বিশ্বকাপে মরুর সুন্দরীর ঝলক দেখবে বিশ্ব

 ২ জুন ২০১৮ শনিবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্ক

বোরকা ঢাকা মুখ মাঝে মধ্যে কোনও ফটোগ্রাফারের কেরামতিতে ধরা পড়ে। তৈরি হয় দুর্দান্ত কিছু মুহূর্ত। তাতেই চমকে যায় গোটা বিশ্ব। এবার আরব ললনাদের এমন রূপদর্শনের অপেক্ষায় ফুটবলবিশ্ব। মরীচিকা দর্শনের স্বপ্ন কি সত্যি হতে চলেছে বিশ্বকাপের আসরে? 

আগামী ১৪ জুন ঐতিহাসিক সেই মুহূর্ত। রাশিয়ার মাটিতে যেমন প্রথমবার ফুটবল বিশ্বকাপের দামামা বাজবে। সেই সঙ্গে আরও এক ইতিহাস, বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচে এশিয়ার প্রথম মুসলিম দেশ হিসেবে খেলবে সৌদি আরব।

রাশিয়ান-অ্যারাবিয়ানদের বল দখলের লড়াইয়ে বড়সড় দৈত্য অবশ্যই কিংবদন্তী গোলরক্ষক লেভ ইয়াসিনের দেশ। তাতে কিবা যায় আসে আরবদের। সোল্লাসে মাঠ মাতাতে হাজির থাকবেন কুবেরের খাজানাকে তাচ্ছিল্যের চোখে দেখা শেখরা। তাদের যে কেউ দুনিয়ার যে কোনও পার্থিব সুখ অনায়াসে কিনতে পারেন। কিন্তু গোটা দুনিয়ার নজর থাকবে আরব নারীদের দিকে। অদেখা মরু সুন্দরীদের একঝলক দর্শনেই যে স্বর্গীয় অনুভূতি হবে না কে বলতে পারে!
 
বদলে যাচ্ছে সৌদি আরব, সে দেশের সমাজ ব্যবস্থা। শিথিল হচ্ছে রক্ষণশীল কড়া আইন। এর মূল কারিগর বর্তমান যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান। তিনিই আরব মুলুকের ভবিষ্যৎ বাদশাহ। যে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি সরকার তাকে বাস্তবায়িত করতে নেমে পড়েছেন যুবরাজ। সেই ধাক্কায় একের পর এক ঝড় তোলা সংবাদ এসেছে আরব থেকে। কখনও দুনিয়া উত্তাল হয়েছে এক রাত্রের মধ্যে একাধিক যুবরাজ ও রাজকুমারীকে বন্দি করার সংবাদে। কখনও উত্তেজনা ছড়িয়েছে নারীদের উপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা হটানোর হুকুমে। সেই অর্থে ২০১৭ সাল থেকে একের পর এক ঘটনার কেন্দ্র আরবভূমি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়া-আমেরিকা শিবিরে বিভক্ত বিশ্বে সৌদি আরব বরাবরই আমেরিকার পক্ষে। সুন্নি মুসলিম দেশটির চরম বিরোধিতা করে শিয়াপন্থী ইরান। তিক্ততা বেড়েছে ক্রমশ। মধ্যপ্রাচ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গোলযোগে ইরান ও আরব পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বীর ভূমিকা নেওয়ায় মুসলিম বিশ্ব আড়াআড়ি বিভক্ত। এতসবের মধ্যে ইসলামিক বিপ্লবের হাত ধরে ইরানে আধুনিকতা প্রবেশ করলেও, সৌদি আরব কিন্তু নিজেকে মুড়ে রেখেছিল রক্ষণশীল আইনে। যেমন, প্রকাশ্যে নারীরা যে কোনও ক্রীড়ানুষ্ঠানে হাজির থাকতে পারবেন না। এছাড়া একলা বাইরে বের হওয়ায়, গাড়ি চালানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল।

সংস্কারমূলক বাদশাহ হুকুমে শিথিল হয়েছে তেমনই কিছু কড়া নিয়ম। তাই দেশীয় দুই ফুটবল ক্লাবের ম্যাচে হাজির থেকেছেন সৌদি নারীরা। বিশ্ব ফুটবলের উঠোনেও ছড়িয়ে পড়ুক এমনই মরু গোলাপের সৌরভ। অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব।

একনজরে সৌদি আরবের বিশ্বকাপ অভিযান
১৯৯৪ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে ১২তম স্থান। সেই বছরেই চমক দিয়ে ধারে ভারে এগিয়ে থাকা বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে পরাজিত করে আরবরা। গ্রুপ লিগের আরও একটি ম্যাচে ২-১ গোলে মরক্কো পরাজিত হয়। এরপর ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে ২৮তম স্থান। 

২০০২ সালের দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে ৩২তম স্থান। ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে ২৮তম স্থান সৌদি।