নাটোরে ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে প্রতারণা, আটক ১১

 ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শনিবার সহ দেখতে ক্লিক করুন

ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে সুন্দরী নারীদের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নাটোরের লালপুর থেকে প্রতারক চক্রের ১১ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় জব্দ করা হয়েছে একটি কোম্পানীর বিশেষায়িত ৯টি হ্যান্ডসেট।

আজ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক ফেসব্রিফিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার।

এসময় পুলিশ সুপার জানান, গ্রেফতারকৃত যুবকরা বিভিন্ন নারীদের ছবি ব্যবহার করে প্রথমে ভুয়া ফেসবুক পেজ খুলে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিল। একটি কোম্পানীর মোবাইল ফোন দিয়ে ম্যাজিক ভয়েস এর মাধ্যমে (ছেলে কথা বললে নারী কণ্ঠ হয়ে যায়) কণ্ঠ পরিবর্তন করে নারী কণ্ঠে ফোন সেক্স, ভিডিও সেক্স এবং ইমো সেক্স করে আসছিল। যাদের বেশির ভাগ টার্গেট ছিল প্রবাসী যুবকরা। পরে ইমোশনাল ব্লাকমেইল করে বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিত ওই চক্রটি। রাতারাতি প্রতারকদের লাইফ স্টাইল পরিবর্তন হলে সন্দেহ জাগে স্থানীয়দের মধ্যে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা এবং লালপুর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে লালপুরের বিলমাড়িয়া থেকে প্রথমে ৪ যুবককে আটক করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তিতে আরও ৭জনকে আটক করা হয়। এখন পর্যন্ত এই চক্রের মোট ১১সদস্যকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানান পুলিশ সুপার। 
আটককৃতরা হচ্ছে, লালপুর উপজেলার নাগশোষা গ্রামের ফজরুল হক এর ছেলে মেহেদি হাসান ওরফে আশিক (২৪), একই এলাকার মর্জেম হোসেন এর ছেলে আসাদুল ইসলাম (২৫), মফিজ উদ্দিনের ছেলে নাজমুল হক (১৮), বাবর আলীর ছেলে সাগর আহম্মেদ (১৮), জালাল উদ্দিন সরদার এর ছেলে শিমুল হোসেন (২৬), একই উপজেলার মহরকয়া ভাঙ্গাপাড়া এলাকার জমির উদ্দিনের ছেলে লালন উদ্দিন (২২), একই এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে মুহাইমিনুল ওরফে আবির (২৪), মহরকয়া থান্দারপাড়া এলাকার আব্দুল মজিদ থান্দার এর ছেলে হাবিবুর রহমান ওরফে জুয়েল (২৫), নাগশোষা গ্রামের আব্দুল হান্নান মোল­ার ছেলে জুয়েল রানা (২৪), সামছুল হক এর ছেলে শাহাদৌল ইসলাম ওরফে শাহদুল­াহ (২৪) এবং মহরকয়া পূর্বপাড়া গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান ওরফে লিপন (২২)।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হাই সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, চায়নার আইটেল কোম্পানীর ৫৬’শ মডেলের মোবাইলে ম্যাজিক ভয়েসের মাধ্যমে এক প্রান্তে ছেলে কথা বললে অন্যপ্রান্তে নারী কণ্ঠ হয়ে যায়। এভাবে প্রথমে প্রেম আলাপের পর ব্লাকমেইল করে বিকাশের মাধ্যমে ওই প্রতারক চক্রটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিল। প্রতারক চক্রের মধ্যে দুই জন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র রয়েছে। এছাড়া রাতারাতি ধনি হওয়ার স্বপ্নে অনেকেই এই পথে পা বাড়িয়েছে। প্রতারক চক্রের বাকি সদস্যদের পুলিশ আটকের জন্য চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলাম, পুলিশ হেডকোয়াটারের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার ফয়জুল ইসলাম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হাই, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু ওবায়েদ সহ অন্যান্যেরা উপস্থিত ছিলেন।