বেহাল বড়লেখা-কুলাউড়া আঞ্চলিক মহাসড়ক যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও কমেনি দুর্ভোগ

 ০৩ আগস্ট  ২০১৭, বৃহস্পতিবার সহ দেখতে ক্লিক করুন
মৌলভীবাজার  জেলা প্রতিনিধি : 
মৌলভীবাজারের বড়লেখা-কুলাউড়া আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে প্রায় দুই মাস পর বন্যার পানি নামায় গত ৩দিন ধরে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হলেও সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন বন্যার পানি থাকায় সড়কের অন্তত ২০টি স্থানে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় গত দুই মাস বড়লেখা-কুলাউড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের জুড়ী উপজেলা কমপ্লেক্সের সম্মুখ, চৌমুহনী, উত্তর জাঙ্গীরাই, বাছিরপুর, পশ্চিম হাতলিঘাট এলাকার ৪টি স্থানসহ সড়কের ১০টি স্থান ৩-৪ ফুট পানিতে তলিয়ে যায়। এতে যান চলাচল বিঘিœত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী কয়েক লাখ মানুষ। জরুরী প্রয়োজনে ট্রাক, ট্রাক্টর ও পাওয়ারটিলারের মাধ্যমে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে চলতে হয়েছে এলাকাবাসীকে। ফলে তাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এদিকে বৃষ্টি কম হওয়ায় সড়ক থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। ফলে গত ৩দিন ধরে এ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে বন্যার পানি থাকায় সড়কের অন্তত ২০টি স্থানে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এসবের মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ছোটো-বড়ো যানবাহন। অনেক যানবাহন বড় বড় গর্তের মধ্যে সড়কে চলতে গিয়ে বিকল কিংবা আটকা পড়তে দেখা গেছে।
অটোরিক্সা চালক মুন্না, সাইদুল, রাজু জানায়, প্রায় ২ মাস পর আজকে এ সড়ক দিয়ে মৌলভীবাজার যাচ্ছি। বন্যার পানিয়ে সড়ক একেবারে ভাঙিলাইছে। সড়কেও অনেক গর্ত অইছে। গাড়ি যেনো হেলে-দুলে চলে। অনেক কষ্ট শিক্ষার্থী হোসেন, করিম, রুমেল, সালমান জানায়, বন্যার পানি সড়কে উঠায় অনেক কষ্ট করে কলেজে আসা-যাওয়া করতে হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। এখন সড়ক থেকে পানি নামলেও বড় ও গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করলে জনদুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হবে।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ জানান, বড়লেখা-কুলাউড়া সড়কের ৩ কিলোমিটার জায়গা বন্যায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আপাতত সড়কে ইট ও বালু ফেলে গর্ত ভরাট করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হচ্ছে। সড়কের নিচু স্থান উঁচু করার জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।