ত্রাণের টিন ও সোলার বিদ্যুৎ-এর খবরে নাটোরে তোলপাড়

 ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

দেশের বহুল প্রচারিত  প্রকাশিত একটি সংবাদকে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে নাটোরে। গত ২৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত “ ‘বাগাতিপাড়া আওয়ামী লীগ নেতার ফল বাগানে ত্রাণের ঢেউটিন ও সোলার প্যানেল’ শীর্ষক সংবাদটি প্রকাশিত হলে বিষয়টি টক অব দি জেলায় পরিণত হয়। জেলা জুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেনের পেয়ারা বাগানে ব্যাবহার হচ্ছে সরকারি ত্রানের টিন ও সোলার বিদ্যুৎ (সোলার প্যানেল)। এই খবরে নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। সরকারী দলের উপজেলা সভাপতির বিরুদ্ধের আনা এমন অভিযোগ এখন জেলার প্রধান খবর। সাধারণ মানুষসহ দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর পরই তড়িঘড়ি করে ত্রাণের টিন এবং সোলার প্যানেল খুলে লুকিয়ে ফেলা হয় অন্যত্র। সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ২৬ ডিসেম্বর নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেনের পেয়ারা বাগানে সরকারি ত্রাণের টিন ও সোলার বিদ্যুৎ (সোলার প্যানেল) ব্যবহার করায় তাকে শোকজ করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক জরুরি বর্ধিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার রহমান ছাড়াও আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

বর্ধিত সভায় বলা হয়, বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেনের পেয়ারা বাগানে সরকারি ত্রাণের ১০ বান্ডিল ঢেউটিন ও কয়েকটি সোলার বিদ্যুৎ (সোলার প্যানেল) ব্যবহারের সচিত্র সংবাদ   প্রকাশিত হলে দলের ভাবমূুর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। যেহেতু সংবাদের সত্যাতা রয়েছে তাই বিষয়টি  দলের বিষয়টি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফকে জানানো হলে তারা বলেন,  সংবাদটা তারা দেখেছেন, গরীবের জন্য দেয়া ত্রাণের টিন আত্মসাৎ করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের এই ধরনের রেকর্ড নেই। তিনি যখন রেকর্ড গড়েছেন অবশ্যই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এটা খুব নিন্দনীয়। সুতারাং তাকে সাংগঠনিক ভাবে প্রথমে শোকজ সদুত্তর না দিলে বহিস্কারের ব্যাপারে স্বিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশনা দেন। 

তারপরই  দলের সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেনকে শোকজ করার জন্য মঙ্গলবারের উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় সিন্ধান্ত নেয়া হয়, তাকে সাত দিনের সময় দিয়ে শোকজ নোটিশ পাঠানো হবে। শোকজ নোটিশের যথাযথ জবাব দিতে না পারলে তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হবে। সভায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপজেলা কমিটির সভাপতি হিসেবে সাধারণ মানুষের জাল স্বাক্ষরে তিনি এ সব সামগ্রী আত্মসাৎ করে নিজে ব্যবহার করার ঘটনার নিন্দা জানানো হয়। এটা ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগের জন্য খুবই লজ্জার ব্যপার হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানানো হয়। 

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি আবুল হোসেন দাবি করেন, ‘গত কয়েকদিন যাবত বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার নামে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে দলের ও আমার ব্যক্তিগত সম্মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করায় সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন প্রচেষ্টা অব্যহত আছে। এরই সূত্র ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘বাগাতিপাড়া আওয়ামী লীগ নেতার ফল বাগানে ত্রাণের ঢেউটিন ও সোলার প্যানেল’ শিরোনামে খবর বের হয়। যা মিথ্যা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।’  

এসময় উপস্থিত ছিলেন, শহীদ মমতাজ উদ্দিনের সন্তান আওয়ামী লীগ নেতা শামীম আহমেদ সাগর, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, দপ্তর সম্পাদক জামিলুর রহমান বাবু, সহ-দপ্তর সম্পাদক আনন্দ কুমার দাস ।