তানোরে জঙ্গী আস্তানা হতে অস্ত্রসহ ১২ নারী-শিশু আটক

 ১২ জুন ২০১৭, সোমবার সহ দেখতে ক্লিক করুন

টুটুল রবিউল :

রাজশাহীর তানোর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। সেখান থেকে শিশুসহ ১২জন আটক করেছে পুলিশ। ওই বাড়ি থেকে দুইটি সুইসাইডাল ভেস্ট, একটি বিদেশী পিস্তল (৭.৬২ মডেলের এমএম), পাঁচ রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। গতকাল রোববার দিবাগত রাতে বগুড়া পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও তানোর থানা-পুলিশের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান শুরু হয়। রাতেই ইব্রাহীম, ইসরাফিল ও রবিউল তিনজনকে আটকের পর তাদের তানোর থানায় নেয়া হয়েছে। তারা (নব্য জেএমবি) জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। পুলিশের দাবি, ওই বাড়িতে দুটি সুইসাইডাল ভেস্ট ও অস্ত্র রয়েছে। ঢাকা থেকে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে এলে ফের সেগুলোর সন্ধানে অভিযান চালানো হবে। দুপুরের মধ্যে তাদের ঘটনাস্থলে পৌঁছার কথা রয়েছে। তারা এলেই সুইসাইডাল ভেস্টসহ অন্য অস্ত্র উদ্ধার ও নিস্ক্রিয় করার পর অভিযান সমাপ্ত করা হবে। বর্তমানে ওই বাড়ির এক কিলোমিটার এলাকার মধ্যে জনসাধারণের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। লাল নিশান দিয়ে আশপাশে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঞা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তিনি জানান, ওই আস্তানা থেকে জঙ্গি সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। জঙ্গি সন্দেহে আটক ওই তিন ব্যক্তি হলেন তানোর উপজেলার পাঁচন্দর এলাকার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের হোমিও চিকিৎসক ইসরাফিল আলম (২৬), তার বড় ভাই ইব্রাহিম(৩৪) ও ভগ্নিপতি রবিউল ইসলাম (৩৫)। রবিউলের বাড়ি উপজেলার বনকেশর গ্রামে। এদের মধ্যে ইসরাফিল একজন হোমিও চিকিৎসক। তিনি বাড়িতে হোমিও চিকিৎসা দিতেন। মুন্ডুমালা কামিল মাদ্রাসা থেকে তিনি ফাজিল পাস করেছেন। ইব্রাহিম সার ব্যবসায়ী ও দেউলা মসজিদের ইমাম। আর তার ভগ্নিপতি রবিউল ইসলাম একজন কাঠমিস্ত্রি। আটক অন্যরা হলেন ইসরাফিলের বাবা রমজান আলী (৫৫)। তিনি তানোর গৌরাঙ্গপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। মা আয়েশা বেগম (৫০) গৃহিণী। ইব্রাহিমের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৩০)। তাদের তিন শিশু সন্তান। এর মধ্যে তামান্না (৮), তানসিকা(৪) ও তাসকিরা(৬ মাস)। এছাড়া রবিউলের স্ত্রী হাওয়া বেগম (২৩) ও তাদের তিন মাসের মেয়ে শিশু এবং ইসরাফিলের স্ত্রী হারেছা খাতুন। পুলিশ জানায়, রাত আড়াইটার দিকে কৌশলে ওই বাড়ি থেকে জঙ্গি সন্দেহে প্রথম তিনজনকে আটক করে। পরে সোমবার সকালে অন্যদের আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এখন বাড়িটি চারিদিক দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। অপেক্ষা করা হচ্ছে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের জন্য। তবে এলাকাবাসীদের তথ্য থেকে জানা গেছে, সহকারী স্কুল শিক্ষক হাজী রমজান আলীর পরিবারের লোকজন তেমন গ্রামের বাহির হতেন না। এমনকি ওই বাড়ির কোন নারী সদস্য বিয়ে বা ঈদেও তাদের বাড়ির বাহিরে দেখা যেত না বলে স্থানীয়না জানান।