পলাশবাড়িতে বাস খাদে পড়ে নিহত ১৮ ॥ আহত ২৮

 ২৩ জুন ২০১৮ শনিবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

শেখ হুমায়ন হক্কানী, গাইবান্ধা থেকে ঃ

গাইবান্ধার রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পলাশবাড়ির মহেশপুর এলাকায় শনিবার ভোরে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে উল্টে গিয়ে খাদে পড়ে। এতে ১৮ জন নিহত ও ২৮ জন যাত্রী আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে পলাশবাড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স, রংপুর মেডিকেল কলেজ ও বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজসহ বিভন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ খবর লেখা পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় জানা না গেলেও কুষ্টিয়া ও অন্যান্যদের বাড়ি রংপুর, সৈয়দপুর, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও ও কুড়িগ্রাম জেলাসহ আশপাশের জেলায় বলে জানা গেছে। পলাশবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল আলম জানান, ‘আলম’ এন্টারপ্রাইজ (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৬৪২২) নামে একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকা-রংপুর-সৈয়দপুর-ঠাকুরগাঁও এর উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। রাস্তায় বাসটি রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পলাশবাড়ির মহেশপুর এলাকায় পৌঁছলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো ৭ জন মারা যায়। এছাড়া রংপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর দেড়টায় আরো ২ জন মারা যায়। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। পলাশবাড়ির ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন জানান, আহতদের মধ্যে কয়েজনের বাড়ি কুষ্টিয়া ও অন্যান্যদের বাড়ি রংপুর, সৈয়দপুর, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও ও কুড়িগ্রাম জেলাসহ আশপাশের জেলায়। গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আমিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে গাইবান্ধা, গোবিন্দগঞ্জ ও পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট উদ্ধার তৎপরতা চালায়। এসময় বাসের নিচ থেকে ৮টি লাশ উদ্ধার করা হয়। এদিকে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিহতদের লাশ সৎকার ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এসময় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।