কাজিপুরে যমুনায় মাছের আকাল জেলেরা হতাশ


 ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বৃস্হপতিবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন 

 সুজন সরকারঃ

যমুনা নদীতে মাছের মহা আকাল দেখা দিয়েছে। জেলেরা মাছ ধরার আশায় নদীতে জাল ফেলে কোনো মাছ না পেয়ে শূন্য হাতে তীরে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে জীবন ও জীবিকার তাগিদে এবং মহাজনদের দাদনের টাকা পরিশোধ করার চিন্তায় জেলে পরিবারগুলো প্রতিনিয়ত উৎকন্ঠার মধ্যে দিন যাপনের পাশাপাশি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সরজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার যমুনা নদী তীরবর্তী জেলেরা হাজার হাজার টাকা ব্যয় করে নৌকা ও জালসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে মাছ ধরার জন্য নদীতে চলে যান। এক বুক আশা নিয়ে চলতি ভরা মৌসুমে মাছ ধরে অর্থনৈতিক মুক্তির আশায় নদীতে নেমে মাছ না পেয়ে এখন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, এপ্রিল-মে এই ২ মাসে জাটকা, ছোট মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় জাল ও নৌকা মেরামতের জন্য প্রচুর টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। মাছ ধরে তা-পরিশোধ করার কথা থাকলেও মাছ না পাওয়ায় উল্টো দায়-দেনার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেনার টাকা পরিশোধ ও বেকার হয়ে পড়ায় অধিকাংশ জেলে পরিবার বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। ক্রমাগত লোকসান এবং দাদনের টাকার চিন্তায় জেলেরা সবদিক থেকেই সর্বস্বার্ন্ত হয়ে পড়েছেন। এদিকে নদীর কূলে সারি সারি নৌকা আর জেলেদের অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। জানা গেছে, মেঘাই, ঢেকুরিয়া, শুভগাছা, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, খাসরাজবাড়ী, শালগ্রাম, রঘুনাথপুর, মাজনাবাড়ী, চরগিরিশ, নিশ্চিন্তপুর চর এলাকারসহ বিভিন্ন মৎস্য ঘাটে দেশী মাছসহ ইলিশের কোনো দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। নাটুয়ারপাড়ার বিজয় হাওয়ালদার, শুভগাছার বিমল চন্দ্র হাওয়ালদার জানান, যমুনা নদীতে ইলিশ মাছ নেই বললেই চলে। যমুনা নদীতে জাল ফেলে কোনো মাছ না পেয়ে জেলেরা হতাশ হয়ে ফিরে আসছেন। মৎস্য ব্যবসায়ী কাশেম বেপারী জানান, এক সময়ে অত্র এলাকায় ইলিশসহ বিভিন্ন জাতের মাছ প্রচুর পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা এখন সোনার হরিণ। বাজারে ২-৪টি মাছ বিক্রির জন্য আনা হলে তার দাম আকাশ ছোঁয়া। দেশী মাছের পাশাপাশি ইলিশ মাছও তেমন পাওয়া যায় না। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কারেন্ট জালের ব্যাপক ব্যবহার ও জাটকা নিধন এবং  প্রশাসনের যথাযথ তদারকি না থাকার কারণে মৎস্য সম্পদ হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।