কমলগঞ্জ শ্রেণিকক্ষের অভাবে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

 ১০ আগস্ট  ২০১৭, বৃহস্পতিবার সহ দেখতে ক্লিক করুন

মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ছলিমগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের অভাবে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে মারাত্মভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। এ ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষ যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিতভাবে জানানোর পরও কোনো কাজ না হওয়ায় এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনা করছেন।

১৯৫৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও বিগত ১৯৬৩-৬৪ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের মূল গৃহ নির্মাণ করা হয়েছিল। এই বিদ্যালয়ে ২৯২ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে দুটি শ্রেণি কক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে অফিসের কার্যক্রম। পুরাতন বিল্ডিং এর কক্ষে পাঠদান হলেও টিন ছিদ্র হয়ে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টি হলেই পানি পড়তে শুরু করে। ঝুঁকিপুর্ণ কক্ষে জুড়াতালি দিয়ে চলছে এক শ্রেণির পাঠ দান। এ কারণে চলছে না পাঠ দান।

স্কুল থেকে এক তথ্য জানা যায়, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে এলজিইডি’র অর্থায়নে এই বিদ্যালয়ে ৩ কক্ষের একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনের ৩টি কক্ষের মধ্যে একটি অফিস ও অন্য ২টি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ৩টি শ্রেণিকক্ষ থাকলেও পুরাতন ভবনের একটি শ্রেণিকক্ষে টিনের চালা ছিদ্র হয়ে বৃষ্টি পড়ায় ক্লাস করানো যায় না। আর কাঠের চাল উইপোকায় নষ্ট করায় এখন মেরামতযোগ্যও নয়। টিনের চাল ভেঙে যেকোনো সময় প্রাণহানীর আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের একমাত্র কক্ষে টিনের ছাদ দিয়ে পানি পড়াসহ ভবনটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ২ বছর পূর্বে মৌলভীবাজারের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে শ্রেণিকক্ষ বাড়ানোসহ অবকাঠানো উন্নয়ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে সুপারিশ করেছেন।

সম্প্রতি বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গেলে এসএমসি সভাপতি কামরুল হাসান চৌধুরীসহ স্থানীয় অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়টির করুণ অবস্থা সম্পর্কে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর অবগত থাকলেও অদৃশ্য কারণে প্রায় ২ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানে নতুন ভবন নির্মাণ হচ্ছে না। বিষয়টি খুবই হতাশাজনক। অথচ শহর ছাড়িয়ে অনেক জায়গায় ইতোমধ্যে নতুন ভবন নির্মিত হয়েছে।

তারা আরও জানান, বিদ্যালয়ের সম্মুখে বিশাল পুকুর রয়েছে। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে এখানে একটি নিরাপত্তা বেষ্টনির প্রয়োজন। এছাড়া বিদ্যালয়ের টয়লেটও প্রায় অকেজো হয়ে পড়ছে। শ্রেণিকক্ষের অভাবে প্রায়ই খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রধান শিক্ষক আসিক মিয়া জানান, বিদ্যালয়ে তিনিসহ ৭ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও স্কুলভবনে শ্রেণিকক্ষের সষ্কট থাকায় পাঠদান বিঘ্ন হচ্ছে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষের অভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের ঠাসাঠাসি করে বসতে হচ্ছে। শ্রেণি কক্ষ না থাকায় এই বিদ্যালয়ের প্রাক প্রাথমিকের কক্ষ সজ্জ্বিতকরণ হয়নি। তাই তিনি জরুরি ভিত্তিতে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার গকুল চন্দ্র দেবনাথ জানান, জরুরি ভিত্তিতে এই বিদ্যালয়ে একটি ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। শ্রেণিকক্ষের অভাবে পাঠদান ব্যাহত যাতে না হয় সেজন্য তিনি দ্রুত সরেজমিন বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।