শ্রীমঙ্গল কালীঘাট লেইকের সৌন্দর্য ভিন্ন এক জগৎ:

  ৩  আগস্ট  ২০১৬, মঙ্গলবার  সহদেখতে ক্লিক করুন

তোফয়েল আহমেদ পাপ্পু , শ্রীমঙ্গল : বাংলাদেশের সুনামধন্য পর্যটন নগরী চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলের সৌন্দর্যের অন্ত নেই। দেশে বিদেশে সুনাম ছড়িয়ে আছে মৌলভীবাজারের এই শ্রীমঙ্গল। উপজেলার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্য। উচু উচু টিলার পর টিলা আর চা বাগান ঘেরা সবুজেল হাতছানি প্রকৃতিপ্রেমীদের নজর কারে। রয়েছে লাওয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বাইক্কা বিল, চা কন্যা, বিটিআরআই, বদ্ধভূমি ৭১ দেখে বিমোহিত হন পর্যটকরা। এজন্য দিন দিন বাড়ছে এখানে পর্যটকদের আনাগোনা। চা বাগান ঘেরা প্রকৃতি কন্যা শ্রীমঙ্গলের প্রতিটি চা বাগানেই রয়েছে অবাককরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। তার একটি কালীঘাট চা বাগানের সীমান্তবর্তী এই লেইক। শহর থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের পথ কালীঘাট চা বাগান। কালীঘাট বিজিবি সীমান্ত ফাড়ির কাছাকাছি সীমান্তঘেষা এ লেকটি। যাওয়ার পথে চোখে পড়বে চা বাগানের অবারিত সবুজের হাতছানি। তারপর রাবার বাগানের ভিতরে হাটতে হাটতে পৌছে যাবেন বালিশিরা লেইকে। লেইকের স্বচ্ছজল, ফোটে থাকা শাপলা ফুল ও সড়ালির ভেসে বেড়ানো আপনাকে মুগ্ধ করবেই। এখানে রাবার বাগান, আগর বাগান ও সবুজের সিড়ি বিছানো চা বাগান ও আনারস বাগানের সৌন্দর্য আপনার ভ্রমনে এনে দেবে অনাবিল সজীবতা। টিলার উপরে উঠে যখন চোখ মেলে তাকাবেন, তখন আপনি এক ভিন্ন জগতে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সারি সারি পাহাড় আপনাকে চোখ ফিরাতেই দেবে না। ভ্রমনকালে এখানে ঘোরতে আসা মহসিন হোসেন মিল্লাদ ও নাসির উদ্দীনের এর সাথে কথা বললে তারা জানান, শ্রীমঙ্গলের বেশিরভাগ পর্যটন এলাকাই ঘোরা হয়ে গেছে। কিন্তু এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভূলবার নয়। কালিঘাট চা বাগানের এ লেইকটি মনে হয় স্বপ্ন দিয়ে কেউ তৈরী করেছে। কথা হয় ভারতের পাঞ্জাবে উচ্চ শিক্ষায় অধ্যয়নরত সিলেটের অভিজিত মোদকের সাথে; তিনিও অভিভূত হন এই সৌন্দর্যে। যারা প্রকৃতি ভালোবাসেন। ভালোবাসেন চা বাগান, বন, টিলা আর পাহাড়ি ছড়া। তাদের জন্যই শ্রীমঙ্গল এখন অপেক্ষারত। বাগানের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান অন্যান্য পর্যটন স্থানে লোকজন বেশি আসলেও তুলনায় এই লেইকটিতে প্রতিদিন দু-চারজন বেড়াতে আসেই। নানান রকম সৌন্দর্য নিয়ে শ্রীমঙ্গল এখন নিজেকে মেলে ধরে আছে। প্রকৃতির খেয়াল বুঝা বড়ই কঠিন। প্রকৃতিই আমাদের সবচেয়ে বড় অবলম্বন। কর্মজীবনের প্রচন্ড ব্যস্ততা, মানসিক চাপ প্রভৃতিতে আমরা ক্রমশই হাঁপিয়ে উঠি। প্রকৃতির কাছে আসলেই প্রাকৃতিক সচেতজতা হৃদয়কে স্পর্শ করে বড় আশ্চর্যজনকভাবে।