নওগাঁয় শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ

 ২৫ অক্টোবর ২০১৭ বুধবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন 

অনলাইন ডেস্কঃ

শত বছরের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে নওগাঁ সদর উপজেলার গুটরা বিলে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। স্থানীয় ‘হাঁসাইগাড়ী ছাত্র কল্যান সংস্থা’ এ নৌকা বাইচের আয়োজন করে।

মঙ্গলবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই নৌকা বাইচ দেখতে হাজার হাজার দর্শকের সমাগম ঘটে। বিলের পাড়ে প্রায় চার কিলোমিটার জুড়ে এবং বিলের মধ্যে ১০০/১৫০টি নৌকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে নেচে-গেয়ে দর্শকরা এই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন।  

গ্রামীন সমাজ থেকে প্রায় হারিয়ে যাওয়া এই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা সরকারি সহযোগিতায় আরো বেশি করে আয়োজনের এবং সুস্থধারার সংস্কৃতিগুলো ধরে রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্টরা।  

জানা গেছে, নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত এই গুটার বিল বছরের বেশির ভাগ সময়ে পানিতে পরিপূর্ণ থাকে। স্বাধীনতার পর থেকে প্রতি বছর ভাদ্র মাসে এই বিলে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। গত ২০১০ সালে ‘হাঁসাইগাড়ী ছাত্র কল্যাণ সংস্থা’ গঠনের পর থেকে আরো বেশি জমজমাটভাবে এই ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে নওগাঁ সদর ছাড়াও মান্দা, রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার ৭/৮টি ইউনিয়নের হাজার হাজার দর্শক আসেন। এ সময় দর্শকরা নেচে-গেয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।  

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল আহমেদ বাদল জানান, শহরে থাকার ফলে এসব গ্রামীন প্রতিযোগিতা দেখা সম্ভব হয় না।

নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার খবর পেয়ে তার মতো অনেকেই তা দেখতে এসেছেন। নওগাঁ শহর থেকে আসা সালমা বিনতে হক জানান, নৌকাবাইচ দেখতে তিনি তার পরিবার-পরিজন নিয়ে এসেছিলেন। তাদের এত দূর আসা সার্থক হয়েছে, নৌকাবাইচ দেখে তারা যথেষ্ট আনন্দ পেয়েছেন।  

নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর আসনের সাংসদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল আহমেদ বাদল, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শাহনাজ মালেক, এ্যাডভোকেট আব্দুল বাকী, ছাত্র কল্যাণ সংস্থার সভাপতি জয়নুল আবেদিন জয়নাল, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। প্রতিযোগিতায় দুটি গ্রুপে ৮টি দল অংশগ্রহণ করে। গ্রুপ এ-তে হাঁসাইগাড়ী গ্রাম এবং গ্রুপ বি-তে চড়ইখোলা গ্রামের দল বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান অতিথি বিজয়ীদের একটি করে টেলিভিশন প্রদান করেন।