এখনো সময়মতো মেলে না পাসপোর্ট

 ২৪ ফেব্রুয়ারী২০১৮ শনিবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

আবু সাইমন। থাকেন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে। অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে বিদেশ যাবেন। নিজের পাসপোর্ট থাকলেও স্ত্রীর পাসপোর্ট নেই। স্ত্রীর পাসপোর্ট করার জন্য আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে যান। সব প্রক্রিয়া শেষে ঢাকা ও গ্রামের বাড়িতে পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি পাসপোর্ট দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি। ৫ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিনই যেতে হয়েছে আগারগাঁও। এভাবে পাসপোর্ট পেতে হয়রানির শিকার হয়েছেন আবুল হাসানসহ একাধিক পাসপোর্ট সেবাগ্রহীতা। ‘পাসপোর্ট নাগরিক অধিকার, নিঃস্বার্থ সেবাই অঙ্গীকার’ এই স্লোগানের সঙ্গে বাস্তবতার মিল খুঁজে পাচ্ছেন না পাসপোর্ট গ্রহীতারা। ভোগান্তির শিকার রাশেদুর রহমান জানান, মায়ের চিকিৎসার জন্য ভারতে যাবেন। তিনি ও তার মায়ের পাসপোর্ট করতে উত্তরা অফিসে যান। কাজ শেষে পাসপোর্ট দেওয়ার তারিখ দেওয়া হয় ৬ ফেব্রুয়ারি। এর মধ্যে ঢাকা ও গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতে পুলিশ ভেরিফিকেশনে বেশ কিছুটা ভোগান্তির শিকার হন। নির্দিষ্ট সময়ে সব কাজ শেষ হলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত পাসপোর্ট হাতে পাননি। এসএমএস পাঠালে জানানো হচ্ছে পাসপোর্ট প্রিন্টিংয়ে আছে। পাসপোর্ট অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ১ এপ্রিল এমআরপি ও এমআরভি চালু করা হয়। এ পর্যন্ত ২ কোটি মানুষকে পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে অবস্থানরত ৬ লাখ বাংলাদেশিকে পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৮ হাজার পাসপোর্ট প্রিন্ট করা হচ্ছে। মাত্র তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা পাসপোর্ট পাচ্ছেন। কিন্তু দ্রুত, হয়রানি ও দালালমুক্ত পাসপোর্ট সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। কর্তৃপক্ষীয় হয়রানি ও ভোগান্তির সঙ্গে দালালদের দৌরাত্ম্য ও পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে জটিলতায় অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, পাসপোর্টের বিভিন্ন বিভাগীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়ের কিছু কর্মচারীর যোগসাজশে দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে। এরা পাসপোর্ট গ্রাহকদের ভুল বুঝিয়ে কর্মকর্তাদের কাছেই যেতে দেন না। পেশাদার কিছু দালাল বিভাগীয় কার্যালয়গুলোয় সক্রিয় থাকলেও বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় নেতাদের হাতে। বেশির ভাগ জেলায় প্রভাবশালী নেতারা তাদের লোকজন দিয়ে পাসপোর্ট অফিসে ফরম যাচাইয়ের নামে অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার জন্য ফাঁদ পেতে বসে থাকেন। বিভিন্ন পাসপোর্ট অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ‘আমরা প্রতিনিয়ত হয়রানি ও ভোগান্তিমুক্ত পরিবেশে পাসপোর্ট সরবরাহের চেষ্টা করি। পাসপোর্ট অফিসে ভোগান্তি আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে। কমেছে দালালদের দৌরাত্ম্য। তবে প্রিন্টিং সমস্যার কারণে গ্রহীতারা পাসপোর্ট দেরিতে পাচ্ছেন। এখানে আমাদের কিছু করণীয় নেই। এটা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।’ সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাসপোর্ট পেতে পুলিশ ভেরিফিকেশনে ৭৬ শতাংশ ও দালালদের মাধ্যমে ৪১ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির শিকার হন। পাসপোর্ট অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ‘এই সেবা কীভাবে গণমুখী ও হয়রানিমুক্ত করা যায় সে ব্যাপারে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।’ র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, ‘গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করছি। গত এক বছরে শতাধিক দালালকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। আগের চেয়ে হয়রানি কমলেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় আসেনি। দালালদের সঙ্গে পাসপোর্ট অফিসের বেশকিছু কর্মকর্তা জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। আমরা তা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানতে পেরেছি।’ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. মাসুদ রেজওয়ান বলেন, ‘গ্রাহকের পাসপোর্ট পেতে কোনো ভোগান্তি হচ্ছে না। প্রিন্টিংয়ে কোনো সমস্যা নেই। সোমবারও ১৪ হাজার পাসপোর্ট প্রিন্ট দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো ধরনের পরিবর্তন থাকলে আমরা পাসপোর্ট আটকে দিচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাসপোর্ট পাওয়া সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাসপোর্ট অফিসগুলো দালালমুক্ত করতে কাজ চলছে। পাসপোর্ট-সংশ্লিষ্ট কেউ গ্রাহককে হয়রানি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’