সিরাজগঞ্জে মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধুর আত্মহত্যা

 ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার সহ দেখতে ক্লিক করুন 

সুজন সরকার ঃ

মাদকাসক্ত স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির অমানুষিক নির্যাতন সইতে না পেরে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে তাকমিনা খাতুন (৩০) নামের এক গৃহবধূ বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ যৌতুক মামলা তুলে না নেয়ায় মারপিট ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়ায় সে আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনার পর থেকেই ওই স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের মোজাফপুর (মজুপুর) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তাকমিনা খাতুন (৩২) ওই গ্রামের ফজল খানের মেয়ে। বুধবার বিকেলে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের মোজাফপুর (মজুপুর) গ্রামের ফজল খানের মেয়ের সাথে একই ইউনিয়নের পূর্ব পাইকড়া গ্রামের মতি তালুকদারের ছেলে রাশিদুল ইসলামের সাথে প্রায় ১৬ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন ভালোই চলে তাদের সংসার। এরপর তাদের সংসার জীবনে সাগর ও শিহাব নামের দুইটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে। স্ত্রী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও রাশিদুল পরপর দুটি বিয়ে করেন। এতে প্রায় তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। এতকিছু সহ্য করার পরও মাদকাসক্ত স্বামী রাশিদুল ইসলাম গৃহবধু তাকমিনার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক হিসেবে দাবী করেন। দাবীকৃত টাকা না দেয়ায় মাঝে মধ্যেই রাশিদুল ও তার পরিবারের লোকজন তাকমিনাকে মারপিট ও বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করে। নির্যাতন সইতে না পেরে ৩ মাস আগে দুটি সন্তানকে নিয়ে তাকমিনা তার বাবার বাড়ীতে চলে আসেন এবং পরিবারের সদস্যদের কথা বলে ২০১৬ সালে স্বামী রাশিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন মামলাটি তুলে নেয়ার জন্য নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে তাকমিনার পরিবারকে। গত মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) ছিল মামলাটির তারিখ। এই তারিখেই মামলাটি তুলে নেয়ার জন্য মঙ্গলবার দুপুরে শ্বশুড়বাড়ীতে আসেন রাশিদুল ইসলাম। কৃষক পিতা ফজল খান বাড়ীতে না থাকায় তাকমিনাকে জোর করে মামলাটি তুলে নেয়ার জন্য চাপ দেয়। কিন্তু তার কথায় তাকমিনা রাজি না হওয়ায় তাকে মারপিট করে এবং যৌতুক মামলাটি তুলে না নিলে তাকে হত্যা করার হবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। স্বামীর নির্যাতন ও শ্বশুর-শাশুড়ী অপমান সইতে না পেরে তাকমিনা রাতেই বিষপান করেন। গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় পরিবারের লোকজন তাকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে সে মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। বিকেল সাড়ে ৩টায় ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেন। এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের হয়েছে। নিহতের পিতা ফজল খান অভিযোগ করে বলেন, মেয়ে বিয়ে করার পর থেকেই রাশিদুল ইসলাম মদ, গাঁজা সেবন করতো। মাঝে মধ্যেই রাশিদুল তাকমিনাকে যৌতুকের টাকার জন্য আমাদের বাড়িতে পাঠাত। কিন্তু আমরা তার দাবিকৃত টাকা না দিতে

পারায় মাঝে মধ্যে আমার মেয়েকে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ী অমানসিকভাবে নির্যাতন করতো। টাকার জন্য রাশিদুল পরপর দুটি বিয়ে করলেও আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য মারপিট করতো। বাধ্য হয়ে গত বছর তার বিরুদ্ধে একটি যৌতুক মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলা দায়েরের পর থেকেই মেয়ের জামাই ও মেয়ের শ্বশুরবাড়ীর লোকজন মামলাটি তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিতো। গত মঙ্গলবার দুপুরে আমার বাড়ীতে এসে তাকমিনাকে মামলাটি তুলে নেয়ার চাপ দেয়। এতে সে রাজি না হওয়ায় তাকে মারপিট করে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করে। এ ঘটনায় মেয়ের জামাই রাশিদুলসহ পাঁচজনকে আসামি করে সিরাজগঞ্জ আদালতে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান। সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, নির্যাতনের শিকার হয়ে তাকমিনার মৃত্যুর ঘটনায় একটি ইউডি মামলা দায়ের হয়েছে।