গল্পের পেছনের গল্প..এবং পুলিশের দায়!

 ১৭ এপ্রিল ২০১৮ মঙ্গলবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

আসুন একটা গল্প করি! আমি কথক তো রয়েছি কিন্তু আমার শ্রোতা কোথায়? যাই হোক পাঠক তো রয়েছেন, আপনারা না হয় আমার হয়েই বললেন! বলবেন তো?

১১ বছর বয়সী ছোট্ট পরী নার্গিস, বাবা মায়ের অভাবের সংসারে বেড়ে উঠা। প্রাণ চাঞ্চল্যে ভরপুর মেয়েটিকে নিয়ে বাবা হেলাল কোনভাবেই পেরে উঠেন না! এখানে সেখানে চলে যায় মুক্ত বিহঙ্গের মত। অন্য ছেলেমেয়েদের নিয়ে কোন ঝামেলা পোহাতে নাহলেও নার্গিসকে বশে রাখা যায় না। বাধ্য হয়ে আদরের মেয়েটিকে এক পরিচিতের বাসায় কাজে দেয়া হয়। সেখানে অনেকদিন কাটিয়ে দেয় নার্গিস। সেই পরিচিতা নার্গিসকে আবার পাঠিয়ে দেয় তার আত্মীয়ের বাসায়।

নার্গিসের নতুন বাসায় মন টেকে না! ছোট্ট বাসা আর বন্দী জীবনে নার্গিস হাপিয়ে উঠে। আগের বাসায় নার্গিস বেশ ভাল ছিল কিন্তু নতুন বাসায় তার মন কোনোভাবেই টিকছেনা। নতুন বাড়িওয়ালা বকাঝকা করে, ইতোমধ্যে দুইবার গায়ে হাত তুলেছে।

একদিন না বলে বিস্কিট খেয়েছে বলে সেই বিস্কিট বমি করিয়ে বের করে আবার পরিস্কার করিয়েছে!! কি নির্মম! দুই মাসে নার্গিস দুই বার মার খেয়েছে।

আরেকদিন পাশের রুমের সোহেল সাহেবের বাচ্চাকে কোলে নেয়ায় ইউসুফ তাকে বকাঝকা করে ও গালে থাপ্পর দেয়। মেয়েটা বোঝেনা তার বাড়িওয়ালা ও সোহেল একে অপরকে কেন দেখতে পারেনা! পরীর মত মেয়েটা এই অনাদর নিতে পারেনা।

গত ১২/০৪/২০১৮ তারিখ মেয়েটাকে আবার যখন বকাঝকা ও মারা হয় তখন ওই সোহেল সাহেব সব ভিডিও করে, সেদিন মধ্যরাতে যখন নার্গিস ও ইউসুফকে লোকাল কাউন্সিলর অফিসে নেয়া হয়, তার আগে সোহেল কাকার স্ত্রী আকলিমা নার্গিসকে পঁচা পঁচা কথা শিখিয়ে দেয় আর বলে এগুলো পুলিশকে বললে তোমাকে আর এই বাসায় থাকতে হবে না!! নার্গিসকে যখন ভিডিও করা হচ্ছিল তখন সেই সোহেলই নার্গিসকে প্রশ্ন করছিল!( তদন্তের স্বার্থেই সবকিছু পরিস্কার করছি না!)

আসুন এবার পুলিশের দায় ও ভূমিকা নিয়ে কথা বলি!

১) সেদিন রাতে অর্থাৎ ১২ তারিখ মধ্যরাতে পুলিশ অভিযুক্ত আসামি ও নার্গিসকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে আসে।

২)একই দিনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে যাত্রাবাড়ী থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়। মামলা নং- ৫৬।

৩) উক্ত দিনে সকালেই নার্গিস, তার বাবা ও অভিযুক্তকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। বিজ্ঞ আদালত বক্তব্য শুনে নার্গিসকে তার বাবার জিম্মায় বুঝিয়ে দেন এবং অভিযুক্ত ইউসুফকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

৪) নার্গিস ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে যেখানে সে স্পষ্ট উল্লেখ করে যে তাকে পঁচা কথা বলতে পাশের বাসার খালাম্মা শিখিয়ে দিয়েছে। 
এবং
৫) পরবর্তী সময়ে নার্গিসকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্যও প্রেরণ করে পুলিশ যাতে "এক্সপার্ট অপিনিয়ন" ও পাওয়া যায়।

চুল পরিমাণ গাফিলতি পুলিশের জায়গা থেকে হয়নি কিন্তু অনেক ফেসবুক যোদ্ধা ক্রমাগত বলে গেছেন, পুলিশ অভিযুক্তকে ছেড়ে দিয়েছে এবং ভিকটিমকে অভিযুক্তের কাছেই বুঝিয়ে দিয়েছেন!! আমার প্রশ্ন হলো মহান সেই যোদ্ধাগণ একটি বারের জন্য ও কী ক্রস চেক করতে পারলেন না? আপনাকে যা গেলানো হবে আপনি তাই-ই গিলবেন? আমি অতি শংকিত এই আপনাকে নিয়ে! বিশ্বাস করুন এই প্রজন্মের অতি আধুনিক আপনার এই আচরণ আমাদের পূর্বপুরুষদের স্বল্প শিক্ষার কাছেও হার মানছে! কোথায় নিচ্ছেন আপনারা সবকিছু, একটু ভেবে দেখেছেন?

মামলাটি তদন্তাধীন, আমরা প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখছি! কেউ অপরাধ করে থাকলে প্রচলিত আইনেই তার বিচার হবে, আর কেউ কাউকে অযথা ঝামেলায় ফেলতে চাইলে তাকে তার প্রাপ্য যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেয়া হবে আইন অনুযায়ীই!

আসুন এবার একটু আপনার দায় নিয়ে কথা বলি...

সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু পেলেই হুজুগে মেতে উঠবেন না প্লিজ! প্রতিটি গল্পের পেছনে আরও একটি গল্প থাকে! কখনো সাদা চোখে আপনি যা দেখেন তা-ই ঘটে থাকে। আবার কখনো আপনার চিন্তার অতীত কিছু বিষয়ও ঘটে থাকে, যা আপনার সাদা চোখ মুহূর্তে বুঝে উঠতে পারেনা, এর জন্য দরকার হয় তদন্তের। আর সেই কাজটিই পুলিশকে করতে হয়। পুলিশের কোনো খামতি পেলে অবশ্যই প্রতিবাদ করুন কিন্তু দয়া করে পুলিশের সঠিক কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করবেন না। এতে অন্যায়কারী যেমন প্রশ্রয় পায়, তেমনি মন ভেঙে যায় সেসব অফিসারের যারা সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করে। গল্পের পেছনের গল্প আপনার না জানা থাকতেই পারে! পেশাদারি কোনো অফিসারের মন ভাঙার কারণ হবেন না দয়া করে.....

আপনার একটা অবিবেচনাপ্রসূত পোস্ট শেয়ার ও প্রচার প্রায়শই ঘটনায় বড় ধরণের বাঁধা সৃষ্টি করে এবং বিচার প্রক্রিয়াকেও বাঁধা প্রদান করে সময়ে সময়ে...

তাই চেক, ক্রস চেক করুন এবং গল্পের পেছনের গল্প জানুন তারপর নাহয় সমালোচনা করুন....। পুলিশের দায় নিয়ে কথা অবশ্যই বলুন; নিজের দায়কে ভুলবেন না যেন!

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)