স্পট ও স্থাপনা। স্বচ্ছ কাপ্তাই হ্রদের জলে নৌ-বিহারের মতো রোমাঞ্চকর নৌ-ভ্রমণেরও ব্যবস্থা রয়েছে। এদিকে পর্যটক এলেও তাদের নানা অভিযোগও রয়েছে। অনেকেই জানান, নামেই এটা পর্যটন এলাকা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মুগ্ধকর হলেও রাঙামাটি পর্যটন কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় সব আনন্দ বিলীন হয়ে যায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে এসে দেখা যাচ্ছে, ঝুলন্ত সেতু ছাড়া উপভোগ করার মতো তেমন কোনো সুবিধাই রাঙামাটি পর্যটন মোটেলে নেই। শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় দোলনা ও বসার জন্য টুল-ছাতা কিছুই নেই। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ৩০ টাকা করে নিলেও আলাদা কোনো সুবিধা বাড়ানো হয়নি। অথচ প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা থেকে বাড়ানো হয়েছে ২০ টাকায়। রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান জানান, রাঙামাটি একটি সম্প্রীতির শহর। পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াতে পারেন তার জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। ৬টি মোটরবাইক নিয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের টিমও গঠন করা হয়েছে।