ঢাকাই ছবির আইটেম-কন্যারা

 ৭ ডিসেম্বর ২০১৭ বৃহ্সপতিবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন    

অনলাইন ডেস্কঃ

অঞ্জন দত্ত দুষ্টু গানের প্রয়োজন বুঝতে পেরে গীটারে সুর তুলে একসময় গেয়ে উঠেছিলেন-‘একটা দুষ্টু গানের সিন লেখা হবে দুষ্টু গানের সীন...। ’ তার সঙ্গে সহমত পোষণ করে যেন বলিউড, টালিউড ছবির পথ ধরে ইদানীং বাংলা ছবিতেও ফর্মুলার বাইরে আইটেম সং নামে নতুন এক বিনোদন যোগ হয়েছে। ছবি মানেই এখন একটা রগরগে আইটেম সং লাগবেই; তাও আবার রেওয়াজ দেশের তারকা অভিনেত্রীদের দিয়ে করানোর। বাণিজ্যিক ধারার প্রতিটি ছবিতে এখন আইটেম সং অবধারিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্মাতা, প্রযোজকসহ সিনেমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই এখন মনে করেন, বাংলাদেশি দর্শকদের ৮০ ভাগ সিনেমা হলে যায় শুধু আইটেম সং উপভোগ করার জন্যই। বাংলা ছবির আইটেম সংয়ে ইদানীং যারা পারফর্ম করছেন তাদের বেশির ভাগই বড় বড় তারকা। বলিউডের আইটেম সংয়ের হাওয়া যেন জোরেশোরেই বাংলাদেশের ছবিতেও লেগেছে। মৌসুমী, ববি, পরীমণি, নুসরাত ফারিয়া, মাহি, অপুর মতো নায়িকাদের পাশাপাশি বাংলা আইটেম সংয়ে পারফর্ম করেছেন দ্বিতীয় সারির বিপাশা কবির, দিপালী, তানিয়া রিতু, চমক তারার মতো নায়িকারা। ছবির বাজেটের কারণে এখন অনেক নির্মাতা কৌশল করে বড় তারকাদের নিয়ে আইটেম গান করে সেই ছবি পোস্টারে ব্যবহার করে ছবির গুরুত্ব এবং কাস্টিং ভ্যালু বাড়িয়ে নেন। একজন নায়িকাকে আইটেম গানের জন্য সম্মানী দেওয়া হয় অনেক কম। এদিকে সুড়সুড়ি আর চুটুল কথার খুল্লাম খুল্লা আইটেম গান রীতিমতো ভাইরাসের মতো সিনেমাপাড়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক হারে।

সিনেমা ‘হিট’ করাতে দুষ্টু আইটেম গানের চেয়ে সহজ তরিকা আর নেই যেন সব নির্মাতার কাছে। বাংলায় আইটেমের অনুপ্রবেশ করে নব্বই দশকের শেষের দিকে। এরপর ঢাকাই সিনেমায় শুরু হয় ভয়াবহ অশ্লীলতা। পরে অবশ্য সেটি খানিকটা কমতে শুরু করে ২০০৭ সালের পর। তবে বলিউডের অনুকরণে বাংলাদেশের সিনেমার এই গানে অশ্লীলতাই থেকে যায়। আইটেম কন্যার সংক্ষিপ্ত পোশাক, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, গানের অরুচিকর কথা ও ইঙ্গিতপূর্ণ সুরে ভরপুর বাংলা সিনেমার গানগুলো। বাংলা সিনেমায় মূল নায়িকার পাশাপাশি শুধু আইটেম গানে নাচ করার জন্য রয়েছে কিছু আইটেম-কন্যা। এদের মধ্যে সিন্ডি রাউলিং, বিপাশা কবির, তিথি কবির, মিতু, নায়লা নাঈম, সাদিয়া  আফরিন, শিরিন শীলা, মিমো প্রমুখ। সিন্ডি রাউলিংকে ‘চোরাবালি’, ‘কমন জেন্ডার’ ও ‘কিস্তিমাত’ ছবিতে দেখা গেছে। অন্যদিকে আরেক পেশাদার আইটেম-কন্যা বিপাশা কবির এখন নায়িকার তকমা গায়ে লাগিয়েছেন। তন্ময় তানসেন পরিচালিত রানআউট ছবিতে আইটেম-কন্যা হিসেবে নেচেছেন নায়লা নাঈম। অন্যদিকে সম্প্রতি ‘চল পালাই’ ছবিতে নায়লা একটি আইটেম গানে পারফর্ম করেছেন। আলভী আহমেদের ছবি ইউটার্ন-এ নেচেছেন র‌্যাম্পের মডেল রুমা। মূলধারার নায়িকাদের মধ্যে অনেকেই নেচেছেন আইটেম গানে। এর মধ্যে ববি, সিমলা, মাহিয়া মাহি, পরীমণি, মৌসুমী হামিদ, হ্যাপিসহ আরও কিছু নাম। এর আগে বসগিরি-টু ছবিতে নুসরাত ফারিয়া ‘আল্লাহ মেহেরবান’ করে সমালোচিত হয়েছিলেন। অনন্য মামুন তার নতুন ছবি ‘আমি তোমার হতে চাই’তে নাচালেন বলিউডের আইটেম গার্ল রাখী সাওয়ান্তকে। এ পর্যন্ত তিন সিনেমার আইটেম গানে দেখা যায় নায়িকা মাহিয়া মাহিকে। সবচেয়ে বেশি আলোচিত-সমালোচিত হয় ‘অগ্নি-২’র গান ‘ম্যাজিক মামনি’। ‘বাজে ছেলে-দ্য লোফার’ ছবিতে দিপালী বিভিন্নভাবে নিজেকে অশ্লীলভাবে উপস্থাপন করেছেন বিভিন্ন গানে। ‘ধূমকেতু’র আইটেম গান ‘মাঝে মাঝে আসি’ নিয়ে পর্দায় একসময় হাজির হয়েছিলেন নাজনীন আক্তার হ্যাপী। দীপংকর দীপন পরিচালিত বিগ বাজেটের ছবি ‘ঢাকা অ্যাটাকে’ চিত্রনায়িকা লামিয়া মিমো ও নবাগত চিত্রনায়ক জন পারফর্ম করেছেন একটি আইটেম গানে। তানজিল আলমের কোরিওগ্রাফিতে ‘টিকাটুলির মোড়’ শিরোনামের গানটিতে নায়িকা মিমো পর্দায় হাজির হন সম্পূর্ণ ভিন্ন লুকে। এতকিছুর পরও ঢাকাই ছবির অনেক পরিচালক বা প্রযোজকের দৃষ্টিকোণ থেকে আইটেম গান কিন্তু মন্দ কিছু নয়। তবে পরিচ্ছন্ন ছবি ‘সুতপার ঠিকানা’র নির্মাতা প্রসূন রহমান মনে করেন, ছবিতে আইটেম সং ব্যবহার করা রীতিমতো একটা ক্রাইম।