পাঁচ দিন পার হলেও টাঙ্গাইলে মাদ্রাসা শিক্ষকের হত্যা রহস্যের জট খুলেনি

 ১ জুলাই ২০১৮ রবিবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

হাফিজুর রহমান.টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ 

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক এবং দেউপুর মাস্টার হ্যাচারির পরিচালক আনিসুর রহমান তুলা হত্যার ৫ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত হত্যা রহস্যের জট খুলেনি। হত্যার বিষয়ে পরিবারও কিছু বলতে পারছেন না। তারা পুলিশের তদন্তের উপর নির্ভর করছেন। ঘটনার পর পরই পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতদের আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে নিহতের স্ত্রী মুছাম্মৎ শাহীনা। এ ব্যাপারে নিহত আনিসুর রহমান তুলার ভাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য এবং টাঙ্গাইল-৪ কালিহাতী আসনের আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী নিহতের ফোনের কললিস্ট অনুযায়ী জানান, গত ২৭ জুন বুধবার নিখোঁজ হওয়ার আগে রাত ৮ টা ৩৪ মিনিটে ছেলে সিহাব এর সাথে ফোনে কথা হয়। পরে ভোর ৪ টার দিকে তার প্রতিষ্ঠান মাস্টার হ্যাচারি থেকে শ্রমিকরা মাছ ধরে বিক্রির জন্য কোথায় নিয়ে যাবে জানার জন্য ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ পায়। ফোন বন্ধ পেয়ে টাঙ্গাইল বাসায় তার স্ত্রীর কাছে শ্রমিকরা ফোন দেয় সে বাসায় আছে কি না জানার জন্য। কিন্ত সেখানেও নেই। স্ত্রী ভাবে বাড়িতেই আছে। বাড়িতে ফোন দিয়ে জানতে পারে বাড়িতেও নেই। হয়তো মাদ্রাসায় যেতে পারে ভেবে সেখানেও লোক পাঠায় কিন্তু সেখানেও যায়নি। এলাকায় গুজব রটে তুলা হুজুর ঢাকায় মারা গেছে। গুজব অনুযায়ী বড় ভাইকে দিয়ে ঢাকা মেডিকেলে ২টি মর্গে খোঁজ নিয়েও সন্ধ্যান পাওয়া যায়নি। পরে অনেক খোঁজাখুজি করেও সন্ধ্যান না পাওয়ায় ২৮ জুন বৃহস্পতিবার কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মোশারফ হোসেনকে অবহিত করলে সাধারন ডায়েরী করার পরামর্শ দিলে দুপুরে ভাই গোলাম মোস্তফা বাদি হয়ে নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি ডায়েরী করেন। সাধারন ডায়েরীর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল ওয়াহাব বিকেলে ঘটানাস্থলে যায় এবং তদন্ত কাজ শুরু করে। কিছুক্ষণ পরে সংবাদ আসে পুকুর ঘাটে তুলা হুজুরের জুতা পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিক দৌঁড়ে ওই স্থানে যাই এবং সন্দেহ জাগে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় যুবকরা ফুটবল খেলা শেষে তার বাড়ির পাশে পুকুরে গোসল করে। গোসলের সময় পায়ে যেন কি বেজেছিল। এ কথা শুনে ওই যুবকদের মাধ্যমে পুকুরে খোঁজাখুজি করে উঠিয়ে দেখে লাশ। তীরে উঠালে পরিবারের লোকজন হাত-পা ও শরীরে বস্তাভর্তি ইট বাঁধা লাশটি আনিসুর রহমান তুলা বলে সনাক্ত করেন। এ ঘটনার ৫ দিন পার হলেও হত্যা রহস্যের জট খুলেনি। নিহত আনিসুর রহমান তুলা উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের দেউপুর গ্রামের মৃত. আব্দুস ছাত্তার মাস্টারের ছেলে। তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিহাতী থানার এসআই আব্দুল ওয়াহাব জানান, বিষয়টি নিয়ে আমরা বিভিন্ন জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। এ পর্যন্ত তেমন কোন তথ্য পাইনি তবে তদন্ত কাজ অব্যাহত আছে।