গুরুদাসপুরে আত্রাই নদীর সোঁতিজালে পানি ঠেকে ৩০হাজার হেক্টোর জমির ফসল ও বাড়ী-ঘর প্লাবিত

 ২২ আগস্ট  ২০১৭, মঙ্গলবার সহ দেখতে ক্লিক করুন

নাটোর প্রতিনিধি.

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত আত্রাই নদীর আট পয়েন্টে স্থানীয় প্রভাবশালীরা পানি আটকে সোঁতিজাল পেতে মাছ নিধনের ফলে নদীর গতিপথ বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে চলনবিলে পানি ঢুকে ব্যাপক এলাকা জুড়ে তলিয়ে গেছে ফসল ও নিচু অঞ্চলে ঘর-বাড়ী। এতে শতাধিক বাড়ী ও প্রায় ৩০হাজার হেক্টোর বোনা আমন ধান ডুবে গেছে। উপজেলা প্রশাসন সোঁতিজাল উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়ে সোমবার দিনভর অভিযান চালিয়ে সোঁতিজালের বেড়া কিছুটা কেটে ফেললেও ওই প্রভাবশালীরা রাতেই তা পুণঃস্থাপন করে মাছ শিকার করছে বলে জানা গেছে। উপজেলা বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ী এলাকার রাবার ড্যাম সংলগ্ন প্রভাবশালী রবিউল করিম রবি ও মান্নানের নেতৃত্বে ওই আটটি সোঁতিজাল পেতে পানি আটকে মাছ শিকার করছে বলে জানাযায়। আত্রাই নদীতে বেড়া দেওয়ার ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে সাবগাড়ী হরদমা কাটা নদী, যোগেন্দ্রনগর খুবজীপুর নদী, বিলদহর জোলা দিয়ে চলনবিলে প্রচন্ড গতিতে পানি ঢুকছে। এতে করে চলনবিলের গুরুদাসপুরঅঞ্চলের আমন ধান ও নিচু এলাকার শতাধিক বাড়ীতে পানি ঢুকে পানি বন্দি হয়ে ব্যাপক ক্ষতিতে পড়ছে মানুষ। এতে তাদের খাদ্য সংকটের পাশা-পাশি বিশুদ্ধ পানির অভাবে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে বানভাসী মানুষ। সেই সাথে বন্যার পানির কারনে ওই এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্ধেসঢ়;্রর পক্ষ থেকে ডাঃ রবিউল করিম শান্তর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম ওই এলাকার বানভাসী মানুষে স্বাস্থ সেবার জন্য দিনভর কাজ করেছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্ধেসঢ়;্রর আরএমও ডাঃ রবিউল করিম শান্ত যোগেন্দ্র নগর আশ্রয় কেন্দ্র থেকে জানান, বিশুদ্ধ পানির অভাবে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী দেখা দিয়েছে। তারা সার্বক্ষনিক দুর্গতদের পাশে থেকে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করনের কথা বলেন। বিলহরিবাড়ী গ্রামের দিনমজুর আনসার আলী ও খোকন মাঝি বলেন, এবার আমাদের এলাকায় বন্যার পানি আসতো না। আত্রাই নদীতে আট জায়গায় বেড়া দিয়ে সোঁতিজাল পেঁতে মাছ শিকারের কারনে চলনবিল অঞ্চলে পানি ঢুকে আমাদের বাড়ী-ঘর ডুবে গেছে। আমাদের থাকার জায়গা পর্যন্ত নাই। আসাদ আলী ও সরোয়ার মোল্লা জানান, মেষ মুহুর্তে সোঁতিজালের কারনে বিলে পানি প্রবেশ করে ফসলের পাশাপাশি বাড়ী-ঘর পানিতে ডুবে গেছে। সোবার কিছুটা উচ্ছেদ হলেও মঙ্গলবার আবার তারা স্থাপন করে মাছ শিকার করছে। সাবগাড়ী সোঁতিজাল মালিক রবিউল করিম রবি বলেন, লাখ লাখ টাকা খরচ করে সোঁতিজাল পেতেছি। যেকোন মুল্যে সেটাকে টিকিয়ে রাখতে হবে।বিয়াঘাট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রভাষক মোজাম্মেল হক জানান, সোমবার দিনভর ওই সোঁতিজালগুলো উপজেলা প্রশাসন উচ্ছেদ করেছেন। সেগুলো যেন আর স্থাপন না হয় সেব্যাপারে প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কে এম আব্দুল হালিম জানান, সোঁতিজাল উচ্ছেদ অভিযান চলছে। সেটা অব্যাহত থাকবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, কিছু লোভী মানুষ আত্রই নদীতে সোঁতিজাল পেতে মাছ ধরার কারণে সহজে পানি নামতে পারছে না। একারণে পানি বিলাঞ্চলে প্রবেশ করে প্রায় ৩০ হাজার হেক্টোর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্ম মনির হোসেন বলেন, অবৈধ সোঁতিজালে পানি আটকে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে বিভিন্ন ক্যানেল দিয়ে চলনবিলে পানি প্রবেশ করে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। যার কারনে সোমবার দিনভর সোঁতিজাল উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। কোন ভাবেই সোঁতিজাল স্থাপন করতে দেওয়া হবেনা।