কেউ মনে রাখেনি মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তকে

প্রবাসী বাংলা টিভি ।। ২৭ জানুয়ারি ২০১৬, বুধবার ** ১৪ মাঘ ১৪২২ 

মো:আরিফ হোসেন.বরিশাল ব্যুরো: নিরবে নিভৃতে কেটে গেল দানবীর ও শিক্ষানুরাগী মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তের ১৬০তম জন্ম জয়ন্তী। অশ্বিনী কুমার দত্ত প্রতিষ্ঠিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও জন্ম জয়ন্তী পালিত হয়নি তার। সকল প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষকরা প্রতিবেদককে নানা ধরনের অযুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে গেছেন বিষয়টি। তিনি ভীষণ শিক্ষা অনুরাগী হওয়ায় শিক্ষা ক্ষেত্রে ছিল তার ব্যাপক উদারতা। যার ব্যাপ্তিতে নিজের সম্পত্তিস্থলে তিনি গড়ে তুলেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অশ্বিনী কুমার দত্ত ১৮৫৬ সালের ২৫ই জানুয়ারী বরিশালের পটুয়াখালী মহকুমার শহরে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম ব্রজমোহন দত্ত ও মাতার নাম প্রসন্নময়ী দেবী। তার বাবা ছিলেন সাব জজ। ১৯২৩ সালে  মাত্র ৬৭ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত  শিক্ষা প্রসারে তিনি যে কাজ করে গেছেন তা আজীবন মনে থাকবে বাংলার মানুষের। শিক্ষা ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি নিজের বাবার নামে বরিশাল নগরীর কালিবাড়ি রোডস্থ ব্রজমোহন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন দক্ষিনাঞ্চলের অক্সফোর্ড খ্যাত ব্রজমোহন কলেজ। এছাড়া বাটাজোরে নিজের শৈশবের সম্পত্তিও উইল করে যান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে আর যার প্রেক্ষিতে বাটাজোর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় গড়ে উঠে। এদিকে বর্তমানে অবস্থিত সরকারী বরিশাল কলেজও নিজের বসত বাড়ি ছিল এবং নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলও ছিল তার সম্পত্তি। সবই তিনি দান করে গেছেন শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির খাতিরে। তবে তার অসামান্য কৃতিত্ব সবই ভুলে গেছেন এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। কেউ বলছে মনে ছিল না, ব্যস্ততায় ভুলে গেছি আরো নানান কথা। তবে যার কারনে দক্ষিনাঞ্চলে আজ এত শিক্ষার প্রসার তাকে ভুলে তারা নানা কাজে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন। সুশীল সমাজের লোকজন বলছে অশ্বিনী কুমার দত্তের নামের আগে শুধু শুধু মহাত্মা উপাধিটি যুক্ত করা হয়নি যুক্ত করা হয়েছে তার নানা গুনের কারনে। আর আজকে যার জন্য হাজার হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরাই ভুলে গেছেন অশ্বিনী কুমারকে এই কথাটা মানতে পারছি না। জানা গেছে, মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তের ১৬০ তম জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে শুধু বিএম কলেজের সাংস্কৃতিক সংগঠন উত্তরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এছাড়া কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলো তার জন্মদিন উপলক্ষ্যে কোন অনুষ্ঠান তো দূরে থাক তার প্রতিকৃতিতেও কেউ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাও জানায়নি। এ বিষয়ে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান জানান, পারিবারিক ঝামেলার কারণে এবারে কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারিনি। এক্ষেত্রে দুঃখ প্রকাশ করলেও আমি যে একটা ভুল করেছি তা স্বীকার করছি। সরকারী ব্রজমোহন কলেজের অধ্যক্ষ স.ম ইমানুল হাকিমের কাছে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলে তিনি এড়িয়ে যান।