ধর্ষনের পর ঘাড় মটকে হত্যা করা হয় রূপাকে -ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন

 ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার সহ দেখতে ক্লিক করুন
মোস্তাফিজুর রহমান,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ 
কলেজ ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রুপার মৃত্যু হয়েছে মাথায় ও ঘাড়ে আঘাতের কারণে। আর মৃত্যুর আগেতাকে ধর্ষন করা হয়েছিল। টাঙ্গাইলের চলন্ত বাসে ধর্ষনের পর নির্মম নির্যাতনের করে হত্যার শিকার রুপার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা এমন তথ্য উল্লেখ করেছেন। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা সিভিল সার্জনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবার পর সিভিল সার্জন ডা.শরীফ হোসেন খান বুধবার সকালে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।
টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার মাহবুব আলম জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে খুন ও ধর্ষন দুটি আলামতই রয়েছে। তিনি আরো জানান, ময়নাতদন্তের সময় সংরক্ষিত রূপার দাঁত ও পরিধেয় বস্ত্র ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকা সিআইডি পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। এ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই এ মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয়া হবে। 
রূপার ভাই হাফিজুল ইসলাম ও বোন পপি মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যালে স্থানান্তরের পাশাপাশি সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড কার্যকরের দাবী জানান। তাদের শাস্তি দেখে আর কোন পুরুষ যেন কোন মেয়েকে এরকম বর্বর নির্যাতন না করে। এছাড়াও কোনো আসামি যাতে আইনের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে যেতে না পারে, সে ্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। 
প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপা খাতুনকে চলন্ত বাসে পরিবহন শ্রমিকেরা ধর্ষণ করে। পরে ঘাড় মটকে তাঁকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যায়। পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন  বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করেন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা করে। রূপার ভাই ২৮ আগস্ট মধুপুর থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে রূপাকে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ েছাঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), বাসের তত্ত্বাবধায়ক সফর আলী (৫৫) এবং বাস চালকের সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯)  আটক করে। পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা রূপাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে। ২৯ আগস্ট শামীম, আকরাম, জাহাঙ্গীর এবং ৩০ আগস্ট হাবিবুর ও সফর আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তারা সবাই এখন টাঙ্গাইল কারাগারে। ৩১ আগস্ট রূপার লাশ উত্তোলন আদালতের নির্দেশে উত্তোলন করে করে তাঁর ভাইয়ের কাছে হস্তান্তরর করা হয়। পরে তাঁকে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নিজ গ্রাম আসানবাড়িতে নিয়ে বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পরে সিরাজগঞ্জবাসী। ৩ বোন ও ২ ভাইয়ের মধ্যে ৪র্থ রূপা সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের আসানবাড়ি গ্রামের মৃত জেলহক প্রমানিকের মেয়ে। ঢাকার আইডিয়াল ল কলেজে পড়ালেখা করার পাশাপাশি সে ময়মনসিংহ জেলা সদরে একটি কোম্পানির প্রোমশনাল ডিভিশনে কাজ করছিলেন তিনি। বগুড়ায় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর ময়মনসিংহে ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন ওই তরুণী।