নীলফামারীর ডোমারে মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে, হিরোইন,গাঁজা,ফেনসিডিলের সাথে এখন যোগ হয়েছে ইয়াবা

 ৫ ফেব্রুয়ারি  ২০১৭,  রোববার সহ দেখতে ক্লিক করুন

জিয়াউর রহমান, নীলফামারীঃ

নীলফামারীর ডোমারে মাদকসেবীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবক মহল তাদের স্কুল-কলেজগামী সন্তানদের নিয়ে দরুন দুশ্চিন্তায় দিন পাড় করছেন। মাদকের ভয়াল নেশায় সর্বদা বুদ হয়ে থাকা উঠতি বয়সীরা নেশার টাকা জোগাড় করতে জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধ কর্মে। ডোমার সীমান্ত ঘেষা উপজেলা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এখানে ভারত থেকে পাচার হয়ে আসা ফেনসিডিল,বিভিন্ন ব্রান্ডের মদ,হিরোইন,গাঁজার রমরমা ব্যাবসা ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।এর সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ইয়াবা সহ যৌন উত্তেজক পানীয়। মাঝে মাঝে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে চুনোপুঠি ধরা পরলেও , রাঘব বোয়ালরা থাকে ধরা ছোয়ার বাইরে। অপরদিকে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে মাদক বিক্রেতারা অনেকটা প্রকাশ্যেই তাদের ব্যবসা চালাচ্ছে। এতে বেড়েছে চুরি,ছিনতাই। এমনকি স্কুল-কলেজগামীরাও আসক্ত হয়ে পড়ছে এই মরণ নেশায়। ডোমারে ১০টি স্পটে সন্ধা হলেই শুরু হয় মাদক বিক্রেতা ও মাদক সেবিদের আনাগোনা। উল্লেখযোগ্য স্পট গুলির মধ্যে মহিলা কলেজ মাঠ,সরকারী কলেজ মাঠ, ডোমার বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের হৃদয়ে স্বাধীনতা চত্তর, রেল ষ্টেশন, ডোমার বন বিভাগ,রেলঘুমটি ব্রীজের পার,কাঁচাবাজার এলাকা কনিকা সিনেমা হল এলাকা অন্যতম। যে সকল মাদক বিক্রেতা ডোমারে দাপিয়ে ব্যাবসা করছে তাদের মধ্যে ফরেষ্ট এলাকায় বেচুয়া,কাজী পাড়ায় রুপা ও তার স্বামী মিজানুর,ডোমার বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় ছানু ও তার ছেলে বাবু , আর ডি আর এস মোড় এলাকায় সফিয়ার,কাঁচাবাজার এলাকায় পাগলী এই অবৈধ ব্যাবসা নিয়ন্ত্রন করে। এদের বিরুদ্ধে পুলিশের তেমন কোন অভিযান চোখে পড়েনা। পত্রিকায় লেখালেখি হলে চুনোপুঠি দু একজনকে ধরে চালান দিলেও জামিনে বেড়িয়ে এসে তারা ফের পূর্বের পেশায় জড়িয়ে পড়ে। নামপ্রকাশ না করার শর্তে একাধিক এলাকাবাসী প্রতিবেদককে জানান, পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে মাদক বিক্রেতাদের গোপন যোগাযোগ থাকায় মাদক বিরোধী কোন অভিযান সফল হচ্ছে না। এসকল কর্মকর্তা রাঘব বোয়ালদের চাইতে চুনোপুঠিদের ধরতে বেশী আগ্রহী। কারণ হোতাদের ধরলে মাশোয়ারা কমে যাবে।এদিকে ডোমার থানায় গত ওপেন হাউস ডে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পুলিশ সুপারকে ডোমারের কয়েকটি স্পটে মাদক সেবন ও জুয়া বন্ধে কার্যকরী প্রদক্ষেপ গ্রহনের জোর দাবী করেন। এবিষয়ে ডোমার থানা অফিসার ইনচার্জ আহম্মেদ রাজিউর রহমান রাজু জানান,মাদক ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান আছে।