আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে সরকারে সন্তোষ

 ১০ ফেব্রুয়ারী২০১৮ শনিবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে সরকার খুশি। দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণার দিন গত বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ সারা দেশে বড় ধরনের কোনো সহিংসতার ঘটনা না হওয়ার পেছনে পুলিশ, র‌্যাব আর গোয়েন্দাদের কঠোর অবস্থানকেই কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকার সংশ্লিষ্টরা বলছে, রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেভাবে পুরো পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে তা অভাবনীয়। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।

পুলিশের সূত্রগুলো জানায়, খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। গোয়েন্দাদের কাছে খবর ছিল, রায়ের দিন রাজধানী ঢাকায় বড় ধরনের গণজমায়েতের চেষ্টা করবে। গুলশানের বাসভবন থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া বের হয়ে ধীর গতিতে যেতে থাকবেন। তখন হাজার হাজার নেতা-কর্মী গাড়িবহরের পেছন পেছন যাবে। ঢাকার বিভিন্ন অলিগলি থেকে বেরিয়ে বড় ধরনের শোডাউন করবে নেতা-কর্মীরা। পরিস্থিতি বুঝে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করবে। এমন তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নড়েচড়ে বসে। রায়ের সাত দিন আগে  থেকেই রাজধানীকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করতে শুরু করে। ধরপাকড় শুরু হয়। তল্লাশি চলে নেতা-কর্মীদের বাসা বাড়িতে। আবাসিক হোটেলগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়। চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালায়। রায়ের আগের রাতে রাজধানীতে বিজিবি টহল দেয়। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয় গোটা রাজধানীতে। এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে। ৮ ফেব্রুয়ারি কী হবে—এ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। অজানা আশঙ্কা ছিল চারদিকে। দিন যতই ঘনিয়ে আসতে থাকে, মানুষের অস্বস্তি বাড়তে থাকে। রায়ের দিন কী যেন কী হয়—এমন আশঙ্কায় ঘর থেকে সেদিন লোকজনও খুব একটা বের হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানে বড় ধরনের কোনো সহিংসতা ছাড়াই দিনটি পার করে দেশবাসী। পুলিশের তৎপরতায় রাজধানীতে স্বস্তি বজায় থাকায় পুলিশ ও র‌্যাবের ভূমিকা ছিল উল্লেখ করার মতো। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। রায়ের দিন বিকালে ডিউটিরত সব পুলিশ ইউনিট ও টিমের স্পটে হাজির হয়ে পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে প্রায় ১৫টি গাড়ি বহর নিয়ে আদালত ও আশপাশের স্পটগুলোতে ঘুরে ঘুরে পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সাধুবাদ জানান ডিএমপি কমিশনার। এ সময় গাড়িবহর থেকে পুলিশ সদস্যদের প্রতি হাত নেড়ে অভিবাদন জানান, স্পটে  নেমে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন আছাদুজ্জামান মিয়া। এ সময় তিনি বলেন, তোমাদের অনেক ধন্যবাদ। আমরা কোনো নৈরাজ্য সহ্য করব না। জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশ বাহিনী প্রস্তুত থাকবে।