তানোরের জঙ্গী আস্তানার অভিযান

 ১২ জুন ২০১৭, সোমবার সহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালার পাঁচন্দর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়ায় ঘেরাও করে রাখা বাড়িটির সদস্যরা গ্রামের কারও সঙ্গে সেভাবে মিশতেন না। তারা প্রতি বছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগেই ঈদ করতেন। রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী এসব তথ্য জানিয়েছেন।  

রবিবার রাত ১২টার দিকে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও রাজশাহী জেলা পুলিশ ওই বাড়িটি ঘিরে ফেলে। রাত আড়াইটার দিকে এ সময় ওই বাড়ি থেকে সবাইকে বের হয়ে আসতে বলা হয়। পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ওই বাড়ি থেকে তিনজন বের হয়ে আসে। পরে সকালে নারী ও শিশুসহ আরও ৯ জনকে বাড়ি থেকে বের করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।  

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী জানান, আটক ইব্রাহীম, ইসরাফিল ও রবিউল তিনজনই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।  ইসরাফিল আলম মুন্ডুমালা কামিল মাদরাসার ছাত্র ছিলেন। তিনি বর্তমানে গ্রামে হোমিও চিকিৎসা করতেন। ভিন্নমতের কারণে গ্রামের কারো সঙ্গে এই পরিবারটি সেভাবে মিশতো না। তারা প্রতি বছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগেই ঈদ করতেন।

গভীর রাতে রাজশাহী পুলিশের সহায়তায় প্রথমে বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। এরপর মাইকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালে তিন জঙ্গি আত্মসমর্পণ করে। সকালে ওই তিন জঙ্গির পরিবারের নারী-শিশুসহ ৯ জন পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

সেখান থেকে নব্য জেএমবির তিন সদস্যকে আটক ছাড়াও উদ্ধার করা হয়েছে দুইটি সুইসাইডাল ভেস্ট, ১টি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি। আটক ব্যক্তিরা হলেন নব্য জেএমবির সদস্য ইব্রাহীম হোসেন, ইস্রাফিল হোসেন ও রবিউল ইসলাম। এদের মধ্যে ইব্রাহীম ও ইস্রাফিল সহোদর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুমিত চৌধুরী।

এছাড়া এখনও ওই বাড়িটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ির ভিতরে আরও বিস্ফোরক আছে। তাই এগুলো উদ্ধার ও নিস্ক্রিয় করার জন্য ডিএমপির বোম্বা ডিসপোজাল ইউনিটকে ডাকা হয়েছে। দুপুরের মধ্যে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছালে সেগুলো উদ্ধার ও নিস্ক্রিয় করার পর অভিযান সমাপ্ত করা হবে। বর্তমানে ওই বাড়ির এক কিলোমিটার এলাকার মধ্যে জনসাধারণের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। লাল নিশান দিয়ে আশপাশে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।   

সোমবার রাত দুইটার দিতে তিনজনকে গ্রেফতারের পর নারী ও শিশুসহ আরও ৯ জনকে সোমবার সকালে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সবাইকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে সকালে পুলিশ দ্বিতীয় দফায় ওই বাড়িতে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে। তবে ওই বাড়িতে আর কাউকে পাওয়া যায়নি। এই নিয়ে ওই বাড়ি থেকে মোট ১২ জনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হলো।  

এর মধ্যে আগে আটক তিন ছাড়া অন্যরা হলেন- ওই বাড়ির মালিক গৌরাঙ্গপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রমজান আলী (৫৪), তার স্ত্রী আয়েশা বিবি (৫০), বড় ছেলে ইব্রাহিম হোসেনের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (২৮), তার তিন মেয়ে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী তামান্না খাতুন (৮), তাসকিরা খাতুন (৪), ছয় মাসের শিশু তানসিরা, ছোট ছেলে ইসরাফিল আলমের স্ত্রী হারেছা খাতুন (২১), রমজান আলীর মেয়ে হাওয়া খাতুন (২০) ও তার তিন মাসের শিশু। এর আগে আটক তিনজন হলেন রমজান আলীর ছেলে ইব্রাহিম হোসেন (৩৫) ও ইসরাফিল আলম (২৬) ও জামাতা রবিউল ইসলাম (২৫)। তারা নব্য জেএমবির সদস্য। তাদের তানোর থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁঞাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আছেন। তিনি জানান, রবিবার গভীর রাতে অভিযানের সময় ওই বাড়ি থেকে দুইটি সুইসাইডাল ভেস্ট, পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ একটি ৭.৬২ মডেলের বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়েছে।