জেসমিনের স্বীকারোক্তি বিশ্বাস করেন না পরিবার

প্রবাসী বাংলা Live  টিভি ।।  ৫ মার্চ ২০১৬, শনিবার

রামপুরার বনশ্রীতে দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করলেও মাহফুজা মালেক জেসমিনের স্বীকারোক্তি বিশ্বাস করেন না তার পরিবার। তাকে ফাঁসানো হচ্ছে বলেই মনে করেন তারা। হত্যার কারণ হিসেবে যে বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে তাও মানতে চান না তারা। পরিবারের দাবি, জেসমিনের মধ্যে মানসিক কোনো সমস্যা ছিল না। এমনকি তাদের পরিবারের কারও মধ্যে মানসিক কোনো সমস্যা নেই। প্রেম করে বিয়ে করলেও বেশ সুখেই ছিলেন আমান উল্লাহ আমান ও মাহফুজা মালেক জেসমিন দম্পতি। গতকাল সরজমিন ঢাকায় খালার বাসা ও জামালপুরের ইকবালপুরে গেলে আমান-জেসমিনের পরিবার, প্রতিবেশী ও স্বজনরা জানান এসব তথ্য। এদিকে গতকাল আদালতে সোপর্দ করে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে নিহত দুই সন্তানের মা মাহফুজা মালেক জেসমিনকে।
জামালপুরের ইকবালপুর ঘুরে দেখা যায়, ঘটনার পর র‌্যাবের কাছে জেসমিনের স্বীকারোক্তির বিষয়টি প্রকাশের পর থেকে বাড়ির গেইটটি বন্ধ রয়েছে। দুই শিশুর শোকে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে ওই এলাকার। পাশের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্র একই আলোচনা। সবার চোখে মুখে বিস্ময়। এটা কিভাবে সম্ভব? যথেষ্ট রক্ষণশীল ঘরানার, ভদ্র, মার্জিত হিসেবে পরিচিত জেসমিন নিজ হাতে তার দুই সন্তানকে হত্যা করেছে এটা মানতে নারাজ তারা। এই পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়েছেন জেসমিনের পরিবারের সদস্যরা। কারও সঙ্গেই কথা বলতে চান না তারা। প্রতিবেশীরাও ওই বাড়ির ভেতরে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছেন না। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির গেইট খোলা হয় না। গতকাল দিনভর কয়েক দফা চেষ্টা করে ওই বাড়িতে ঢোকার সুযোগ পাওয়া যায়। টিনশেড পাকা ঘরের আঙ্গিনায় এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে আছে জিনিসপত্র। একই অবস্থা ঘরের ভেতরের। ওই বাড়িতে জেসমিনের মা জুলেখা খাতুন, ভাই বুলবুল, তার স্ত্রী ও সন্তান থাকেন। জেসমিন ও তার দুই সন্তান হত্যার বিষয়ে তারা কেউ কোনো কথা বলতে চান না। ভেতর থেকে কান্নার শব্দ শোনা যায়। কাঁদছিলেন জেসমিনের অসুস্থ বৃদ্ধা মা জুলেখা খাতুন। তিনি বলেন, আমার মেয়ে খুন করতে পারে না। নিজের বাচ্চাকে সে খুন করবে কেন। এগুলো সাজানো নাটক। অন্য কেউ দুই বাচ্চাকে খুন করেছে। জোর করে এখন তার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে কারা খুন করতে পারে আমান-জেসমিন দম্পতির সন্তান নুসরাত আমান অরণি ও আলভী আমানকে এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারেননি তিনি।
কথা হয় জেসমিনের চাচাতো ভাই চর পলিশা জেএল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সোলায়মান সরকারের সঙ্গে। তিনি মনে করেন, আমান উল্লাহ আমানের ব্যবসায়িক কোনো শত্রু এটা ঘটাতে পারে। এছাড়া, হত্যাকাণ্ডের আগে ঢাকার বনশ্রীর ওই বাসায় দুই গৃহশিক্ষক ছিল। তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি। সোলায়মান সরকার বলেন, জেসমিনের মানসিক কোনো সমস্যা ছিল না। এমনকি আমাদের পরিবারে কারও মানসিক সমস্যা নেই। এমন কী ঘটেছে যে, দুই সন্তানকে হত্যা করবে মা। জেসমিনের দুই বাচ্চা ভালো প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করতো। অর্থনৈতিকভাবেও তাদের কোনো সমস্যা ছিল না। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জেসমিন হতাশায় ভুগবে কেন? তিনি জানান, আমান-জেসমিন দম্পতি সুখি ছিল। আমান-জেসমিন পরস্পর চাচাতো ভাই-বোন। এই দম্পতির চাচাতো ভাই সোলায়মান সরকার জানান, ১৯৭৬ সাল থেকে জামালপুর সদরের ইকবালপুরে বাস করছেন তারা। পাশাপাশি তাদের বাবা-চাচা চারজনের বাসা। তবে আমানের পরিবারের লোকজন থাকতেন গ্রামে। চাচা আবদুল মালেক সরকারের বাসায় থেকে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে লেখাপড়া করতেন আমান। ওই সময় চাচাতো বোন জেসমিনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে আমানের। এ বিষয়ে আমানের বন্ধু রিলেশন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের প্রশাসনিক পরিচালক মাহবুব এ খোদা বলেন, ১৯৯৪ সালের দিকে আমানের সঙ্গে জেসমিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দীর্ঘদিন প্রেম করার পর ২০০২ সালে তাদের বিয়ে হয় পারিবারিকভাবে। বিয়ের পর থেকেই গার্মেন্ট সরঞ্জামের ব্যবসায় যুক্ত হয়ে বেশ ভালো করছিলো আমান। ২০০৯ সালে স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে যায়। মাহবুব এ খোদা মনি বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো সমস্যা ছিল বলে জানা নেই। তবে নিজ বাচ্চাদের হত্যার যে কারণ প্রকাশ করা হয়েছে তাও বিশ্বাস করেন না তিনি। প্রতিবেশীরা জানান, জেসমিনের কাছে দুই সন্তান ছিল প্রাণের চেয়ে প্রিয়। জেসমিনদের বাসায় অগ্রণী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা কয়েক বছর ভাড়ায় থেকেছেন। তার স্ত্রী জানান, প্রতি বছরের ডিসেম্বর মাসে বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ হলে তাদের নিয়ে জামালপুরের বাড়িতে বেড়াতে আসতেন আমান-জেসমিন। বাচ্চাদের প্রতি তিনি ছিলেন অত্যন্ত যত্নশীল। আলভী আমানকে নিজের কোলে ঘুম পাড়িয়ে তবেই ঘুমাতেন তিনি। কিন্তু এ বছরের ডিসেম্বরে তিনি বাড়িতে আসেননি। কেন আসেননি এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেসমিন ও আমানের চাচাতো ভাই সোলায়মান সরকার জানান, গত ২১শে ডিসেম্বর ঢাকা থেকে জামালপুরের উদ্দেশে স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে যাত্রা করেন আমান। ময়মনসিংহ আসার পর হঠাৎ আলভী আমানের শরীরে বেশ ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। জেসমিন তখন বিচলিত হয়ে যান। পরে ঢাকায় ফিরে যান তারা। সেই জেসমিন নিজ হাতে তার দুই সন্তানকে হত্যা করবেন? এটা বিশ্বাস হয় না। ২৯শে ফেব্রুয়ারি দুই শিশু হত্যার পর গত ১লা মার্চ আমান-জেসমিন জামালপুরের বাসায় পৌঁছান। আশপাশের লোকজন তখন ভিড় জমান চারপাশে। সেখানে সেদিন উপস্থিত ছিলেন কামরুন নাহার কুয়াশা। প্রতিবেশী এই গৃহবধূ জানান, গাড়ি থেকে নামতেই চিৎকার করে কাঁদছিলেন জেসমিন। তারপর তাকে ধরে বাসার ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিছু সময় পরপর মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। প্রতিবেশী ও স্বজনরা জানান, মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তখনও চাইনিজ খাবার খেয়ে বাচ্চা দুটির মৃত্যু হয়েছে বলে জানান জেসমিন। কামরুন নাহার জানান, পরবর্তীতে সংবাদ মাধ্যমে জানতে পারেন বাচ্চা দুটিকে হত্যা করা হয়েছে। কামরুন নাহার জানান, বাড়িতে এলে অরণি তাদের বাসায় বেড়াতে যেতো। ঐশী নামে তাদের বোনঝির সঙ্গে খেলা করতো। সেই নিষ্পাপ অরণির মুখ আর কোনোদিন দেখা হবে না তা ভাবতেই পারছেন না তারা।
এদিকে আমানউল্লাহ আমানের বড় ভাইয়ের স্ত্রী মেলান্দহ ঝাউগড়ার বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ফাতেমা বিনতে মনসুর বলেন, আমানদের গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার উলিয়াবাহার রায়েরপাড়ায়। যমুনার ভাঙনে তা বিলীন প্রায়। যে কারণে ১৯৭৬ সাল থেকেই তাদের বাবা-চাচা চার জনের তিন জনই জামালপুরে বসবাস করছেন। ’৭৬ সালেই জন্ম হয় জেসমিনের। বাবা মৃত আবদুল মালেক সরকার ও মা জুলেখা খাতুনের এক পুত্র  ও তিন কন্যার মধ্যে জেসমিন সবার বড়।
বিশ্বাস করতে পারছে না বোন নীলাও: মাহফুজা মালেক জেসমিন তার নিজের সন্তানকে হত্যা করতে পারে, এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে- তা কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছে না ছোট বোন আফরোজা মালেক নীলাও। বনশ্রীর বড় বোনের বাসার পাশের গলিতেই দুই সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে থাকেন নীলা। গতকাল ওই বাসায় গিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। নীলা বলছিলেন, আমার বোনের কথা আমরাও বিশ্বাস করতে পারছি না। এটা কি করে সম্ভব? পাশাপাশি বাসা হওয়ায় আমি প্রায় প্রতিদিনই ওই বাসায় যেতাম। বোন কোনোদিন বলেনি এসব কথা। নীলা বলেন, ঘটনার দিন মাগরিবের নামাজের সময় আমাকে ফোন করে বড় আপা। দুই বাচ্চা অসুস্থ হওয়ার কথা জানায়। আমি দ্রুত গিয়ে একজন বিছানায়, একজন ফ্লোরে পড়ে আছে দেখতে পাই। আমি তাদের ডাকাডাকি করি। কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। পরে বোনকে জিজ্ঞাসা করি কিভাবে এমনটা হলো? সে বলে আমি ঘুম থেকে উঠে এই অবস্থায় দেখি। দুই বাচ্চা বাসি চাইনিজ খাবার খেয়েছিল বলেও জানায় বড় আপা। কিছুক্ষণের মধ্যে জাহিদ ভাই ও হ্যাপী ভাই আসে। পরে আমি আলভীকে ও ওরা অরণিকে ধরে নিচে নামায়। নিয়ে যায় আল-রাজী হাসপাতালে। সঙ্গে আমার বোনও ছিল। সে তখন কান্নাকাটি করছিল। পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাই। সেখানে মৃত্যুর খবর পেয়ে আমার বোন মাটিতে গড়াগড়ি করে কাঁদছিল। সেখান থেকে স্বজনরা আমাদের আবার বাসায় নিয়ে আসে। নীলা বলেন, সারারাত আমি ওই বাসায় ছিলাম। এসময় আমার বোন বলেছিল যে ছেলে-মেয়েগুলোকে কাটা ছেঁড়া (ময়নাতদন্ত) করার দরকার নাই। আমার চোখের মণিদের আমি কাটতে দেবো না। কেন এই কথা বলেছিল আমার জানা নেই। সবাই তাকে বোঝায় যে, রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীকে ধরতে হলে পোস্টমর্টেম করতেই হবে। পরদিন সকালে আমরা জামালপুর চলে যাই। স্বজনরা বলছিল, অরণি ও আলভীর লাশ মেডিকেল থেকে সোজা জামালপুরে নেয়া হবে। একারণে আমরা এদিক থেকে আগেই জামালপুরে রওনা দেই। নীলা বলেন, আমার বোন হত্যা করতে পারে এটা আমাদের ধারণাতেও ছিল না। আমরা এমনটা চিন্তাও করি নাই। বোনের স্বীকারোক্তি বিষয়ে জানতে চাইলে নীলা বলেন, এখন কেন সে এই কথা বলছে তা বুঝতে পারছি না। এমন সামান্য কারণে নিজ সন্তানদের হত্যা করবে এমনটা ভাবতেই পারছি না। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন নীলা।
৫ দিনের রিমান্ডে মা: ঢাকার রামপুরায় দুই শিশু খুনের ঘটনায় তাদের বাবার করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মা মাহফুজা মালেক জেসমিনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুস্তাফিজুর রহমান জেসমিনকে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। এসময়  আসামি পক্ষের আইনজীবী সাফায়েত আলী জামিনের বিরোধিতা করেন। এসময় তিনি বলেন,  মাহফুজা মালেক জেসমিনের মানসিক চিকিৎসা দরকার। রিমান্ডে নিলে তা হবে না। এসময় এজলাসে উপস্থিত কয়েকজন আইনজীবী সাফায়েত আলীকে শুনানিতে বাধা দেন। তাকে এই মামলা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান তারা। এই হট্টগোলের মধ্যেই মহানগর হাকিম স্নিগ্ধা রানী চক্রবর্তী জামিন আবেদন নাকচ করে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্র জানায়, রিমান্ড শুনানির আগে ঢাকার হাকিম আদালতে দুই শিশুর হত্যাকারী হিসেবে স্বীকার করা মা মাহফুজা মালেক জেসমিন চুপচাপ কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাকে এসময় ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। ভাবলেশহীন অবস্থায় এক পলকে তাকিয়ে ছিলেন। এজলাসে আনা-নেয়ার সময় সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাবও দেননি তিনি। বিকালে রামপুরা থানার পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর তিনি একটু বমি করেন। কয়েকদিনের ধকলে তিনি অনেকটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
‘আমার সব শেষ হয়ে গেলো’: নিজের দুই সন্তানকে মা হত্যা করেছে এই তথ্য জানতে পেরে পাগলপ্রায় হয়ে গেছেন গার্মেন্ট এক্সেসরিজ ব্যবসায়ী আমানউল্লাহ আমান। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে র‌্যাব হেফাজত থেকে ছেড়ে দেয়ার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন তিনি। তারপর থেকে নানারকম বিলাপ করছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে মামলা দায়েরের আগে রামপুরা থানার যেই পুলিশ কর্মকর্তা আমানের সঙ্গে ছিলেন, তিনি বলেন, আমান শুধু বলছিল- আমার সব শেষ হয়ে গেলো। আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। মামলা দায়ের শেষে দুই বন্ধু ও বড় ভাই আবুল ও চাচাত ভাই জাকিরসহ রামপুরায় নিজ বাসায় যান। সেখানে গিয়ে আবারো কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করার পর সেখান থেকে বেড়িয়ে এক বন্ধুর বাসায় যান। অসুস্থ হয়ে পড়ায় মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে স্বজনরা তার শুশ্রূষা করছেন। বনশ্রীর ওই বাসার দারোয়ান আব্দুর রশিদ জানায়, আমান বাসায় ঢুকেই চিৎকার করে কাঁদতে থাকেন। ছেলেমেয়েদের পড়ার টেবিল, জামা-কাপড় বুকে জড়িয়ে ধরে বিলাপ করতে থাকেন। পরে বন্ধু ও স্বজনরা তাকে বাসা থেকে বের করে নিয়ে যায়। আমানের বন্ধু অ্যাডভোকেট দীপু জানান, আমান শুধু বলছে তার ঘর ফাঁকা হয়ে গেলো। তার স্ত্রী যে সন্তানদের খুন করতে পারে প্রথমে সে বিশ্বাসই করতে পারেনি। কিন্তু স্ত্রীর নিজমুখে হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও কারণ শুনে নিজেই হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন।
পুলিশের কাছেও একই কথা বলছে জেসমিন: সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণে তাদের হত্যা করেছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করছে মাহফুজা মালেক জেসমিন। বৃহস্পতিবার র‌্যাবের কাছ থেকে তাকে হস্তান্তর করা হয় রামপুরা থানার কাছে। রাতেই বাবা আমান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলার এজাহারে আমান বলেছেন, দুই সন্তানকে হত্যার পর জেসমিন নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করে মর্মে আমার সামনে র‌্যাবের নিকট প্রকাশ করে। এজাহারে আমান বলেন, ঘটনার দিন বিকাল আনুমানিক সোয়া ৫টার দিকে গৃহ শিক্ষিকারা বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর মেয়ে অরণি ভেতর থেকে মূল দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে তার স্ত্রী জেসমিনের সঙ্গে খাটে গিয়ে শুয়ে পড়ে। জেসমিন ছেলেমেয়ের স্কুলের পড়ালেখার রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় মানসিক টেনশন করে। টেনশন নিয়ে তার মাথায় যন্ত্রণা হয়। সে আরও প্রকাশ করে, ছেলেমেয়ে না থাকলে টেনশন হতো না। এই যন্ত্রণার কারণে ছেলেমেয়েকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, র‌্যাব তাদের কাছে হস্তান্তরের পর তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। কিন্তু একই কথা বলছে জেসমিন। তাকে রিমান্ডে আনা হয়েছে। এখন সময় নিয়ে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।