ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ঝালকাঠির মোহাম্মদ আলী খান এখন একজন ক্লান্ত সৈনিক

প্রবাসী বাংলা টিভি ।। ৩০ জানুয়ারি ২০১৬, শনিবার ** ১৭ মাঘ ১৪২২ 


মো:আরিফ হোসেন :বরিশাল ৫২’র ভাষা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ঝালকাঠির ছাত্র ছাত্রীরাও সেদিন বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষার দাবীতে রাস্থায় নেমে ছিল। তাদের আনেকেই আজ নেই। যে দু’ এক জন ভাষা সৈনিক আছেন বয়সের ভারে তারাও নুহ্যমান। হারিয়ে যাওয়া দিন গুলোর কথা স্বরন করে আবেগ তারিত হয়ে পরেন তারা এখনো। অনেকে পরন্ত বিকেলের ডুবন্ত সূর্য়্যরে ন্যায় ম্লান হয়ে পরেছেন। এ জগতের জীবন সংসার ছেড়ে শুধু স্মৃতি নিয়ে পরে আছেন বিছানায়। এমনই একজন ভাষা সৈনিক ঝালকাঠির কৃতী সন্তান মোহাম্মদ আলী খান। তিনি এখন এ পৃথিবীর সবকিছু ছেড়ে জীবন যুদ্ধের সন্ধিক্ষণে নিজ বাসভবনে একান্তে সময় কাটাচ্ছেন। আপনজনরা তার জন্য অস্থির। জীবনের শেষ প্রান্তে ভাষা সৈনিকের সেবায় নিয়োজিত থাকলেও আপনজনদের আশা তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।
এই কিছুদিন আগেও তিনি শারীরিক দূর্বলতার কারনে বাসার বাহিরে বের হতে না পারলেও সামনে দাড়িয়ে থাকেতন। সময় কাটাতেন বই পড়ে। নাতি নাতনীদের সাথে কথা বলে। চোখের দৃষ্টিতে সবাইকে না চিনতে পারলেও ছালাম দিলে উত্তর দিতেন। এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষা সৈনিক মোহাম্মদ আলী খান এখন জীবন নিয়ে যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পরেছেন।শাষক চক্রের রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে ৫২’র ১৭ ফেব্রুয়ারী ঝালকাঠিতে স্কুল ছাত্রদের নিয়ে ৯ সদস্যের সংগ্রাম পরিষদ গঠিন করা হয়। শহীদদের রক্তে রঞ্জিত যখন রাজপথ তখন এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন মোহাম্মদ আলী খান। ঐ সময় ঝালকাঠি সরকারী বালক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্র ছিলেন তিনি। ২১ ফেব্রুয়ারী ঢাকায় গুলি বর্ষণের খবরে ২২ ফেব্রুয়ারী  তার নেতৃত্বে  সকালে এখানে উত্তেজিত ছাত্ররা রাস্তায় নেমে পরে। আন্দোলনের দিক নির্দেশনা এবং কর্মসূচি বাস্থবায়নের লক্ষ্যে গোপন বৈঠক করেন তারা। বৈঠকের জন্য বেছে নিয়ে ছিলো ঝালকাঠির সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের বিপরীতে সুগন্ধা নদী তীরবর্তি সংলগ্ন লিচু বাগান। তিনি খুজে ফিরেন সেই দিনের ছাত্রদের সাথে বর্তমান ছাত্র সমাজের নীতি নৈতিকতার পার্থক্য। অরাজকতা আর দূর্নীতি আক্রান্ত বর্তমান রাজনীতি তিনি ঘৃনা করেন। ৮ ফাল্গুন ভাষা  দিবস পালন  না করে  ২১ফেব্রুয়ারী  দিনটি  পালনেও  আপত্তি  তার। যে বাংলা ভাষাকে  ফিরে  পাবার স্বপ্ন দেখে ছিলেন সেই  ভাষা পাননি বলে তার ধারণা। তাকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে ঝালকাঠি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার ও দৈনিক দূরযাত্রা পত্রিকার সহ সম্পাদক দুলাল সহা বলেন, মোহাম্মদ আলী খান বঙ্গবন্ধুর সাথে সরাসরি কথা বলতেন। তার বিচক্ষণতা ও বীরত্বের তুলনা হয়না। তিনিই প্রথম ঝালকাঠিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে পাকসেনা রাজাকারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরার পরিকল্পনা করে ছিলেন। হয়ত আমরা তার মূল্যায়ন করতে পারি নাই। তাই এরকম একজন মানুষকে জীবনের শেষ মূহুর্তে অনেক হতাশা নিয়ে কাটাতে হচ্ছে। এটাই বাস্তবতা এবং আমাদের ব্যার্থতা। যা অস্বিকার করারা কোন উপায় নেই। ইতিপূর্বে একান্ত সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ আলী খান বলে ছিলেন ভাষা আন্দোলন সৈনিকদের সরকারি ভাবে মূল্যায়ন করা উচিত ছিল। কিন্তু তা হয়নি। দেশের স্বার্থে আমারা কোন কিছু মানতামনা। সে জন্য যাই করতে হবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ঝাপিয়ে পরতাম। আপোষ কি জিনিষ বুঝি নাই। আমাদের সেদিন বিভ্রান্ত করে আন্দোলন ভিন্ন পথে নিয়ে যাবার ষড়যন্ত্র হয়ে ছিল। কিন্ত পথভ্রষ্ট করতে পারেনি ষড়যন্ত্রকারিরা। ভাষা সৈনিকদের সংগ্রাম ইতিহাসের প্রাথমিক সংগ্রাম। সেই ইতিহাসের সঠিক মূল্যায়ন থাকা উচিত ছিল। ভাষা সৈনিকদের ইতিহাসে নাম রাখার উদ্যেঠস নেয়া উচিত।