৯ ডিসেম্বর নেত্রকোনা মুক্ত দিবস

 ৯ ডিসেম্বর ২০১৭ শনিবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন   
নয়ন বর্মনঃ
৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর তৎকালীন নেত্রকোনা মহকুমা পাকবামুক্ত হয়।দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে শহীদ বেদীতে পুষ্প স্থবক অর্পন,পতাকা উত্তোলন ,আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল। 
ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই মহকুমার বিভিন্ন
স্থানে টুকরো টুকরো যুদ্ধ চলছিল।তার মধ্যে ১লা ডিসেম্বর মোহনগঞ্জ থানার বড়তলি গ্রামে হামলা চালিয়ে ৩৫ পাকসেনাকে খতম করে মুক্তিযোদ্ধারা।৩ডিসেম্বর ঝাঞ্জাইল-বিরিশিরি সড়কে পাকবাহিনীর একটি ট্রাকে হামলা চালালে ৬ পাকসেনা নিহত হয়।ঐ দিনই দুর্গাপুরের বিজয়পুর পাকসেনাদের ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সঙ্গে আক্রমন করে যা এক নাগাড়ে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।৮ ডিসেম্বর থেকে একে একে নেত্রকোনার প্রত্যেক থানাই মুক্ত হয়ে পড়ে।পাক বাহিনী অনেক থানা থেকে সরে এসে নেত্রকোনা শহরে অবস্থান নেয়।নেত্রকোনাকে মুক্ত করতে মুক্তিযোদ্ধারা বেপরোয়া হয়ে উঠে।
৮ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর ক্যাপ্টেন চৌহানের পরামর্শে আবু সিদ্দিক আহমেদের নেতৃত্বে নেত্রকোনা শহর আক্রমনের পরিকল্পনা হয়।পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা দু ভাগে বিভক্ত হয়েছিল।শহরের উত্তর দিক থেকে মিত্রবাহিনী আক্রমন চালাবে।এতে পাকবাহিনী শহর থেকে দক্ষিণ দিক দিয়ে বেরিয়ে ময়মনসিংহের রাস্তা ধরবে। সে সময় দক্ষিণ দিকে অবস্থান রত মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীর উপর আক্রমন করবে। দক্ষিণ দিকে অবস্থানরত
প্রায় তিনশত মুক্তিযোদ্ধা নেত্রকোনা কৃষি ফার্মে রাত থেকেই ওঁৎ পেতে থাকে। রাত গড়িয়ে প্রায় ভোর,উত্তর দিকের আক্রমনের অপেক্ষায় দক্ষিণ দিকের মুক্তিযোদ্ধারা।একপর্যায়ে আক্রমন হলো পাকবাহিনী পালানোর চেষ্টায় শহরের দক্ষিণ দিকে সরে এলো।শুরু হল সম্মুখ যুদ্ধ।সে যুদ্ধ স্থায়ী হল ৫/৬ ঘন্টা।মুক্তিযোদ্ধারা প্রবল উত্তেজিত হয়ে যুদ্ধের কৌশল ভেঙে দাড়িয়ে যুদ্ধ করে যাচ্ছিল।অনেকে শত্রু নিধনে দৌড়ে এগুতে থাকেন।এ অবস্থায় সে যুদ্ধে শহীদ
হন মুক্তিযোদ্ধা আবু খাঁ,আব্দুস সাত্তার ও আব্দুর রশিদ।আহত হয়েছিলেন নেতৃত্বে থাকা মুক্তিযোদ্ধা আবু  সিদ্দিক আহমেদ।আরো বেশি লোকক্ষয়ের আশংকায় মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হঠলে পাকবাহিনীরা ময়মনসিংহের রাস্তা ধরে পালিয়ে যায়।৯ ডিসেম্বর নেত্রকোনা মুক্ত হয়।