ভালুকায় জাল কাগজ দিয়ে ভূয়া দলিল রেজিষ্ট্রি পঞ্চাশ কোটি টাকার বনভূমি আত্নসাত

 ১৭ জুলাই  ২০১৭,  সোমবার সহ দেখতে ক্লিক করুন

ইতি শিকদার, ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ

ময়মনসিংহের ভালুকায় সাব-রেজিষ্ট্রারকে ম্যানেজ করে জাল কাগজপত্র দিয়ে ১১ একর জমির সাব কবলা দলিল রেজিষ্ট্রি করে প্রায় পঞ্চাশ কোটি টাকা মূল্যের বনভূমি আতœসাতের পায়তারা করছে একটি প্রতারক চক্র। গত ২৩ এপ্রিল ২০১৭ইং তারিখে রেজিষ্ট্রিকৃত ৩৬৯১ নং সাফ কবলা দলিলের দাতা সিরাজুল ইসলাম ও গ্রহিতা রবিন টেক্ধসঢ়;্র (বাংলাদেশ) লিঃ এর পক্ষে- রবিন রাজন সারোয়ার এবং দলিলটি মোসাবিদা করেন সবজুল ইসলাম,সনদ নং -৬৩৯৪। প্রতারক চক্রটি উল্লেখিত দলিল দিয়ে ভালুকা ভূমি অফিসে পৃথক নাম খারিজের জন্য ২৮৫৯ নং মোকদ্দমায় আবেদন করলে ভূমি অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রের অস্তিত্ব না পেয়ে সহকারী কমিশনার ভূমি ভালুকা খারিজের আবেদনটি না মঞ্জুর করে দেন। সরকারী স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই বৃহৎ দলিল রেজিষ্ট্রির ঘটনা এখন টপ অব ভালুকায় পরিনত হয়েছে। সরেজমিন ও ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হবিরবাড়ী মৌজার ১০৯নং খতিয়ানটি বাজেয়াপ্তকৃত(ফরফিটেড) খতিয়ান ভূক্ত এবং ১৫৪ নং দাগটি বিজ্ঞপ্তিত বন ভূমির আওতাধীন। প্রতারক চক্রটি দলিল রেজিষ্ট্রির সকল কাগজপত্র দক্ষতার সাথে সৃজন করে। দলিলের দাতা সিরাজুল ইসলাম বিক্রিত জমির মালিকানা দাবি করতে গিয়ে নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৩০-০৪- ১৯৭০ সালে সাব কবলা রেজিষ্ট্রি কৃত একটি দলিল প্রদর্শন করেন, যা ভালুকা ভূমি অফিস জাল দলিল হিসেবে আখ্যায়িত করে। এই বিষয়ে জানতে চাইলে ভালুকা সহকারী কমিশনার ভূমি মোহাম্মদ আল জাকির জানান, রবিন টেক্ধসঢ়;্র (বাংলাদেশ) লিঃ এর পক্ষে- রবিন রাজন সারোয়ার যে নাম খারিজের আবেদন করেন সেখানে জাল কাগজপত্র প্রদর্শন ও ১৫৪ নং দাগে যৌথ জরিপে দখলকারের তালিকায় সিরাজুল ইসলামের নাম নেই এবং সরকারের স্বার্থ থাকায় খারিজের আবেদনটি না মঞ্জুর করা হয়েছে। ভূমি অফিসের রেকর্ডে দেখা যায় রবিন টেক্ধসঢ়;্র (বাংলাদেশ) লিঃ এর পক্ষে- রবিন রাজন সারোয়ার খারিজের যে আবেদনটি করেন সেখানে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা, খারিজি খতিয়ান এর যে সকল কাগজ পত্রের ফটোকপি জমা দিয়েছে তা জাল প্রমানিত হয় এবং হবিরবাড়ী মৌজায় এস এ ৪৫৩ নং খতিয়ান থাকা সত্বেও অপ্রয়োজনীয় ৪৫৩ নং খারিজি খতিয়ানের একটি ফটোকপি জমা দেয় যা সঠিক নয় বলে ভূমি অফিস দাবী করেন। দলিল রেজিষ্ট্রির ব্যাপারে ভালুকা সাব-রেজিষ্ট্রার শাহ জালাল মোল্লা বলেন দলিল রেজিষ্ট্রির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক মনে হওয়ায় দলিল রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে। ভালুকা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস থেকে মাত্র দুইশ গজের মধ্যে ভূমি অফিস থাকা সত্যেও ১১ একর জমির এতো বিশাল একটি দলিল রেজিষ্ট্রির পূর্বে কাগজপত্র গুলি ভূমি অফিস থেকে যাচাই করে নিতে পারতেন এই প্রশ্নের উত্তরে সাব- রেজিষ্টার শাহ জালাল মোল্লা বলেন ভূমি অফিস থেকে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়না। এলাকাবাসী জানান সিরাজুল ইসলাম নামে কোন ব্যাক্তি এই এলাকায় কোনদিন ছিলনা ।