ড. নীনা জয়ী হতে পারেননি

 ১৭ মে ২০১৮ বৃহস্পতিবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

এক লাখ ৮২ হাজার ভোট পেয়েও জয়ী হতে পারলেন না ড. নীনা আহমেদ। তার চেয়ে এক লাখ ৫ হাজার ভোট বেশি পেয়ে ডেমক্র্যাটিক পার্টির নমিনেশনের যোগ্য হয়েছেন জন ফিটারমেন। ফিটারমেনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তেমন নেই। ২০১৬ সালে ইউএস সিনেটেও লড়ে হেরেছেন। কিন্তু কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে তার আধিপত্য রয়েছে। সে জোরেই ভোটারদের কাছে টানতে সক্ষম হয়েছেন বলে নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

নীনার ভোটের সংখ্যা আরো বাড়তো যদি বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টর্নেডো আঘাত না হানতো। তার ভোট ব্যাংক ছিল ফিলাডেলফিয়া মেট্রো এলাকা। সেখানেই আছড়ে পড়েছিল এ দুর্যোগ।

ড. নীনা সময় পেয়েছেন মাত্র ১১ সপ্তাহ। এই সময়ের মধ্যে বিশাল এই অঙ্গরাজ্যের অনেক এলাকাতেই যেতে সক্ষম হননি। ভরসা ছিল মাত্র টিভি বিজ্ঞাপনের ওপর। এছাড়া, ড. নীনা যেহেতু রাজনীতির ময়দানে পরিবর্তনের স্লোগান দিয়েছেন, সেজন্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মতো কারো বিরুদ্ধে কিছু বলতে যাননি।

১৫ মে মঙ্গলবার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সারা আমেরিকার প্রবাসীরাই এ নির্বাচন  নিয়ে বেশ কৌতূহলী ছিলেন। কারণ এই প্রথম কোন বাংলাদেশি অঙ্গরাজ্যভিত্তিক কোন পদে লড়ছেন প্রধান একটি রাজনৈতিক দলের টিকিটের জন্যে। 

ফলাফল প্রকাশের পর নীনা বলেন, আমি মোটেও হতাশ নই। তবে প্রকৃতি যদি বিরূপ আচরণ না করতো তাহলে ভোট আরো বাড়তো। আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ প্রবাসী বাংলাদেশিসহ অভিবাসী সমাজের প্রতি। কারণ, তাদের সমর্থনেই এতটুকু আসতে সক্ষম হয়েছি।

সামনের পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে ড. নীনা বলেন, যারা আমার প্রেরণার উৎস, যারা আমাকে সাপোর্ট দিয়েছেন, তাদের সাথে শীঘ্রই একটি বৈঠকে মিলিত হয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। তবে ইতিমধ্যেই পেনসিলভেনিয়া ডেমক্র্যাটিক পার্টির নেতারা যোগাযোগ করেছেন। তারাও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন পরবর্তী প্রক্রিয়ায়।

নিজ নির্বাচনী অফিসে জড়ো হওয়া সমর্থকদের সাথে কথা প্রসঙ্গে ড. নীনা বলেন, আপনারা মন খারাপ করবেন না। আপনারা বিগত কয়েক মাস আমার জন্য যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, আমার জন্য নির্বাচনি তহবিল সংগ্রহ করেছেন, বুদ্ধি, পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, তার প্রতিদান আমি কখনো দিতে  পারবো না। আপনারা আমার সাথে একইভাবে সারা জীবন থাকবেন, আমিও আপনাদের সাথে সুখে-দুঃখে থাকতে চাই। এই নির্বাচনে শিক্ষার মাধ্যমে আমরা আমাদের ভুল ভ্রান্তিগুলি দূর করতে পারবো । আর আমরা প্রবাসে যদি এইভাবে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে পারি, তাহলে আমরা যে কোন বাধাবিপত্তিই অতিক্রম করে আরও বড় কিছু অর্জন করতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হতে পারলে প্রবাসি বাংলাদেশিদের জন্য আমার অনেক কিছুই করার ইচ্ছা ছিল। তবে আমি হাল ছাড়ছি না। সেটা এখন আমি প্রশাসনের বাইরে থেকেই করবো।

নীনার নির্বাচনী ক্যাম্পেইন টিমের অন্যতম কর্মকর্তা ড. ইবরুল চৌধুরী বলেছেন, আমরা খুবই খুশি যে, বড় অংকের ভোট পেয়েছেন সারা রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে। তিনি জয়লাভ না করলেও আমরা গৌরববোধ করছি ৫ প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় হবার জন্যে।

অপর কর্মকর্তা মফিজুল হক বলেন, ড. নীনার মাধ্যমে আমরা সারা পেনসিলভেনিয়ায় নিজেদের পরিচিতি ও অবস্থানকে সংহত করতে সক্ষম হয়েছি।

ড. নীনার অন্যতম সমর্থক নিউইয়র্ক কম্যুনিটির নেতা ফখরুল আলমও বলেন, এটা প্রমাণ করেছে যে, বাংলাদেশিরাও সকল পর্যায়েই বহুজাতিক এ বিশ্বে নিজেদের যোগ্যতা প্রদর্শনে সক্ষম।