চুরির মামলায় চেয়ারম্যান পলাতক বিপাকে কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের মানুষ

 ০৯ জুলাই  ২০১৭,  রোববার সহ দেখতে ক্লিক করুন

অলোক কান্তি, মৌলভীবাজার :

বিজিএফের চাল চুরির মামলায় গ্রেফতার এড়াতে ৯দিন থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কুলাউড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নার্গিস আক্তার বুবলি। চেয়ারম্যঅন না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। ফলে বিপাকে পড়েছেন ইউনিয়নের সাধারন মানুষ। জরুরী প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদে এসে চেয়ারম্যানকে না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ী ফিরে যাচ্ছেন ভুক্তভূগিরা। ইউনিয়ন সার্টিফিকেট, জন্মনিবন্ধন সনদে স্বাক্ষর করাতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ চেয়ারম্যানের স্বামী ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ শাহাজাহান ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ায় তাকে গ্রেফতার করছে না পুলিশ।

সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগের দিন ২৫ জুলাই রাতে কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের দু’টি দোকান থেকে দু’দফা অভিযান চালিয়ে ১০ বস্তা ভিজিএফ চাল ও ১৩ টি খালি বস্তা উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার সময় ৩ জনকে আটক করলেও পুলিশ মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। পরে এনিয়ে শুরু হয় ব্যাপক তোলপাড়। ঘটনার ৪ দিন পর ২৯ জুন রাতে পুলিশ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নার্গিস আক্তার বুবলিকে প্রধান আসামী করে ৪ জনের নামে মামলা রেকর্ড করে। রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার তালিকাভুক্ত আসামী ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার জমির আলী, ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার ও দোকান মালিক মিলন মল্লিক এবং অপর দোকান মালিক সন্ন্যাসী নাইড়ুকে আটক করে। এর পর থেকে গ্রেফতার আতংকে চেয়ারম্যান নার্গিস আক্তার বুবলি লাপাত্তা হয়ে যান। সরেজমিন ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা হয় ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের রায়হান আহমদ, সালমান আহমদ ও আখলাছ মিয়া, ৫ নং ওয়ার্ডের লুঃফা বেগম, কনর মিয়া, ৯ নং ওয়ার্ডের সিতাব আলী, হোসেন মিয়া বসে আছেন। কেউ এসেছেন জন্মনিবন্ধন সনদ আবার কেউ এসেছেন প্রবাসে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করা জরুরী কিন্তু ইউনিয়নে এসে সার্টিফিকেট ও জন্মসনদ পাচ্ছেননা চেয়ারম্যান না থাকায়। এখন কি করবেন ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। তারা অভিযোগ করে জানান, আগে চেয়ারম্যানকে না পেলেও উনার স্বামী সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ শাহাজাহান ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় কাজ কর্ম চালাতেন কিন্তু চেয়ারম্যান পলাতক থাকায় তিনি এখন ইউনিয়স পরিষদে না আসায় মানুষের দূর্ভোগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও ইউপি সদস্য ছালিক আহমদ এ ব্যাপারে জানান, চেয়ারম্যান একটি সমস্যার কারনে কয়েকদিন থেকে ইউনিয়নে আসছেন না। তবে তিনি বলেছেন আগামী দু’একদিনের মধ্যে ইউনিয়নে আসবেন। যদি না আসেন তাহলে আমরা সভা করে প্যানেল চেয়ারম্যানকে ভারপাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিবো। কুলাউড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নার্গিস আক্তার বুবলির মোবাইল ফোন নাম্বারে (০১৭৬৩- ৩০৩৩৭১) একাধিবার যোগাযোগ করেও বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউছুফ এ ব্যাপারে জানান, চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করতে পারেনি। কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চেয়ারম্যান চৌঃ মোঃ গোলাম রাব্বী জানান, চেয়ারম্যান যদি ইউনিয়নে না আসেন তাহলে প্যানেল চেয়ারম্যানকে ভারপাপ্ত চেয়ারম্যান দেয়া হবে। কোন মানুষ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হবে না।