খোয়াই নদী থেকে হাত-পা বাধা ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

 ১৬নভেম্বর ২০১৭ বৃহ্সপতিবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন   

অনলাইন ডেস্কঃ

হবিগঞ্জের যাদবপুর এলাকায় খোয়াই নদী থেকে হাত-পা বাধা অবস্থায় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ এ লাশটি উদ্ধার করে।

নিহত  হলো লাখাই উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের চরগাও গ্রামের মৃত জবান উল্লাহ পুত্র আব্দুল কদ্দুছ (৪২)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে নিহত আব্দুল কদ্দুছ তার ভাই বাবুল মিয়া হাওরের সেচ প্রকল্পের মেশিন পাহাড়া দিতে যান। সকালে হাওরে কাজ করতে গিয়ে কয়েকজন লোক মেশিনের ঘরে চিৎকার শুনে এগিয়ে দেখেন হাত-পা বাধা অবস্থায় বাবুল মিয়া। এ সময় বাবুল মিয়ার হাত ও পায়ের বাধন ছেড়ে দেয়া হলে তিনি তার বাড়িতে গিয়ে জানান, রাত ৩টার দিকে যাদবপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম, দিলাল মিয়াসহ ১৫/১৬ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের হুরাঘরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা তার হাত ও পা বেধে রেখে তার বড় ভাই আব্দুল কদ্দুছ মিয়া তুলে নিয়ে যান।  

এ খবর ছড়িয়ে যাওয়ার পর আব্দুল কদ্দুছের আত্মীয় স্বজনসহ এলাকার লোকজন যাদবপুর গ্রামে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে যাদবপুর গ্রামের খোয়াই নদীর পাড় থেকে লাখাই থানার ওসি তদন্ত নূরুল ইসলামসহ পুলিশের উপস্থিতিতে জেলেদের দিয়ে নদীতে তল্লাসী চালিয়ে কদ্দুছের হাত, পা বাধা লাশ উদ্ধার করা হয়।  

নিহতের চাচাত ভাই সবুর মিয়া জানান, কিছুদিন পূর্বে তূচ্চ বিষয় নিয়ে যাদবপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম, দিলাল মিয়ার সাথে আব্দুল কদ্দুছের ঝগড়া হয়। এ সময় তারা আব্দুল কদ্দুছকে দেখে নেয়ার জন্য হুমকি দেয়।

মঙ্গলবার রাত আব্দুল কদ্দুছ তার ভাই বাবুল মিয়া মেশিনসহ মালামাল পাহাড়া দেয়ার জন্য মেশিনের হুরার (ঘর) মধ্যে গিয়ে ঘুমিয়ে থাকেন। রাত অনুমান ৩টার দিকে শফিকুল ইসলাম, দিলাল মিয়াসহ ১৫/১৬ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হুরার ভিতরে প্রবেশ করে হাত-পা বেধে বাবুল মিয়াকে আটক রেখে আব্দুল কদ্দুছ মিয়াকে তুলে নিয়ে যায়। তারপর তারা তাকে হত্যা করে লাশ ঘুম করার জন্য নদীতে ফেলে দেয়।  

এদিকে লাখাই থানার ওসি বজলার রহমান জানান, নিহত আব্দুল কদ্দুছের বিরুদ্ধে লাখাই থানায় চুরি, ডাকাতি, হত্যাসহ ৫টি মামলা রয়েছে। মঙ্গলবার রাত আব্দুল কদ্দুছের গ্রামের পাশ্ববর্তী হবিগঞ্জ সদর উপজেলার যাদবপুর গ্রামে আব্দুল কদ্দুছ তার দলবল নিয়ে ডাকাতির জন্য হানা দেয়। এ সময় গ্রামবাসী ডাকাতদের ধাওয়া করলেও অন্যান্য ডাকাত পালিয়ে যায়। গ্রামবাসী আব্দুল কদ্দুছকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরে গ্রামবাসী তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।

এ ব্যাপারে আব্দুল কদ্দুছের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকারী হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই মির্জা মাহমুদুল হাসান জানান, নিহতের লাশের গলা কাটা, মাথা ও শরীরের বিভন্ন স্থানে কুপ ও পিকলের ঘা’র চিহ্ন রয়েছে। রাতেরই নিহত লাশ ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।