সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি পলাশবাড়ির পবনাপুর ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ইউপি মেম্বরদের অনাস্থা প্রস্তাব

 ১৯ জুলাই ২০১৮ বৃহস্পতিবার   ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার পবনাপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম মন্ডলের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ওই ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বররা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদের ১০ জন মেম্বর লিখিতভাবে ১৩টি দফা ওয়ারি দুর্নীতির ফিরিস্তিসহ অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেন। বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ উত্থাপন করে জরুরী ভিত্তিতে তদন্ত পূর্বক জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে অনাস্থা প্রস্তাব বাস্তবায়নের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য জুই বেগম, শাহানাজ পারভীন, আলেফা বেগম, আলতাব হোসেন, কে.এম. জিয়াউর রহমান জিন্না, মো. জিয়াউর রহমান, আব্দুল কুদ্দুস, মো. মশিউর রহমান, আমজাদ আলী শেখ ও নুরুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উলেখ করা হয়, এতদাঞ্চলের প্রভাবশালী বিএনপি নেতা শাহ আলম মন্ডল পবনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই নানা অনিয়ম-দুর্নীতি এবং ব্যাপক স্বেচ্ছাচারিতায় জড়িয়ে পড়েন। তার অনিয়মের কারণে পবনা ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম এবং উন্নয়ন প্রকল্প সমূহের কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ে। তিনি পরিষদের সভা আহবান না করে পরিষদের সিদ্ধান্ত ছাড়াই নিজের খেয়াল খুশিমত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সকল কার্যক্রম মনগড়াভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। পবনাপুর মহিলা কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ায় ওই কলেজের নামে প্রকল্প দেখিয়ে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের দুটি ব্যাংক হিসাব থাকা সত্ত্বেও ইউনিয়নের হোল্ডিং ট্যাক্স, জন্ম নিবন্ধন ও ট্রেড লাইসেন্স ফি, হাট বাজার ইজারার আদায়ের অর্থ ওই হিসাবে জমা না রেখে তা আত্মসাৎ করা হয়। গতবছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট মেরামতের জন্য উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ বিভাগের বরাদ্দ দেয়া ১ লাখ ২৩ হাজার টাকার কোনো কাজ না করেই টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন চেয়ারম্যান। এছাড়াও গত দুই বছর যাবৎ সদস্যদের পরিষদ থেকে সম্মানী ভাতা দেয়া হয় না, দফাদার নিয়োগের রেজুলেশন না করা, দুস্থমাতার চালের বস্তা কেটে চাল কম দেয়া, পরিষদের জন্য সরকারি অর্থ স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে উত্তোলন ও খরচ, জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন দিবস যথাযথভাবে পালন না করা, ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে জামায়াত ও বিএনপিকে অর্থ যোগান দেয়ার বিভিন্ন কার্যক্রম বেআইনীভাবে প্রতিনিয়িতই করে আসছেন। তিনি নিয়মিত পরিষদে উপস্থিত থাকেন না। ইউনিয়ন পরিষদের বাকি সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে সব কাজ করেন। বিরোধী দলের সাথে সম্পৃক্ততা থাকার কারণে ওই চেয়ারম্যান সরকারি ১০ টাকা মূল্যের চাল দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণ না করে ফেরত প্রদান, ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ না করাসহ জনকল্যাণমূলক কাজ থেকে বিরত থেকে নানা অপকর্ম সুপরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করে জনগণকে এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নানাভাবে হয়রানী করছেন।