ফরিদপুরে পাখির গ্রাম আকোইন ভাটপাড়া

 ২৩ জানুয়ারি২০১৮ মঙ্গলবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

শীত এলেই প্রাণ ফিরে পায় ফরিদপুর শহরতলির আকোইন ভাটপাড়া গ্রাম। দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা অতিথি পাখির বিচরণে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো গ্রাম। পাখি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করেন সব বয়সের মানুষ। ফরিদপুর শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে কৈজুরী ইউনিয়নের আকোইন ভাটপাড়া গ্রামে কয়েক বছর ধরে শীতের শুরুতে অতিথি পাখির আগমন ঘটছে। ফলে কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে থাকছে গ্রাম। এখানকার মানুষের পাখির ডাকেই এখন ঘুম ভাঙে। ওয়াকিবহাল সূত্র জানায়, শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে শুরুতেই উত্তরের শীতপ্রধান দেশ সাইবেরিয়া, চীন, মঙ্গোলিয়া ও নেপাল থেকে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল বাংলাদেশে চলে আসে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি। এরা অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকে আসে। আর শীত চলে গেলে ফিরে যায় নিজেদের আবাসে। ফরিদপুরের পাখি ও প্রকৃতিপ্রেমিক (পরিবেশবাদী)  অ্যাডভোকেট গাজী শাহিদুজ্জামান লিটন জানান, পৃথিবীতে এমন কোনো প্রাণী নেই যার কোনো গুরুত্ব নেই, তেমনি পাখিও প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী। পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, এরা অন্যান্য প্রাণীর উপকারও করে। প্রাকৃতিক বনায়ন সৃষ্টিতে পাখি পৃথিবীর উষালগ্ন থেকে কাজ করে আসছে। প্রকৃতিবান্ধব এসব পাখি শুধু নিজেরা বাঁচতে আসে না, এরা জলজ পোকা, ইঁদুর, কখনো কখনো ধানের পোকা খেয়ে কৃষকের উপকার করে। তাই পাখি মানুষের পরম বন্ধু। আকোইন ভাটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফাতেমা পারভীন বলেন, ‘পাখির ডাকে ভোর হয় আবার পাখির কলকাকলিতে সন্ধ্যা নামে। সে জন্যই অতিথি পাখিদের বিচরণের জন্য অভয়ারণ্যের সৃষ্টি করা জরুরি।’ একই কথা বলেন আরেক প্রতিবেশী ফরিদ হোসেন মোল্লা। তিনি বলেন, ‘রোজ ভোরে পাখির ডাকে আমাদের ঘুম ভাঙে। পাখির কারণেই এই গ্রামের পরিচিতি। অতিথি পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। আমরা চাই বন বিভাগ অতিথি পাখির বসবাসের জন্য নিরাপদ অভয়ারণ্য সৃষ্টি করুক।’ ফরিদপুর শহর থেকে পরিবার নিয়ে অতিথি পাখি দেখতে গিয়েছিলেন খায়রুজ্জামান সোহাগ। তিনি জানান, অতিথি পাখির কলতানে তিনি ও তার পরিবার মুগ্ধ। প্রতিদিন পাখি দেখতে হাজারো মানুষ ভিড় করছে গ্রামটিতে। তবে পাখিরা যাতে নিরাপদে থাকতে পারে সে জন্য বন বিভাগকে এগিয়ে আসতে হবে। ফরিদপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. এনামুল হক ভূঁইয়া জানান, আকোইন ভাটপাড়ায় অতিথি পাখির সমাগম হয়েছে। ওই এলাকায় পাখির পর্যাপ্ত খাবারও রয়েছে। পাখিগুলোকে যাতে জনগণ ডিস্টার্ব না করে, সে জন্য তাদের সচেতন করেছি। আমরা এরই মধ্যে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সাইনবোর্ড স্থাপন করেছি। যাতে পাখিগুলোকে কেউ ডিস্টার্ব না করে বা মেরে না ফেলে। তা ছাড়া ওই এলাকায় নিয়মিত টহলেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।