যমুনা সার কারখানা থেকে পাচারকালে ৯৯ বোতল অ্যামোনিয়া গ্যাস সিলিন্ডার জব্দ করেছে দুদক

 ২৪ আগস্ট  ২০১৭, বৃহস্পতিবার সহ দেখতে ক্লিক করুন

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত দেশের বৃহৎ ও একমাত্র দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সারকারখানার (জেএফসিএল) ৯৯ বোতল তরল অ্যামোনিয়া গ্যাস সিলিন্ডার ভুয়া চালানে পাচারের সময় জব্দ করেছে দুদক। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) টাঙ্গাইল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের অনুসন্ধানী টিম সোম ও মঙ্গলবার কারখানায় অভিযান চালিয়ে এগুলো জব্দ করে। দুদকের সহকারী পরিচালক আমির হোসেন বুধবার এ প্রতিবেদককে জানান, যমুনা সার কারখানা থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া চালানে নিয়মিত তরল অ্যামোনিয়া সিলিন্ডার গ্যাস পাচার হচ্ছে- মর্মে অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে তদন্তে আসেন তাঁরা। তদন্তকারীরা কারখানার ফাইল ও বিভিন্ন বিভাগে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১১৩টি অ্যামোনিয়া গ্যাস সিলিন্ডারের মধ্যে ৯৯টি জব্দ করেন। জব্দকৃত অ্যামোনিয়া গ্যাস সিলিন্ডারগুলো কারখানার অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ভুয়া চালানে পাচারের চেষ্টা চলছিল। এদিকে কারাখানা কর্তৃপক্ষ তদন্তকারী দলকে সহযোগিতা না করায় তদন্ত কাজে বিঘœ ঘটে জানা গেছে। তদন্ত দলের অন্য সদস্যরা হলেন উপ-সহকারী পরিচালক রাজু মোহাঃ সরোয়ার, এএসআই হান্নান মিয়া ও কনস্টেবল মোতাহার হোসেন। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা আমির হোসেন আরো বলেন, ‘জব্দকৃত অ্যামোনিয়া গ্যাস সিলিন্ডার কারখানা কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।’

অভিযোগ রয়েছে, যমুনা সার কারখানাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী চোরাই সিন্ডিকেট গড়ে ওঠেছে। ট্রাক ও ট্যাঙ্কলড়ি মালিক সমিতি, সিবিএ, ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি সমিতি, সার ও ডিলার সমিতি, পরিবহণ সমিতিসহ স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের নিয়ে গড়া এ সিন্ডিকেট নিয়মিত চোরাই পথে তরল অ্যামোনিয়া গ্যাস, সার ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ পাচার করে আসলেও কর্তৃপক্ষ নীরব। এ সব অপকর্মের সাথে কারখানার উপ- ব্যবস্থাপক (বানিজ্য) মাহবুবুল হকসহ কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও জড়িত বলে জানা গেছে।

এদিকে দুদকের অভিযানে জব্দকৃত সিলিন্ডার গ্যাসগুলো যে ৮টি প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যু ছিল সেগুলো হল- তারাকান্দি ট্রাক-ট্যাঙ্কলড়ি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের মেসার্স বুশরা বাণিজ্যিক সংস্থা, তার ভাঁই শফিকুল ইসলামের মেসার্স রিক্ত এন্টাপ্রাইজ, ভগ্নিপতি ফরহাদ আলীর মেসার্স জাহাঙ্গীর এন্টারপ্রাইজ, আহম্মেদ নগরের মেসার্স সিয়াম এন্টারপ্রাইজ, মোস্তাক তালুকদারের মেসার্স সরিষাবাড়ী ট্রেডার্স, আরামনগর বাজারের মাসুদুর রহমানের মেসার্স নিহা এন্টারপ্রাইজ, তারাকান্দি ট্রাক-ট্যাঙ্কলড়ি মালিক সমিতির সভাপতি ও আওনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বেলাল হোসেনের মেসার্স বি হোসেন এবং পিংনা ইউপি চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেনের মেসার্স আলমাস এন্টারপ্রাইজ। কয়েকদিন আগেও কারখানার নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা চোরাই পথে পাচারকালে ৯টি সিলিন্ডার গ্যাসের বোতল জব্দ করেছিল। এ ব্যাপারে কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আ.ন.ম শরিফুল আলম পাচারের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘ভুলবশত একজনের নামের সিলিন্ডার অন্যজনের নামে চলে গেছে।’