বাল্য বিয়ে বন্ধ করে মেয়েটির পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন ডিসি

 ২৫ মে ২০১৮ শুক্রবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

ফরিদপুরের কানাইপুর ইউনিয়নের ভাটি কানাইপুর গ্রামের ৮ম শ্রেনীর স্কুল ছাত্রী তুহিনা আক্তার (১৪) এর বাল্য বিয়ে বন্ধ করে তার সমস্ত পড়ালেখার খরচের দায়িত্ব নিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া।

বৃহস্পতিবার রাতে তুহিনা আক্তারের বাবা-মা জোর করে বিয়ে দেবার জন্য নিয়ে যায় কানাইপুর বাজার এলাকার কাজী হুমায়ুন কবিরের কাছে। হুমায়ুন কবির বাল্য বিয়ে পড়াতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিয়েতে মেয়ের সম্মতি আছে কিনা তা জানতে চান। 

তুহিনা আক্তার জানান, তার পড়ালেখা বন্ধ করে দিয়ে বিয়ে দেবার জন্য এনেছেন। তাৎক্ষনিক কাজী জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবহিত করেন। এ ঘটনা জানার পর জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ সাইফুল হাসান ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট হাসান মোঃ হাফিজুর রহমানকে পাঠান।

ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা তুহিনা আক্তার ও তার বাবা-মাকে দেখতে পান। উপস্থিত ম্যাজিষ্ট্রেটদের জিজ্ঞাসাবাদে তুহিনা আক্তারের বাবা সুরুজ মিয়া ও মা সাহিদা বেগম বলেন, দরিদ্রতার কারনে মেয়েকে তারা আর পড়ালেখা করাতে পারছেন না। পড়ালেখার জন্য যা খরচ তা তারা যোগাতে পারছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে পড়ালেখা বন্ধ করে বিয়ে দিচ্ছিলেন। বিষয়টি ম্যাজিষ্ট্রেটদ্বয় জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন। জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া স্কুল ছাত্রী তুহিনা আক্তারের পড়ালেখার সমস্ত ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেবার কথা জানান। এছাড়া তিনি তুহিনা আক্তারের সার্বক্ষনিক খোঁজ-খবর নিতে স্থানীয় ইউপি মেম্বার, স্কুলের শিক্ষককে দায়িত্ব দেন।

বৃহস্পতিবার রাতেই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও স্কুল শিক্ষকের জিম্মায় তুহিনা আক্তারকে তার পরিবারের কাছে তুলে দেয়া হয়। তুহিনা আক্তারের বাবা-মায়ের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা নেয়া হয়। 

জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া জানান, অভাব-অনটনের কারনে একটি মেয়ের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাবে এবং এ কারনে তাকে বাল্য বিয়ে দেয়া হবে তা মেনে নেয়া যায় না। আমি বিষয়টি জানার পর ম্যাজিষ্ট্রেট পাঠিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছি। মেয়েটি যেহেতু দরিদ্র পরিবারের সন্তান সেহেতু তার পড়ালেখার সমস্ত দায়িত্ব আমি নিয়েছি। মেয়েটি যাতে পড়ালেখা করে আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে সেজন্যই আমার এ চেষ্টা।