জামিনে মুক্ত আসামীকে আটকের একদিন পর ঘুষের টাকা না পেয়ে ইয়াবা দিয়ে আদালতে সোপর্দ

 ৪ ডিসেম্বর ২০১৭ সোমবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন    
মোস্তাফিজুর রহমান,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
হত্যা মামলায় জামিনে মুক্ত থাকা দুই সহোদরকে জনসমাবেশ থেকে গ্রেফতারের পর থানা হেফাজতে থাকাবস্থায় ঘুষের টাকা না পেয়ে পূনরায় অন্যস্থান থেকে একদিন পর ইয়াবাসহ আটক দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জ সদর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সোমবার সকালে সিরাজগঞ্জ বাজার ষ্টেশন এলাকায় একটি পত্রিকা এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন গ্রেফতারকৃত আসামী আব্দুল হাকিমের স্ত্রী শাবানা পারভীন। 
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সদর উপজেলার বাহুকা গ্রামের পিতা-পূত্র হত্যা মামলার আসামী তার স্বামী আব্দুল হাকিম ও ভাসুর শরিফুল ইসলাম জামিনে মুক্ত ছিলেন। গত ১৮ অক্টোবর দুপুরে বাহুকা বাজারে একটি ৭/৮শত লোকের একটি সমাবেশ থেকে হাকিম ও শরিফুলসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেন সদর থানার উপ-পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা। ওইদিন বিকেলেই বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ও অনলাইন মিডিয়ায় জোড়া খুনের মামলার তিন আসামী গ্রেফতার শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। পরদিন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় গ্রেফতারের ছবিসহ সংবাদটি প্রকাশিত হয়। 
ওইদিনই সন্ধ্যায় এসআই গোলাম মোস্তফাকে হাকিম ও শরিফুলের জামিনের কাগজপত্র দেখিয়ে তাদের ছেড়ে দিতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি তাদের মুক্তির জন্য ৬০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন। ওই টাকা না দেয়া হলে তাদের ইয়াবাসহ মাদক মামলায় দিয়ে আদালতে চালান দেয়ার হুমকি দেন। ঘুষের ৬০ হাজার টাকা দিতে না পারায় ১৮ অক্টোবর রাতে তাদের থানা হেফাজতে রাখা হয়। একদিন পর ১৯ অক্টোবর বিকেল ৩টায় সদর উপজেলার ভেওয়ামারা বাজার থেকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে উল্লেখ করে সন্ধ্যায় তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের দায়ের করা মামলায় বাদী এসআই গোলাম মোস্তফা উল্লেখ করেন, ভেওয়ামারা বাজারে ইয়াবা বেচাকেনার সময় ৬৭ পিস ইয়াবাসহ হাকিম ও শরিফুলকে আটক করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা মাদক মামলা থেকে আসামীদের অব্যাহতি প্রদানের দাবী জানান তিনি। 
এ বিষয়ে উপ-পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে জোড়া খুন মামলা ছাড়াও একাধিক মামলা রয়েছে। তাদেরকে ইয়াবাসহ আটকের পরই মাদক মামলা দেয়া হয়েছে। থানা হেফাজতে আটকের পর ২৪ ঘন্টা থাকার কিভাবে ইয়াবাসহ চালান হলো এমন প্রশ্নে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে বলেন।