নতুন নিয়মে শুধু ১১ ঠিকাদারের ভাগ্যে কাজ জুটবে বিভিন্ন বিভাগের দরপত্র প্রক্রিয়ায় টার্নওভার নীতিমালা সংশোধনের দাবি ॥ সংবাদ সম্মেলন

 ১৯নভেম্বর ২০১৭ রবিবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন   

গাইবান্ধা থেকে শেখ হুমায়ুন হক্কানীঃ

সরকারের বিভিন্ন বিভাগ কর্তৃক দরপত্র আহ্বানের টার্নওভারের সংশোধিত নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করায় সারাদেশের ঠিকাদাররা চরম বিপাকে পড়েছে। এতে লাভবান হচ্ছে রাজধানী ও বিভাগীয় শহরের মুষ্টিমেয় ১১ থেকে ১২ জন ঠিকাদার। ফলে দরপত্র দাখিলের টার্নওভারের নতুন এই নীতিমালা অবিলম্বে সংশোধনের দাবি জানিয়েছে গাইবান্ধার সর্বস্তরের ঠিকাদাররা। রোববার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে ঠিকাদারদের এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ঠিকাদারদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মতলুবর রহমান। লিখিত বক্তব্যে উলেখ করা হয়, অভিজ্ঞতার সনদ, ব্যাংক কর্তৃক আর্থিক স্বচ্ছলতার সনদ, যন্ত্রপাতি ও লোকবল এবং টার্নওভার (টেন্ডার দাখিলের

নির্দিষ্ট অংকের টাকার কাজের সামর্থ ও অভিজ্ঞতা) দাখিলের পর একটি দরপত্র কমিটির যাচাই বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে নিয়মানুসারে ঠিকাদারবৃন্দ কাজ পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি এসব নিয়ম ও শর্ত ঠিক রেখে বাড়তি নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে যে সব ঠিকাদারের কাজের টার্নওভার বা অভিজ্ঞতা বেশি থাকবে শুধু সেসব ঠিকাদার টেন্ডারের কাজ পাবে। ফলে সারাদেশের ওই নির্দিষ্ট ১১ থেকে ১২ জন ঠিকাদারই জেলা পর্যায়েও টেন্ডার দাখিলের সুযোগ পাচ্ছে। আর স্থানীয় ঠিকাদাররা কাজ পাবার আশায় ওইসব ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্যবহারের জন্য তাদের চাহিদামত আহবানকৃত কাজের ২ থেকে ৩% টাকা প্রদানের শর্তে তাদের শরনাপন্ন হতে বাধ্য হচ্ছে। এতে কাজে লাভ লোকসানের শুরুতেই একটা বড় অংশের টাকার বিনিময়ে লাইসেন্স ভাড়া নিতে হচ্ছে। তদুপরি টার্নওভারের ওই নিয়মের ফলে জেলা পর্যায়ে টেন্ডার কমিটি থাকলেও তাদের মূলত: কোন ক্ষমতাই নেই। কেননা নিয়মানুযায়ি শুধু টার্নওভার বেশি যোগ্যতা সম্পন্ন ঠিকাদাররাই কাজ পাবে। এই নিয়মের ফলে সারাদেশে ঠিকাদারদের বিরাট অংশ দিনেদিনে বেকার হয়ে পড়বে এবং পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উলেখ করা হয়, সারা বাংলাদেশে সকল ডিপার্টমেন্টে প্রতি বৎসর হাজার হাজার ঠিকাদার লাইসেন্স ফি প্রদান করে আসছে। অথচ নতুন টার্নওভার নীতিমালার কারণে দেশের হাজার হাজার নিবন্ধিত ঠিকাদার বেকারত্বের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য ঠিকাদারদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো. নিয়াজ রহমান, নেছার আহমেদ সুফী, সরদার মো. শাহীদ হাসান লোটন, খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম, মো. একরাম, মো. শহিদুজ্জামান ডিপটি, সুজন প্রসাদ, অমিত কুমার সাহা ডাবলু, হুমায়ুন কবির টিটু, শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।