দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হতে পারে সোনামসজিদ

 ৯ মার্চ ২০১৮ শুক্রবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হতে পারে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে পূর্ণাঙ্গ রূপ পেয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও বাড়বে। এ লক্ষ্যে জনবল ও অবকাঠামো সুবিধা বাড়িয়ে ভবিষ্যতে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস হাউস চালুর প্রস্তাব করেছে কাস্টমস। জানা গেছে, সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ভারত থেকে ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৮০৮ টন পণ্য আমদানির বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৮ টন। গত ৫ বছরে এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের দুটোই বেড়েছে। তবে স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাঁদাবাজি ও সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানগুলোর সিন্ডিকেটের কারণে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ব্যবসায়ীরা পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ২০০৬ সাল থেকে ২৫ বছরের জন্য এই বন্দর পরিচালনায় নিয়োজিত পানামা পোর্ট লিঙ্ক কর্তৃপক্ষ শর্ত মোতাবেক উন্নয়ন কার্যক্রম করেনি। রাজশাহীর কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন গতকাল বলেন, সোনামসজিদ স্থলবন্দরে অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। কিছু যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। এমন আরও কিছু সমস্যা সমাধান করতে পারলে, দেশের দ্বিতীয় স্থলবন্দরে পরিণত হতে পারে সোনামসজিদ। তিনি বলেন, এই বন্দরে রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি হয়। তৈরি পোশাকসহ কিছু পণ্য অল্প রপ্তানি হয়। রপ্তানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি সোনামসজিদ স্থলবন্দর পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস হাউসে রূপান্তর ও অবকাঠামো উন্নয়নের একটি প্রস্তাব এনবিআরে প্রেরণ করে রাজশাহীর কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট। প্রস্তাবে বলা হয়—ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস হাউসে রূপান্তর করতে ১০ একর জমি অধিগ্রহণ করা প্রয়োজন। বর্তমানে এক দশমিক ৪৪ একর জমি আছে। বন্দরে অনুমোদিত জনবলের সংখ্যা ৫৭টি। তাদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য তিনটি ডরমেটরি ভবন নির্মাণ ও গাড়ি রাখার জন্য একটি গ্যারেজ প্রয়োজন। বর্তমানে প্রশাসনিক ভবন, গুদাম, আবাসিক ভবনের অভাবে প্রতিদিনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ— সিসিসিআই সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ গতকাল বলেন, পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি সোনামসজিদ স্থলবন্দর। এখানে বড় ট্রাক টার্মিনাল দরকার। সরকার ঘোষণা দিলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। এর বাইরে একটি উন্নত মানের ওয়ার হাউস জরুরি। আরও কিছু অবকাঠামো হলে সচল হবে সোনামসজিদ স্থলবন্দর। জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রায় ১৯ কি.মি উত্তরে শাহাবাজপুর ইউনিয়নে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের অবস্থান। এই স্থলবন্দর দিয়ে সারাবছরই ফল, কয়লা, গম, ভুট্টা, পাথর, সিমেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত ছাই ও কৃষিসহ ইত্যাদি আমদানি হয়। তবে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা সব প্রকার পণ্য ভারতের বাজারে রপ্তানি করতে পারেন সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে।