সরিষাবাড়ীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী নিয়োগে প্রার্থী বাছাইয়ে অনিয়ম

 ৩০ জুন ২০১৮ শনিবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

সরিষাবাড়ী (জামালপুর)প্রতিনিধি ঃ

সরিষাবাড়ী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগে প্রার্থী বাছাইয়ে নীতিমালা লঙ্ঘনের ড়ংাংশা অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্ধারিত এলাকা ও বয়সের সীমাবদ্ধতা না মেনে উৎকোচের বিনিময়ে প্রার্থী চুড়ান্ত করেছে নিয়োগ কমিটি। অভিযোগ উঠেছে, ৪০টি বিদ্যালয়ে পাঁচ কোটি টাকার বেশি নিয়োগ বানিজ্য করেছে সংশ্লিষ্টরা। অনিয়মের অভিযোগে ইতোপূর্বে দু’বার নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হলেও আগামি ২৮-২৯ জুন বৃহষ্পতি ও শুক্রবার পুণরায় নামেমাত্র মৌখিক পরীক্ষার জন্য নোটিশ দিয়েছে শিক্ষা অফিস। উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্র জানায়, ৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগের জন্য গত বছরের ১০ এপ্রিল শিক্ষা অফিস নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি প্রকাশ করে। ৪০টি পদে ৩৭৯ জন প্রার্থী আবেদন করেন। বাছাই কমিটি ৩১৯ জন প্রার্থীর আবেদন বৈধ ঘোষণা করে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার অভিযোগ ওঠায় দু’বার নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৭ মে ইউএনও অফিসে নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হলে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও নিয়োগ কমিটির সদস্য উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম ঠান্ডু হামলার শিকার হন। এক পর্যায়ে মামলা মোকদ্দমায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আশরাফ হোসেন সহ ৮/১০ জন আসামী হয়। পরে প্রশাসন ওই পরীক্ষা স্থগিত করে। এদিকে অনিয়মের মধ্যেই নিয়োগ চুড়ান্ত করতে পূনঃরায় ২৮ ও ২৯ জুন মৌখিক পরীক্ষার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে আবেদন চলাকালীন সময়ে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সের সীমাবদ্ধতা ও বয়সের সংশোধনী গ্রহণযোগ্যতা না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে মানা হয়নি। নলদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আজিজুল হক (পিতা হোসেন আলী) নামে এক প্রার্থীর জন্ম তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৫ (৩২ বছর ২ মাস ২১ দিন) থাকলেও আবেদনের সময় তার জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করে ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৮ জন্ম তারিখ বানানো হয়। এ ব্যাপারে এসকিন উদ্দিন নামে স্থানীয় একজন গত বছরের ৯ জুলাই ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও রহস্যজনক কারণে কোনো তদন্ত হয়নি। প্রজ্ঞাপন অমান্য করে বাছাইকৃত উল্লেখিত ওই প্রার্থীদের নগদ ৮-১০ লাখ টাকা উৎকোচে নিয়োগ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে প্রকাশ। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি একেএম আশরাফুল ইসলাম, পৌর যুবলীগের সভাপতি সুরুজ্জামান বাবু ও অনার্স কলেজের জিএস মাহমুদুল হাসান দুখু যৌথ স্বাক্ষরিত প্রেসনোটে অভিযোগ করেন, প্রতি প্রার্থীর কাছ থেকে সর্বনি¤œ ৪-৫ থেকে ৯-১০ লাখ টাকা করে উৎকোচ গ্রহণ করে বিএনপি-জামাতপন্থীদের নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। অপর দিকে স্থানীয় এমপি মামুনুর রশিদ জোয়াদ্দারের অনুপস্থিতকে কেন্দ্র করে রাখা হয়েছে তার ছোট ভাই এমপি’র প্রতিনিধি ও বি এনপি’র নেতা এনামুল হক জোয়াদারকে এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এর অনুপস্থিতিতে রাখা হয়েছে তার প্রতিনিধি ও দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম ঠান্ডুকে। এবারের নিয়োগ কমিটি যেন চলছে পরিবর্তে আর প্রতিনিধি দিয়ে। অনিয়মের বিষয়ে এমপি’র প্রতিনিধি এনামুল হক জোয়াদ্দারকে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন পরীক্ষায় কোন অনিয়ম হয়নি। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে সম্মনয়হীনতার কারনে ২ বার নিয়োগ পরিক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব আব্দুল হালিম জানান, ২৮-২৯ জুন ৩১৯ জন প্রার্থীকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের জন্য পত্র দেওয়া হলেও মুলত ৩০% অনুপস্থিত ছিল। প্রয়োজনীয় কাগজে-কলমে নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যাদি সম্পন্ন করে পরবর্তীতে ফলাফল জানানো হবে। তিনি আরোও জানান, প্রার্থী বাছাইয়ের সময় আমি এ উপজেলায় ছিলাম না। আমি অনিয়মের সাথে জড়িতও নই, তবে অনিয়মের প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, অনিয়ম থাকলে পরীক্ষা চলাকালেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। নিয়োগ বানিজ্যের বিষয়টি বলতে পারবো না।