নবীগঞ্জে সরকারী জায়গায় টিলা কেটে সমতল করে কোটি টাকা মুল্যের বিলাশবহুল বাড়ি নির্মাণ

 ১১ জুলাই  ২০১৭,  মঙ্গলবার সহ দেখতে ক্লিক করুন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ॥॥

নবীগঞ্জের পাহাড়ি অঞ্চল দিনারপুর পরগণায় সরকারী খাস জায়গায় টিলা কেটে সমতল করে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি বিলাশ বহুল বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অদৃশ্য কারনে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় অনেকে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বাড়িসহ একাধিক জায়গা দখল করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে এই পরিবার। সরকারে ভূমি মন্ত্রলায় আইন অনুযায়ী একজন অসহায় ভূমিহীন ব্যক্তি যদি বাসস্থানের কোনো জায়গা না থাকে তাহলে ভুমিহীন হিসেবে শুধু মাত্র মাথাগোঁজার মত অল্প জায়গায় বসবাস করা যেতে পারবে এমন আইন প্রণয়ন থাকা সত্বেও কোটি কোটি টাকার সম্পদশালী পরিবার কিভাবে সরকারের এতটা জায়গা দখল করে টিলা কেটে সমতল করে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে বিলাস বহুল বাড়ি নির্মান করে বসবাস করে আসছে সচেতন মহল এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে প্রশাসনের দিকে। একদিকে বাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি বাড়ির নিচে সরকারি জায়গায় বিশাল সীমানা প্রচীর নির্মাণ করেছে পরিবারটি। অসাধু কিছু উর্ধ্বতর্ন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগীতায় দিনের পর দিন অবৈধ ভাবে বসবাস করে আসছে এই পরিবার। নবীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি পরগণা দিনারপুর অঞ্চলের নির্জনস্থান পানিউমদা ইউনিয়নে সরকারি জায়গা দখল করে এই রকম ঘটনা ঘটছে অহরহর। পানিউমদা ইউনিয়নের হর্তকী পাড়া নামক এলাকায় সার্জন মিয়া নামে জনৈক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং তার সহোদর কোটি টাকার বাড়ি নির্মাণসহ একাধিক ভূমি দখল করে আছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে সরকারী জায়গা দখল করে সীমানা প্রচীর নির্মাণ করেছে এই পরিবার। অন্যদিকে সারাদেশে যখন পাহাড় ধ্বসে মানুষ মারা যাচ্ছে ঠিক তখনই প্রশাসনের নজরহীনতার অভাবে পানিউমদা ইউনিয়নে সরকারী ভূমি দখল করে পাহাড়ে নিকটেই বসবাস করে আসছে শতাধিক পরিবার। যেকোনো সময় পাহাড় ধ্বসে লোকজন মারা যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এদিকে গত বছরের সার্জন মিয়া এলাকায় নিজেকে গদা পীরদাবীদার ব্যক্তি প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ করে এই বিলাস বহুল বাড়িটি নির্মাণ করেন। ঐ সংবাদ সংগ্রহকালে সরেজমিনে বাড়ি চিত্র ক্যামেরায় ধারণ করার চেষ্টা করলে প্রতিবেদকে বাধা দেয় অসাধু বাড়ির মালিক এর লোকজন। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে বাড়ির মালিক কর্তৃপক্ষ এলাকার প্রভাবশালী নেতার নাম এবং ভয়ভীতি দেখায়। দেড় কোটি টাকার বাড়ির মালিক গদা পীর নামে পরিচিত। এবং ওই বাড়িতে রাতের বেলায় বিভিন্ন ধরনের গান ও নৃত্য পরিবেশন চলে আসছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। এ ছাড়া ওই গাদা পীর এলাকার আরো অনেক সরকারী টিলা রখম ভুমি তার দখলে রয়েছে বলে ও অভিযোগ আছে। এলাকায় তার প্রভাব বিস্তার থাকার কারনে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলার সাহস পায়না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার অনেকেই বলেন তার হাত অনেক লম্বা। এসব পত্রিকায় লিখে কোন লাভ হবেনা। প্রশাসন তার বিরুদ্বে কোন ব্যবস্থা নিবেনা। ভূমি বিশ্লেষকদের মতে পীর হন আর যাই হন তাই বলে সরকারী জায়গা দখল করে লিজ না নিয়ে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়ি নির্মান করে বসবাস করা ভূমি আইনে নেই তাই তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। দিনের পর দিন এভাবে আরো একাধিক জায়গা তাদের দখলে রয়েছে। এ ছাড়া ও পানিউমদা এলাকায় আরো বহু জায়গা প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিতেন্দ্র কুমার নাথ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোজ খবর নিয়ে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।