গোলাপের চরে খিরার হাসি

 ১৮ জানুয়ারি২০১৮ বৃহস্পতিবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

কুমিল্লা দাউদকান্দি উপজেলার গোমতী-মেঘনা সেতু। এই সেতুর বাম পাশে দুই নদীর মাঝের চরের নাম গোলাপের চর। এখানে বসতির পাশাপাশি রয়েছে বিস্তীর্ণ মাঠ। বর্ষায় সেই মাঠ পানিতে ডুবে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে সেখানে চাষ হয় খিরা। এবার খিরার ভালো ফলন হওয়ায় খুশি কৃষক। সরেজমিন দেখা যায়, চরজুরে খিরা খেত যেন সবুজ চাদর বিছিয়ে রেখেছে। গাছের নিচে হাত দিয়ে খিরা বের করে আনছেন কৃষক। রাখছেন ঝুড়িতে। ঝুড়ি ভরে গেলে তা ভরা হচ্ছে চটের বস্তায়। সেই বস্তা তুলে দিচ্ছেন চরের পাশে বাঁধা পাইকারের নৌকায়। খেতের আইলে বসে নগদ টাকা পেয়ে দেহমন চনমনে হয়ে উঠছে চাষিদের। জানা যায়, দুই-তিন দিন অন্তর কৃষকরা জমি থেকে খিরা তোলেন। তা পাইকাররা কিনে নিয়ে সরবরাহ করেন বিভিন্ন জেলায়। আবহাওয়া অনুকূলে এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ ও রোগবালাই কম থাকায় এ বছর খিরার ভালো ফলন হয়েছে। পাইকারদের কাছে ৯০ কেজির প্রতি বস্তা খিরা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার টাকায়। স্থানীয়রা জানান, এলাকাটি বছরে প্রায় ছয় মাস পানিবন্দী থাকে। চরে বসবাসরতদের বেশির ভাগই কৃষি ও মত্স্যজীবী। বর্ষা মৌসুমে অনেকে মাছ ধরার কাজ করলেও শীতে গোলাপের চরে চাষ করেন খিরা। প্রায় দুই শত বছর ধরে এখানে খিরা চাষ হয়ে আসছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, দাউদকান্দির চারটি ইউনিয়নের গোলাপেরচর, চেঙ্গাকান্দি, হাসানপুর, কদমতুলী, বাহেরচর, দড়িগাঁও, গঙ্গাপ্রসাদ, গাজীপুর, হাসনাবাদ, চরচারুয়া, গৌরীপুর, টামটা, জিংলাতলী, জুরানপুর, গোয়ালমারী, সুন্দলপুরসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের ৬০৮ হেক্টর জমিতে খিরা চাষ হয়। এ বছর বিঘাপ্রতি জমিতে খিরা চাষ করতে খরচ হয়েছে ১২-১৫ হাজার টাকা। প্রতি বিঘার খিরা বিক্রি হবে ২৫-৩০ হাজার। ১০৫ বছর বয়সী কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বাপ-দাদারাও এই চরে খিরা চাষ করেছেন। আমরাও করছি। এ দিয়েই আমাদের সংসার চলে’। পাইকার হাসান মিয়া বলেন, ‘প্রতি কেজি খিরা কেনা পড়ে ২৩ টাকায়। বিক্রি করি ২৬-২৭ টাকা। ঢাকার কারওয়ান বাজার, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে এই খিরা পাঠানো হয়। স্বাদ ভালো হওয়ায় দাউদকান্দির খিরার চাহিদা রয়েছে’। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এরশাদ হোসেন জানান, খিরা চাষের সঙ্গে দাউদকান্দির প্রায় দুই হাজার কৃষক জড়িত। কুমিল্লার মধ্যে দাউদকান্দিতে বেশি খিরা চাষ হচ্ছে।