যশোরে এক বছরে ৮০ খুন

 ২৩ জানুয়ারি২০১৮ মঙ্গলবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

২০১৭ সালে যশোরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন অন্তত ৮০ জন। এর মধ্যে অন্তত ৩৪ জনই ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থক। হত্যাকাণ্ডের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত আছে নতুন বছরেও। সর্বশেষ গত ৩ জানুয়ারি ঝিকরগাছায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেনকে হত্যার উদ্দেশে দুর্বৃত্তদের ছোড়া বোমায় খুন হন তারই ভাই আওয়ামী লীগ কর্মী আব্বাস হোসেন। এর আগে যশোর শহরের টিবি ক্লিনিক এলাকায় সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে খুন হন শিঙ্গাড়া-পুরি বিক্রেতা টিপু সুলতান। ৬ ডিসেম্বর সহকর্মী হত্যার প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খুন হন সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন সরদার। এর আগে খুন হয়েছেন সদর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, সদর উপজেলার এক নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান, জিল্লুর রহমান মিন্টুসহ আরও অনেকে। ৪ ডিসেম্বর খুন হয়েছেন বেসরকারি সংস্থা প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক গোলাম কুদ্দুস। এর আগের দিন যশোরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খুন হন বাবু নামে এক যুবক। ২৮ অক্টোবর নিজ বাড়ির সামনে খুন হন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মনোয়ার হোসেন ইমন।

এভাবে একের পর এক আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা খুনের শিকার হতে থাকায় সরকারি দলের মধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভের। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল বলেন, ‘যশোর আওয়ামী লীগকে দুর্বল করার জন্য একটি কুচক্রী মহল জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে পরিকল্পিতভাবে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে চলেছে। যে কারণে আমরা স্বাধীনতার পক্ষের মানুষরা খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি’। যশোরের পুলিশ প্রশাসন এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আটক করে বিচারের মুখোমুখি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপু বলেন, ‘এক বছরে আওয়ামী লীগের ৩৪ নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন। এর জন্য আমরা ঢালাওভাবে এমপিদের দায়ী করব না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি-জামায়াতের লালিত সন্ত্রাসী, মাদক বিক্রেতারা আওয়ামী লীগে ঢুকতে পারেনি। তারা বাঁচার জন্য এমপিদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে। ফলে তৃণমূলে যারা আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে কাজ করেন তাদের সঙ্গে সমাজের ওই সব অবাঞ্ছিত খারাপ ব্যক্তিদের সংঘর্ষ বাধে। তাদের খারাপ কাজের প্রতিবাদ করতে গেলেই ভালো মানুষ, সাংগঠনিক মানুষ খুনের শিকার হন’। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিকদার সালাহউদ্দিন বলেন, ‘যশোর সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে আধিপত্য বিস্তারের একটি প্রবণতা প্রায় সব সময়ই থাকে। এ কারণে এখানে অপরাধপ্রবণতাও একটু বেশি। তবু আমরা সব সময় সতর্ক আছি, সচেষ্ট আছি’। তিনি বলেন, ‘পুলিশের তৎপরতার কারণেই এখানে অপরাধপ্রবণতা যথেষ্ট কমে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে। ২০১৭ সালের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কমিউনিটি পুলিশ, রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ সবাইকে সম্পৃক্ত করে নতুন বছরে পুলিশ আরও ভালোভাবে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করবে’।