মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পানির তীব্র সংকট রোগীর ভুগান্তি

 ১৭ এপ্রিল ২০১৮ মঙ্গলবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

এ.কে.অলক মৌলভীবাজার:
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় ১ সপ্তাহ ধরে হাসপাতালের গভীর নলকূপ নষ্ট হওয়ায় হাসপাতালে অপারেশন, ডায়ালিসিসসহ রোগীদের নিত্য নৈমত্তিক কাজে সমস্য সৃষ্টি হয়েছে। সমস্যা নিরসণে পৌরসভার পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক একটি পাম্প স্থাপন করা হলেও নানা সমস্যার সৃষ্ঠি হয়েছে হাসপাতালের কর্মকান্ডে। পৌরসভার পাম্পের পানি দিয়ে চলছে অপারেশন থিয়েটার ও ডায়ালায়সিসের কাজ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে দ্রুত সমাধান হবে এই পানি সংকটের।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগী সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসপাতালের গভীর নলকূপটি নষ্ট হয়ে যায়। এতে রোগীরা পড়েন বিপাকে। সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভর্তি নারী ও শিশু রোগীরা। এ অবস্থা নিরসণে পৌর মেয়র ফজলুর রহমান গত ১৪ এপ্রিল তাৎক্ষণিক প্রকৌশলীর মাধ্যমে পৌরসভার লাইন থেকে হাসপাতালে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করেন।
হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ যে পরিমান পানি সরবরাহ করছে তাতে চিকিৎসকরা অপারেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পারলেও রোগী ও কোয়াটারে বসবাস করা বাসিন্দাদের গোসলসহ নিত্যদিনের কাজে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। বাইরে থেকে পানি এনে বাথরুমের প্রাত্যহিক কাজ সারছেন বলে জানান হাসপাতালে ভর্তি থাকা সদর উপজেলার ভাদগাঁও গ্রামের আনোয়ারা বেগম। একইভাবে ভোগান্তির কথা জানালেন শহরতলীর বর্ষিজোড়া গ্রামের রোগী ছমির মিয়া, গাইনী ওয়ার্ডের রাজনগরের অধিবাসী নূরেছা বেগমসহ অনেকেই। হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতালের দু’টি পাম্পের মধ্যে একটি পাম্প দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সচল অপর পাম্প হাউজের গভীর নলকূপটি জ¦রাজীর্ণ থাকায় ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপনের অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নলকূপটি স্থাপন হলে পানি সমস্যার সামাধান হবে বলে জানা যায়।
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. পার্থ সারথী দত্ত কানুনগো জানান, হাসপাতালের গভীর নলকূপটি নষ্ট হওয়ায় পৌরসভার মেয়রের সহযোগিতায় তাদের লাইন থেকে সরবরাহকৃত পানিতে হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে। তবে তা পর্যাপ্ত না হওয়ায় রোগীদের পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রণালয়। দ্রুত সেটি স্থাপন করার ব্যাপারে গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীর সাথে কথা হয়েছে।