দেখার কেউ নেই বগুড়ার শাজাহানপুরে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার॥ ঝুঁকিতে পথচারী ও এলাকাবাসী

 ৫ এপ্রিল ২০১৮ বৃহস্পতিবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

শাহ্ধসঢ়; আলম, স্টাফ রিপোর্টার:

বগুড়া শাজাহানপুরে যত্রতত্র লাইসেন্সবিহীন দোকানে অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার। এতে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে পথচারী ও আশপাশের এলাকার জনগণসহ শিক্ষার্থীরা। এ কারণে সচেতন এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সরোজমিনে দেখাগেছে, উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও বন্দর এলাকায় মুদির দোকান থেকে শুরু করে পানের দোকান, চায়ের দোকান, ওষুধের দোকান, রড-সিমেন্টের দোকান, জুতা-সেন্ডেলের দোকান, কীটনাশক বিক্রেতা, সেলুন এমনকি লন্ড্রির দোকানেও অনিরাপদ স্থানে অগ্নিনির্বাপক বা অক্সিজেন সিলিন্ডার ছাড়াই লাইসেন্সবিহীন অবৈধভাবে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার। অধিকাংশ দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রিসহ গাড়িতে বহন করায় যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী সহ স্থানীয়রা মারাত্মক ঝুঁকির পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের আশঙ্কায় পার্শ্ববর্তী

দোকানদারদের মাঝে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। ব্যবসায়ী, পথাচারী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী শঙ্কিত থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন পুরোপুরি নির্বিকার। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্যাস বিপজ্জনক পদার্থ। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া কেউ গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে পারবে না। তার পরেও দেশে সরকারী দপ্তর, প্রশাসন থাকা সত্ত্বেও যেখানে সেখানে অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে অবৈধভাবে গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার বিক্রি করায় পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের আশঙ্কায় দিনাতিপাত করতে হয়। তারা আরো জানান, বিগত কয়েক মাস পূর্বে উপজেলার বনানী লিচুতলা এলাকায় গ্যাস ডিপোতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। এরকম দুর্ঘটনা ঘটার পরও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কেন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না, বিষয়টি জনসাধারণের মাঝে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে প্রাণ হানির মত দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে? বিষয়টি মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় পেট্রোল পাম্পের মালিকদের বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ডিলারদেরকে এগুলো বিক্রির অনুমতি প্রদান করে থাকে। উপজেলার চাঁচাইতারা-মাদলা বন্দরের স্বপ্নপুরী ভ্যারাইটি স্টোর নামে লাইসেন্সবিহীন একটি মুদির দোকানে অবৈধভাবে প্রায় দুই শতাধিক গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার রেখে দেদারছে বিক্রি করা হচ্ছে। একই বন্দরে মন্ডল বীজ ভান্ডার নামে একটি দোকানে শতাধিক সিলিন্ডার রেখে বিক্রী করছে। এছাড়াও উপজেলার গোহাইল বন্দরে আনন্দ স্টুডিও নামে একটি দোকানে গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার রেখে বিক্রী করছেন দোকান মালিক ফরহাদ আহম্মেদ খোকন, একই এলাকায় মোকতাদির রহমান নামের একজন ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ী পাশাপাশি গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার রেখে দেদারছে বিক্রী করছেন। এদিকে উপজেলার মাঝিড়া, খরনা, বি-ব্লক, আড়িয়া বাজার, নয়মাইল, দাড়িগাছা, টেংগামাগুর, বীরগ্রাম, উমরদিঘী, রাণীরহাট, ফুলতলা, বনানী, মালিপাড়া, মোস্তাইল, জালশুকা, দুবলাগাড়ী, জামাদারপুকুর, পোয়ালগাছা ডোমনপুকুর শাহ্ধসঢ়; নগর, বড়পাথার সহ বিভিন্ন এলাকায় খুচরা এলপি গ্যাস সিলিন্ডার দেদারছে বিক্রি করা হচ্ছে। বিস্ফোরক আইন ১৮৮৪ এর দ্য এলপি গ্যাস রুলস ২০০৪ এর ৬৯ধারার ২বিধিতে কোন্ধসঢ়; কোন্ধসঢ়; ক্ষেত্রে এলপিজি মজুদ করা যাবে, তা উল্লেখ আছে। বিধি অনুযায়ী আটটি গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার মজুদের ক্ষেত্রে লাইসেন্স নিতে হবে। একই বিধির ৭১নং ধারায় বলা আছে, আগুন নিভানোর জন্য স্থাপনা বা মজুদাগারে যথেষ্ট পরিমাণে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জাম মজুদ রাখতে হবে। এ আইন অমান্য করলে যে কোনো ব্যবসায়ী অনুন্য দুই বছর ও অনধিক পাঁচ বছরের জেলসহ অনধিক ৫০হাজার টাকায় দন্ডিত হবে এবং অর্থ অনাদায়ী থাকলে অতিরিক্ত আরও ছয় মাস পর্যন্ত কারাগারের বিধান রয়েছে। এসব আইন উপেক্ষা করে যত্রতত্র গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিলারদের দাবী যে কোন ঘটনার জন্য ডিলাররা দায়ী থাকবে না। বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শক ড. মোঃ আসাদুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, নিবন্ধন ছাড়া এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জনবলের অভাবে দুই বিভাগের প্রত্যন্ত এলাকায় অভিযান না থাকায় অবৈধভাবে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ সম্ভব হচ্ছে না। তবে স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমেও লাইসেন্সবিহীন দোকানগুলোতে অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ সম্ভব হতো বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান জানান, লাইসেন্স ব্যতীত এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় ও সরবরাহ করা দন্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।