দুই দলেই মনোনয়নপ্রত্যাশীর ছড়াছড়ি, আশাবাদী সবাই

 ২১ মে ২০১৮ সোমবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিতে সংসদ সদস্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি। এ ছাড়া ১৪ দলের শরিক জাসদের দুজন এবং ওয়ার্কার্স পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্রমৈত্রীর একজন, মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির দুজন এবং জেপির (মঞ্জু) একজন প্রার্থী এই আসনে জোটের মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে এবং বিরোধী জোট বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা ক্ষমতাসীনদের  অনিয়ম, দুর্নীতি এবং দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে তাদের বিজয় নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করেছেন। অপরদিকে দল এবং ব্যক্তি ইমেজ কাজে লাগিয়ে বিজয় নিশ্চিত করার কথা বলেছেন ১৪ দল এবং মহাজোটের শরিক দলগুলোর নেতারা। আগামী সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ আসনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী প্রায় দেড় ডজন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস এই আসনের বর্তমান এমপি। এ ছাড়া হাবিবুর রহমান খান, এম মোয়াজ্জেম হোসেন, মনিরুল ইসলাম মনি, শাহে আলম, মো. আনিসুর রহমান, গোলাম ফারুক, হাফিজুর রহমান ইকবাল, সুভাষ চন্দ্র শীল এবং ফাইয়াজুল হক রাজু আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। তারা মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, সরকারের সুশাসনসহ নানা ইতিবাচক কারণে আগামীতে জনগণ এই আসনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করবে। এ আসনে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী থাকলেও দলের সভাপতি শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার পক্ষে কাজ করবেন। ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাসদের (আম্বিয়া-প্রধান) কেন্দ্রীয় নেতা উজিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বাদলও এই আসনে জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী। জোটের মনোনয়ন না পেলেও দলের ব্যানারে প্রার্থী হতে পারেন তিনি। এ ছাড়া জাসদ (ইনু) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দফতর সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ব্যক্তিগত সহকারী মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং ওয়ার্কার্স পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্রমৈত্রী কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজনও এই আসনে দল এবং জোটের মনোনয়ন চাইবেন বলে তাদের ঘনিষ্ঠজনরা নিশ্চিত করেছেন। এই আসনে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সম্ভাব্য প্রার্থী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য চিত্রনায়ক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা এবং বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী মো. নাসিরউদ্দিন। জাতীয় পার্টির মনোনয়নে এ আসনে একবার এমপি নির্বাচিত হওয়া কানাডা প্রবাসী গোলাম ফারুক অভিও আগামীতে এই আসনে জেপি (মঞ্জু) কিংবা মহাজোটের ব্যানারে নির্বাচন করতে পারেন বলে স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে। বরিশাল-২ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি প্রার্থী এস. সরফুদ্দিন সান্টু, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাবেক হুইপ সৈয়দ শহীদুল হক জামাল, সাবেক ছাত্রনেতা রওনকুল আলম টিপু, মো. দুলাল হোসেন এবং কর্নেল অব. সৈয়দ আনোয়ারুল হক। আগামীতে সুষ্ঠু সুন্দর ভোট হলে এই আসনে বিএনপি প্রার্থীর নিশ্চিত বিজয় দেখছেন বিএনপির অন্যতম মনোনয়নপ্রত্যাশী এস. সরফুদ্দিন সান্টু। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বরিশাল-২ আসনে কোনো উন্নয়ন করতে পারেনি। এখানকার আওয়ামী লীগের এমপি ইউনুস ভাড়াটে (অন্য এলাকার) লোক। যোগ্য নেতাকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হলে এবং সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে বরিশাল-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবে।