ভারতীয় চোরাই মোটরসাইকেলে সয়লাব সিলেট

 ০৭ সেপ্টেমবার ২০১৭, বৃহস্পতিবার সহ দেখতে ক্লিক করুন


ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা সিলেট। সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় রয়েছে ভারতে প্রবেশের একাধিক সড়ক পথ।

আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সীমান্তে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আসছে চোরাই মোটরসাইকেল।  

সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলো দিয়ে এসে এগুলো ছড়িয়ে পড়ছে পুরো জেলায়। আর দিন দিন এ সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এসব চোরাই মোটরসাইকেলের বেশীরভাগই ভারতীয় কোম্পানির।

চোরাই পথে আনা বেশীরভাগ মোটর সাইকেলেরই নাম্বার প্লেইটের স্থলে অন-টেস্ট কিংবা আবেদনকৃত ইত্যাদি নানান ধরনের লেখা থাকে বলে জানা গেছে। এছাড়া অনেকে নম্বর প্লেইটের পরিবর্তে বিভিন্ন পেশা কিংবা প্রতিষ্ঠানের নামও ব্যবহার করে থাকেন।  

সিলেট নগরীর ভেতরে এমন ধরনের লেখা মোটর সাইকেলের ব্যবহার মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কোনটি বৈধ কিংবা কোনটি চোরাই তা বুঝা মুশকিল।  

জানা যায়- সিলেটের বিয়ানীবাজার, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে এসব মোটর সাইকেল দেশে প্রবেশ করে। এগুলো দেশে আনা থেকে শুরু করে বিক্রি করা পর্যন্ত সবকিছুই তদারকি করে একটি সিন্ডিকেট।  

আর দেশের শোরুমে মোটরসাইকেলের দামের তুলনায় এসব চোরাই মোটরসাইকেলের দাম অনেক কম হওয়ায় কমবয়সী ক্রেতারাও এসব কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন।  

আর সরকারী নিবন্ধন না থাকায় এগুলো দিয়ে সংগঠিত হচ্ছে চুরি, ছিনতাইসহ নানান ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। আর এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও ব্যর্থ হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সিলেট নগরীর এক ব্যবসায়ী জানান, সিলেটের বিভিন্ন সড়কে শত শত ভারতীয় চোরাই মোটর সাইকেল রয়েছে। এগুলোর কোন সরকারি নিবন্ধন নেই। এ সকল গাড়ি বেপরোয়া চলাচলসহ জনদুর্ভোগের সৃষ্টি করছে। এছাড়া বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথেও জড়িত এসব চোরাই মোটর সাইকেলেই চালকরা।

তবে এসব চোরাই মোটর সাইকেল ধরতে চেষ্টা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গেল বুধবার সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়ন থেকে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা দামের একটি মোটর সাইকেলসহ একজনকে আটক করেছে র‌্যাব।

এ ব্যপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুছা বলেন- নম্বরবিহীন ও চোরাই মোটর সাইকেল ধরার জন্য প্রায়ই অভিযান চালানো হয়। অবৈধ মোটর সাইকেলের দৌরাত্ম্য রোধে এ অভিযান জোরদার করা হবে।  

তিনি আরো বলেন- এসব চোরাই মোটর সাইকেল যেখানেই পাওয়া যাবে সেটি চালকসহ আটক করা হবে। এসব ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।