সিলেটের পাথর কোয়ারিতে মাটি চাপায় নিহত ৩ গোলেরগাঁওয়ে শোকের মাতম

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সিলেটের গোয়াইনঘাটের বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারিতে পাথর তোলারসময় মাটি চাপায় ৩ শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে। এই তিন শ্রমিকের ২ জনের বাড়ি সুনামগঞ্জে। নিহত ২ জনেরই বাড়ি সদর উপজেলার কাঠইড় ইউনিয়নের গোলেরগাঁওয়ে। এরা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। শুক্রবার দুপুরে গোলেরগাঁওয়ে গিয়ে দেখা গেছে নিহতদের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে নিহত অপর আরেক শ্রমিক হচ্ছে- নেত্রকোনার কোনাগাঁওয়ের নির্মল সরকারেরছেলে পরিমল সরকারনিহত শ্রমিকদের স্বজনরা জানান, সপ্তাহ খানেক আগে গোলেরগাঁওয়ের ৫ জন শ্রমিক সিলেটের বিছনাকান্দিতে পাথর কোয়ারিতে কাজ করতে যান। ঐ ৫ জনের ২ জন ছিলেন- গোলেরগাঁওয়েরওয়াতির আলীর ছেলে মো. তুলা মিয়া (২৮) এবং তার ভাতিজা নজির হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন (১৫)।বৃহস্পতিবার রাত ৯ টায় কিছু শ্রমিক ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তুলা মিয়া, জাকির হোসেনসহ কয়েকজন কাজ করতে যান পাথর কোয়ারিতে। রাত ১০ টা থেকে ২ টার মধ্যে কোন এক সময় এদের মাটি চাপায় মৃত্যু ঘটে। জাকির হোসেনের মা শাহানারা বেগম ছেলের মৃত্যুতে ভোর থেকেই কান্নাকাটি করছিলেন। শাহানারা বেগম বলেন, ‘ভোর রাতে তাকে মোবাইলে জানানো হয়েছে, তার ছেলে মাটি চাপায় মারা গেছে। সকালে অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে লাশ পাঠানো হয়েছে। সঙ্গে থাকা একই গ্রামের শ্রমিক এনামুল হক তাদের জানিয়েছেন কোয়ারির মালিক বশির মিয়া নিহতদের লাশ পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন’।তুলা মিয়ার ভাই কটই মিয়া ভাইয়ের লাশ দেখে বিলাপ করে কেঁদে কেঁদে বলেন, ‘আমিও বিছনাকান্দিতে কাজ করছিলাম। একটু দূরে থাকায় রাতে খবর পাইনি। ভোরে খবর পেয়ে ভাইয়ের কোয়ারিতে গিয়েজানলাম, সে মাটি চাপায় মারা গেছে, তার লাশ বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।’কটই মিয়ার পরিবারের সদস্যরা জানান, পুত্র তুলা মিয়ার মৃত্যুসংবাদ শুনে মা জায়মনা খাতুন সকাল থেকে বার বার মুর্ছা যাওয়ায় তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।ঘটনাস্থলে উপস্থিত কাঠইড় ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান বলেন,‘আমাদের এলাকার দরিদ্র মানুষদের টাকার লোভ দেখিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জের কিছু পাথর খেকো। শ্রমিকেরা অসেচতন থাকায় এদের মৃত্যুমুখে ঠেলে দিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদ লুটে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে কিছু মানুষ, আমরা এদের বিচার চাই’।গোয়াইনঘাট থানা পুলিশকে না জানিয়েই নিহতদের লাশ গোপনে বাড়ী পাঠানোয় ঐ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবং সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।পুলিশ সুপারের নির্দেশে সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ শুক্রবারদুপুর ২ টায়  গোলেরগাঁওয়ে পৌছে আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া লাশদাফন না করার জন্য নিহতদের পরিবারের সদস্যদের বলে আসেন।সুনামগঞ্জ সদর থানার সাবইন্সপেক্টর পবিত্র কুমার বলেন, বিছনাকান্দিতে মাটি চাপায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২জন গোলেরগাঁওয়ের এবং ১ জন নেত্রকোনার কোনাগাঁওয়ের নির্মল সরকারের ছেলে পরিমল সরকার।পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, গোলেরগাঁওয়ের নিহত দেরময়না তদন্ত করেই দাফন সম্পন্ন হবে।শনিবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিহত দুই শ্রমিকের লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।