অধঃপতনের দিকেই ধাবিত হচ্ছি আমরা

 ৪ জুন ২০১৮ সোমবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্ক

অফিসের কাজে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলাম গত মাসের মাঝামাঝি।  এখন উত্তর আমেরিকা থেকে প্রকাশিত হচ্ছে। এ নিয়ে কিছু কাজ ছিল। কাজগুলো শেষ করে এলাম।  আমেরিকা থেকে কেন প্রকাশ করতে হবে? এমন প্রশ্ন নিউইয়র্কের কোনো কোনো বন্ধু করছেন। কারও কারও দুঃখ-ক্ষোভেরও শেষ নেই। বাজার অর্থনীতির দেশে বাস করে এত প্রশ্ন করলে কি চলে? আমেরিকা গেলে কম বেশি বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন সবার সঙ্গে দেখা হয়। এবারও তাই হয়েছিল। তবে এবার বেশির ভাগ মানুষের প্রশ্ন ছিল, দেশে কী হচ্ছে? আগামী নির্বাচন যথাসময়ে হবে তো? জানি এই মানুষগুলো দেশের খবর আমার চেয়ে বেশি রাখেন। কম রাখেন না। কারণ ইন্টারনেটের এই যুগে প্রতিদিন দেশে তাদের কথা হচ্ছে।

বাংলাদেশের টিভি, পত্রিকা, অনলাইন সবাই দেখতে পান। এর মাঝে আমাদের এক বন্ু্লর রাজনীতি নিয়ে হালকা কথা হয়। বন্ধুটি কট্টর আওয়ামী লীগ সমর্থক। কথায় কথায় অনেক কিছু বললেন। তার বক্তব্যের মূল কথা হচ্ছে, আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনতে হবে। আর আনার জন্যই দলটির রাজনীতিকে নতুন মাত্রায় নিতে হবে। শুদ্ধি অভিযানটা করতে হবে দলের সর্বস্তরে। তার কথা শুনলাম। বললাম, সরকারি দলে এমনিতে একটি সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি হয়। টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকলে গাছের পাতাও সরকারি দল হয়ে ওঠে। যদিও এই পাতা বেশি দিন থাকে না। ঝরে যায় হলুদ হয়ে। বন্ধু বললেন, বাস্তবতা বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জবাবে বললাম, প্রবাসে তোমাদের দলের অনেক নেতা আছে। তাদের সঙ্গে কথা বল। তাদের বল দলকে বলতে। বন্ধুটি বললেন, তারা এখন দেশে যায় শুধু নিজেদের সুবিধা নিতে। এত চিন্তার সময় নেই। সময়কে ধারণ করতে হবে কেন্দ্রকেই। গাছের পাতা আর আগাছা বেছে চিহ্নিত করতে হবে। এখনই সময়। আগামী নির্বাচনের আগেই শুদ্ধি অভিযান শেষ করলে ভোটে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমি বললাম, রাজনীতি বড় জটিল জিনিস। এই জটিলতায় তাড়াহুড়া ঠিক নয়। এবার বন্ধু বলল, তাড়াহুড়া নয়, বাস্তবতা হচ্ছে গত ১০ বছরের নবাগতরা অতীত জানে না। তারা এখানে শুধু সুবিধা নেওয়ার জন্যই ভিড় জমিয়েছে। ভালো-মন্দে তাদের কিছু যায় আসে না। সুবিধাভোগীরা ইতিহাস জানে না। ঐতিহ্য বুঝে না। তাদের সামনে শুধু নগদ নারায়ণ। সারা দেশের বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী এখন আওয়ামী লীগ করেন। তারা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবিও ভাগিয়ে নিয়েছেন। প্রশাসনেও একই চিত্র। ভোটের আগে হাত না দিলে সমস্যা। ভোটের ইতিহাসে সব কৌশল একরকম হয় না। জনবিচ্ছিন্ন, দলবিচ্ছিন্ন, বিতর্কিতদের দলে রাখা যাবে না দীর্ঘমেয়াদে। বিতর্কিতদের আগামীতে মনোনয়ন দেওয়া যাবে না। কারণ বিএনপি ভোটে এলে বিতর্কিতদের পার করা যাবে না। আমি বললাম, প্রবাসে বসে সব বাস্তবতা তোমার অনুধাবন সম্ভব নয়। বন্ধুর সাফ কথা, প্রবাস আর পরবাস বিষয় নয়। বিএনপি এখন টের পাচ্ছে কারা তাদের আসল অনুসারী। তাদের গাছের আগাছা ঝরে গেছে। আওয়ামী লীগ কোনো কারণে ক্ষমতার বাইরে গেলে কঠিন খারাপ অবস্থা তৈরি হবে। দেশ ও দলকে ভয়াবহ সংকটে পড়তে হবে। বলা যায়, অস্তিত্ব সংকটেও পড়তে হতে পারে। তাই ইতিহাসের আলোকে সিদ্ধান্তে আসতে হবে। ভালো-মন্দের হিসাব-নিকাশ করতে হবে। কানকথায় চললেই সর্বনাশ। ক্ষমতার দৃশ্যমান অনেক কিছু সবসময় এক রকম হয় না। কথা বাড়ালাম না।

এর মাঝে ফোন করেছে আমার মেয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সে পড়ে। কিছু দিন আগে ড্রাইভিং পাস করেছে। এখন গাড়ি কিনতে চায়। পড়ার পাশাপাশি পার্টটাইম কাজ করে তার ভার্সিটিতে। আমাকে বলল, বাবা কিছু ডলার জমিয়েছি। তুমি এসে একটা গাড়ি কিনে দাও। বললাম, কত জমিয়েছ? মেয়ে বলল, হাজার দুয়েক হবে। সিদ্ধান্ত নিলাম আমার থেকে কিছু দিয়ে একটা পুরাতন গাড়ি কিনে দেওয়া যাবে। আমেরিকায় গাড়ি কেনা সহজ বিষয়। সমস্যা হলো আমি গাড়ি চিনি না। নিউইয়র্কের দু-একজন বন্ধুর সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করলাম। এনটিভির হোসেন সাঈদ ভাই বললেন, আমি যাব আপনার সঙ্গে। কম বাজেটে এখানে পুরনো গাড়ি কেনা কঠিন কিছু নয়। খুব ভোরে আমরা দুজন রওনা হলাম। মেয়ের শহরে পৌঁছে গেলাম সাড়ে ৩ ঘণ্টার মধ্যে। এরপর আমরা তিনজন ঘুরতে থাকি পুরনো গাড়ির দোকানে। দামে মিললে, গাড়ির অবস্থা ভালো লাগে না। দুই-তিন হাজার ডলারে দেখলে আমি আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে যাই। হোসেন ভাই বলেন, রাস্তায় এই গাড়ি বন্ধ হয়ে যাবে। বাংলাদেশের আড়াই লাখ টাকার গাড়ি মেয়ে ধাক্কাবে না চালাবে? ছেলে হলে কিছু বলতাম না। মেয়ের জন্য আরেকটু ভালো লাগবে। আবার খুঁজতে থাকি আমরা। এর মাঝে তিনি ফোন করেন এক সময়ের অভিনেতা টনি ডায়েসকে। নিউইয়র্কে টনি এখন একটি গাড়ির দোকানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। টনি বললেন, মোটামুটি ভালো গাড়ি ১০ হাজার ডলারের কমে পাবেন না। মেয়ে বলল, নো। আমার কাছে আছে দুই হাজার। আমি খুশি এই নো শুনে। অবশেষে সারা দিন ঘুরে একটা পছন্দ হলো। ২০১০ মডেলের নিশান গাড়ি। কিন্তু কিছু সমস্যা আছে। সামনে একটা অংশ ভাঙা, এসি কাজ করছে না। দোকানদার ইরানি আমেরিকান। তিনি বললেন, সব ঠিক করে দেব। মোট গাড়িসহ পাঁচ হাজার দিতে হবে। হোসেন ভাই বললেন, ঠিক আছে তা-ই দেব, কিন্তু কাজগুলো করে দিতে হবে। আমরা বাপ বেটির আর কিছু বলার থাকে না। এক সপ্তাহ গাড়ি মেরামত তারপর ডেলিভারি। এর মাঝে দোকানদার বললেন, ইন্স্যুরেন্স ব্রোকার একজন বাংলাদেশি আছে। তাকে ডাকছি। আমরা আরও খুশি হলাম বাংলাদেশির কথা শুনে। বললাম, ডাক। ভদ্রলোক এলেন। আমাদের দিকে তাকালেন। আমরা তিনজনই বাংলায় কথা বলছি। তিনি আমাদের সঙ্গে শুরু করলেন, কঠিন উচ্চারণে ইংরেজিতে। আমেরিকানদের অথবা ব্রিটিশদের মতো করে উচ্চারণের চেষ্টা। প্রশ্ন করলাম, আপনার দেশের বাড়ি কোথায়? তিনি বললেন, বাংলাদেশ। বললাম, বাংলাদেশের কোথায়? তিনি যথারীতি দাঁত ভেঙে যাওয়ার মতো করে মুখভঙ্গিতে বললেন, ঢাকায়। আমি আবার বললাম, ঢাকায় কোথায়? এবার তিনি আভিজাত্য ভাব নিয়ে আসলেন। আরও কঠিন উচ্চারণে বললেন, বনানী। হোসেন ভাই অনেকক্ষণ পরে বললেন, আপনি এ দেশে কতদিন? ভদ্রলোক বললেন, সাত বছর। ভদ্রলোক এরপর হোসেন ভাইকে বললেন, আপনার কত বছর? জবাবে হোসেন ভাই বললেন, ৩০ বছরের একটু বেশি। নিউইয়র্কে হোসেন ভাই ভালো ব্যবসা করেন। কিন্তু আপনি কী করেন ভদ্রলোকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, ছোটখাটো চাকরি করি। আমরা বেরিয়ে এলাম গাড়ির শোরুম থেকে। গাড়িতে ওঠে তিনজনই একসঙ্গে বলে উঠলাম, এই লোকের সঙ্গে হবে না। হোসেন ভাই আমার মেয়েকে বুঝিয়ে বললেন, সরাসরি অনলাইনে গিয়ে ইন্স্যুরেন্স করে ফেলতে। তবুও আমি বললাম, দেখ লোকটা কী প্রস্তাব পাঠায়। একদিন পর ভদ্রলোক মেইল করলেন, প্রতি মাসে সাড়ে তিনশত ডলার ইন্স্যুরেন্স। আমার মেয়ে অনলাইনে গেল। চেক করল। পেল মাত্র ১১০ ডলারে। জগৎ বড়ই আজব। কিছু মানুষ দেশে বা বিদেশে এমনই। সবসময় মানুষকে আপন মনে করলেই আপন হয় না।

শুধু আমেরিকার কথা বলে লাভ নেই। দুনিয়াতে মানুষের চেয়ে এত দ্রুত পরিবর্তন অন্য কোনো প্রাণীর হয় কিনা জানি না। ক্ষমতা, অর্থ ও অবস্থান পরিবর্তনের দাপট অনেক মানুষই সহ্য করতে পারে না। সব পেশায় তাই। আর রাজনীতি করলে তো কথাই নেই। মেকি ভাব নিয়ে সমাজে আমরা চলি। দুনিয়াটা স্বল্প সময়ের জন্য। কেউই আমরা তা বুঝি না। অনেককে দেখি গদি পেলে আর হাঁটতে পারেন না। মানুষের সঙ্গে হাত মেলান আকাশের দিকে তাকিয়ে। দেশের অনেক জনপ্রতিনিধি নিজের নির্বাচনী এলাকায় যান না। কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেন না। কর্মীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পরে ডেটল দিয়ে হাত ধুয়ে নেন। আগে সিনেমায় এসব দৃশ্য দেখতাম। এখন বাস্তবেও দেখছি। একজন সাংবাদিক বন্ধুর ফেসবুক স্ট্যাটাস পড়লাম। ঢাকার একটি এলাকায় ভাড়াবাড়িতে থাকেন এই সাংবাদিক। তার বাড়িতে আমিও গিয়েছি একাধিকবার। সরকারের একজন সচিবের বাস এই ভবনে। সচিবের কাজ হলো প্রতিদিন ঢুকতে ও বের হতে দারোয়ানদের পেটানো। তার যন্ত্রণায় কোনো দারোয়ানই থাকে না। মাসে মাসে এভাবে দারোয়ান বদলে ফ্ল্যাটবাড়ির বাকি বাসিন্দারা ক্লান্ত। এর মধ্যে ল্যান্ডওনারও থাকেন। তার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন আমাদের সাংবাদিক বন্ধু। যখন তখন হুমকি থেকে তারও রেহাই নেই। বেচারা ক্লান্ত হয়ে সাংবাদিক ভাড়াটিয়ার কাছে বিচার দিয়ে যান। এই দৃশ্য শুধু এই বাড়িতে নয়, ঢাকার সব ফ্ল্যাটবাড়ির একটা করে অ্যাসোসিয়েশন আছে। এসব অ্যাসোসিয়েশনের আবার কমিটি আছে। অনেকে একবার দায়িত্ব পেলে সারা জীবন আর ছাড়তে চান না। আবার নিজে সমালোচনা করেন সরকারের একতরফা ভোট ও ক্ষমতায় থাকা নিয়ে। ব্যক্তিজীবনে আমরা সব জটিল মানসিকতা নিয়ে চলি।

নিউইয়র্কে এবার এক স্লোভাক আমেরিকানের সঙ্গে পরিচয় হলো। আমি দেশ জানতে চাইলে বলল, দুই দেশের নাগরিক। ধর্মের কথা জানতে চাইলাম। বলল, ধর্ম মানুষের জন্য কাজ করা। নিজের মানবিক দিকটা নিয়ে অন্যের জন্য এগিয়ে আসা। কথায় কথায় বললেন, তার খাবার নিরামিষ। আমিষ খান না কারণ পশুপাখির প্রতিও নির্দয় হতে কষ্ট লাগে। এই যুগে এমন মানুষও আছে? তাও আবার আমেরিকার মতো দেশে? মানুষের মধ্য থেকে মানবিক গুণগুলো উঠে যাচ্ছে। চিন্তা, কল্পনা আর বাস্তবতায় অনেক ফারাক। সুন্দর আগামীর জন্য মানুষকে ফিরে আসতে হবে মানবিকতায়। আর তা না আসতে পারলে আগামীতে সমাজে মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে। বিশ্বের স্বাভাবিক ব্যালান্স নষ্ট হবে। ঈর্ষা, হিংসা, হানাহানি বাড়বে মানুষে মানুষে। আমি মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনছিলাম। আসলে আমাদের অনেক কিছু শেখা এখনো বাকি আছে। বাকি আছে অনেক কাজ করার। সুন্দর ও স্বাভাবিক আগামীর জন্য আমাদের আরও অনেক কিছু করতে হবে। সময়টা এখন সব কিছুতে একটু কঠিন। জীবনের পরতে পরতে আমরা অনেক সমস্যা নিয়ে পথ চলছি। খুব ছোটবেলায় শুনতাম, একটা সময় আসবে মানুষের স্বাভাবিকতা থাকবে না। মানুষ হিংস্র হয়ে উঠবে। সুবিধাবাদ আর দাসত্বের দিকে ধাবিত হবে। অকারণে ধর্ম, ক্ষমতা, সমাজ নিয়ে বাড়াবাড়িতে লিপ্ত হবে। এখন কি আমাদের সেই সময় চলছে? মানুষই কি পৃথিবীকে বাসের অযোগ্য করে তুলছে?

কেউ কেউ কথায় কথায় মুসলমানদের দোষ খোঁজেন। বলেন, বর্তমান বিশ্বের কঠিনতম সমস্যাগুলো মুসলমানরা তৈরি করেছে। আমি তা মনে করি না। আফগান, ইরাক, সিরিয়া সমস্যা মুসলমানদের তৈরি করা নয়। তারা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও রাজনীতির শিকার। উগ্রবাদ জঙ্গিবাদ বিশেষ মহলের তৈরি। এর সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। আর সাদামাটা কিছু ধর্মীয় রাজনীতি এখন সব দেশে হচ্ছে। বাংলাদেশ অনেক ভালো আছে। এখানে অকারণে অভিযোগ তুলে লাভ নেই। ভারতে ধর্মগুরুদের দাপটের কথা আমরা জানি। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে দেখেছি রাস্তায় খ্রিস্টান, জুইস, যোহবাসহ বিভিন্ন ধর্মের প্রচারণা চালানো হয়। আমাদের দেশে অতি প্রগতিশীলরা অনেক কথা বলেন। তারা দুনিয়ার অন্য দেশের কার্যক্রম নিয়ে মাথা ঘামান না। ধর্মচর্চা অবশ্যই খারাপ না। যে যার মতো ধর্মীয় কার্যক্রম চালাবে। ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি কোনোভাবে কাম্য নয়।

এটা যে কোনো ধর্মের জন্যই প্রযোজ্য। শুধু মুসলমানদের গালাগালি করে লাভ নেই। ধর্ম নিয়ে সমস্যা তৈরি হয় রাজনীতি যুক্ত হলে। ধর্মীয় রাজনীতিকে আমরা একটা সহনশীলতায় দেখতে চাই। ধর্ম নিয়ে কোনো বাড়াবাড়িই কাম্য নয়। ইসলাম শান্তির ধর্ম। মানুষের কথা এই ধর্মে বলা আছে। এই ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি আল্লাহর রসুল (সা.)-এর সময়েও হয়নি। সাহাবিরাও করেননি।

পাদটীকা : ভেজালবিরোধী অভিযানে প্রতিদিনই নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলোর জরিমানা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অথচ এই রমজান মাসে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে সবারই থাকার কথা। কিন্তু রমজান ও ঈদকে ঘিরেই আমাদের এখানে সবাই ব্যবসার নামে বাড়াবাড়ি করে। অতি মুনাফার লোভে ইহকাল, পরকাল দুটোই নষ্ট করে। অথচ দুনিয়ার সব দেশে ধর্মীয় উৎসবে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়।  ভালো পণ্য সবাই সাজিয়ে রাখে। ক্রেতাদের জন্য বিশেষ ছাড় থাকে।  আমাদের হয়েছে উল্টোটা। সমাজের নীতি-নৈতিকতা বলে আর কিছু থাকল না।

            লেখক : সম্পাদক, বাংলাদেশ